আসন্ন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্টের মাইলফলক স্পর্শ করবেন মুশফিকুর রহিম। শততম টেস্টের আগে জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) প্রস্তুতিটাও সেরে নিচ্ছেন দারুণভাবে। এরই মধ্যে গতকাল জাতীয় ক্রিরেকট লেগে সেঞ্চুরিও করেছেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। ৩৮ বছর বয়সী ব্যাটসম্যানের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি ১৯তম সেঞ্চুরি। এর ১২টি করেছেন তিনি টেস্ট ক্রিকেটে। সেঞ্চুরির স্বপ্ন নিয়ে আগের দিনের খেলা শেষ করেছিলেন সিলেট বিভাগের অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকু। ঢাকা বিভাগের বিপক্ষে তৃতীয় দিন শেষে ৯৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। গতকাল সকালে খেলতে নেমে কাক্সিক্ষত সেঞ্চুরির দেখা পেলেন। তবে এদিন মুশফিকের উদযাপনটাও আলাদাভাবে নজর কাড়বে যে কারও। বোলার এনামুল হকের বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়েই মুষ্ঠিবদ্ধ হাত দেখিয়ে হুঙ্কার ছুড়লেন। আগুনে দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ তাকিয়েও থাকলেন বোলাদের দিকে। মুশফিকের খ্যাপাটে এমন উদযাপন এর আগেও দেখা গেছে। এবার জাতীয় লিগে তার এমন উদযাপন দেখা গেল। বলটি ছিল অফ স্টাম্পের বাইরে লেংথ ডেলিভারি ছিল। তবে আগেই স্কুপ করার পজিশনে চলে গিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। ব্যাটে-বলে করতেও পারলেন দারুণভাবে। কিপারের ওপর দিয়ে বল ছুটে গেল বাউন্ডারিতে। সেদিকে এক ঝলক দেখেই বোলার এনামুল হকের দিকে তাকালেন মুশফিক। এরপর উঁচিয়ে ধরলেন ব্যাট ও হেলমেট। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মুশফিকের নানারকম উদযাপন নানা সময়েই দেখা গেছে। এবার জাতীয় লিগে দেখা গেল তার এমন উদযাপন। ঢাকা বিভাগের বিপক্ষে সিলেট বিভাগের হয়ে সেঞ্চুরি করেন। শততম টেস্টের আগে তার প্রস্তুতিটা দারুণ হলো এই সেঞ্চুরি দিয়ে। সেঞ্চুরি থেকে সাত রানের দূরত্বে দিনটি শুরু করেন মুশফিক। দলের উইকেট বাকি তখনও তিনটি। বেশ নির্ভারই থাকার কথা তার। কিন্তু এই পথ পেরোতেই কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়তে হয় তাকে অন্য প্রান্তে সহায়তা না পেয়ে। দিনের দ্বিতীয় ওভারেই আউট হয়ে যান ইবাদত হোসেন চৌধুরি। এক ওভার পরেই আউট দশে নামা সৈয়দ খালেদ আহমেদও। মুশফিক তখন অপরাজিত ৯৬ রানে, আরেক প্রান্তে শেষ ব্যাটসম্যান!তবে ওভারের শেষ বলটি ভালোভাবেই সামলে নেন শেষ ব্যাটসম্যান নাবিল সামাদ। পাঁচ উইকেট নেওয়ার সম্ভাবনায় থাকা রিপন মন্ডল রাউন্ড দা উইকেটে এসে বাউন্সার করেন বাঁহাতি নাবিলকে। তবে তিনি তা ছেড়ে দিতে পারেন ভালোভাবেই। পেসার এনামুলের করা পরের ওভারের প্রথম বলটি ডিফেন্স করেন মুশফিক। পরের বলেই স্কুপ শটে ওই বাউন্ডারি ও উদযাপন। আগের দিন মুশফিককে বেশ কয়েকটি বাউন্সার করেছিলেন এনামুল, একটি লেগেছিল হেলমেটেও। তার উদযাপনে মিশে থাকতে পারে সেটির জবাব। ওই ওভারের শেষ বলে একটু লাফিয়ে কাট করে তিনি বাউন্ডারি মারেন আরেকটি। রিপনের করা পরের ওভারটি নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দেন শেষ ব্যাটসম্যান নাবিল। এরপর এনামুলের ওভারে আবার দুটি বাউন্ডারি মারেন মুশফিক। শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যানের বিদায়েই শেষ হয় ইনিংস। ৮ চার ও ২ ছক্কায় ২০৫ বলে ১১৫ রানে বোল্ড হন তিনি তাইবুর রহমানের বাঁহাতি স্পিনে। তার বিদায়ে সিলেটের ইনিংস শেষ হয় ২৯০ রানে। ২০ রানের লিড পায় ঢাকা। বগুড়ার সন্তান মুশফিক এমনিতে বরাবরই খেলে থাকেন রাজশাহীর হয়ে। তবে এবার তিনি খেলছেন সিলেটের হয়ে।
ক্রিকেট
শততম টেস্টের আগে মুশফিকের সেঞ্চুরি
আসন্ন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্টের মাইলফলক স্পর্শ করবেন মুশফিকুর রহিম। শততম টেস্টের আগে জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) প্রস্তুতিটাও সেরে নিচ্ছেন দারুণভাবে।
Printed Edition