২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক একপ্রকার হুঙ্কার ছুড়েছিলেন, ফাইনালে ভারতীয় দর্শকদের স্তব্ধ করে দিতে চান। পরে মাঠে করে দেখিয়েছিলেনও। আহমেদাবাদের লাখো স্বাগতিক দর্শকের নীল সমুদ্র যেন মহাশ্মশানে রূপ নিয়েছিল। একই ভেন্যুতে এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল গড়াবে আজ। স্বাগতিক ভারত মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ডের। ফাইনালের মহারণের আগে আরও নির্দয় বার্তা দিলেন কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। হাই-ভোল্টেজ ম্যাচের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিলেন যেন। ফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলনে স্যান্টনার বলেন, ভারতের সমর্থকদের হৃদয় ভেঙে হলেও বিশ্বকাপ জেতার লক্ষ্য নিউজিল্যান্ডের। সংবাদ সম্মেলনে স্যান্টনার বলেন, তার দলকে হয়তো ফেভারিট ধরা হচ্ছে না। তবে ছোট ছোট বিষয় ঠিকভাবে করতে পারলে এবং দলগতভাবে ভালো খেলতে পারলে ট্রফি জেতা সম্ভব। “এটা অবশ্যই বড় চ্যালেঞ্জ। সবাই জানে আমরা হয়তো ফেভারিট নই। কিন্তু সেটা নিয়ে আমাদের সমস্যা নেই। ছোট ছোট বিষয় ঠিকভাবে করতে পারলে এবং দল হিসেবে শক্তিশালী পারফরম্যান্স করতে পারলে ট্রফি জেতার সুযোগ তৈরি হবে। আর যদি ট্রফি জিততে কয়েকটি হৃদয় ভাঙতেও হয়Ñতাতেও সমস্যা নেই, ‘বলেন স্যান্টনার। সাংবাদিকে ঠাসা সম্মেলনে স্যান্টনার আরও জানান, ‘এখনও উইকেট দেখিনি। তবে রান উঠবে অনেক। বিশ্বকাপের আগে পাঁচটা ম্যাচ খেলেছি সেখানেও ভালো পিচ ছিল। টুর্নামেন্টে আমরা ধাপে ধাপে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছি। প্রথমে গ্রুপ পর্ব, সেখান থেকে সুপার এইট, তারপর সেমিফাইনাল। গোটা টিম খুবই উত্তেজিত। বিশেষ করে গত ম্যাচটা যেভাবে জিতেছি তাতে আত্মবিশ্বাস বাড়বে। ভারতও একইভাবে আত্মবিশ্বাস পেয়েছে সেমিফাইনাল থেকে।’ উল্লেখ্য, ২০২৩ ফাইনালে স্পিন সহায়ক উইকেট বানিয়ে ভারতের ভরাডুবি হয়েছিল। এবার একেবারে পাটা পিচ থাকছে আহমেদাবাদে। স্যান্টনার মনে করেন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ছোট ছোট মুহূর্তই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে। তিনি বলেন,‘টি-টোয়েন্টিতে অনেক অনিশ্চয়তা থাকে। পুরো বিশ্বকাপেই দেখেছেনÑঅনেক দল প্রায় সমান শক্তির। শেষ পর্যন্ত কয়েকটি ছোট মুহূর্তই ম্যাচের ফল বদলে দেয়।’ স্যান্টনারের মতে, ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ জেতার চাপ থাকবে ভারতের ওপর। কিউই অধিনায়ক বলছিলেন,‘ভারত অবশ্যই অনেক আত্মবিশ্বাস নিয়ে ফাইনালে নামবে, বিশেষ করে ব্যাটিংয়ে।
তবে সেমিফাইনালে তারা ২৫৪ রান ডিফেন্ড করতে গিয়ে প্রায় ২৪০ রান দিয়ে ফেলেছেÑসেখানে তারা হয়তো আরও ভালো করতে পারত।’ তার মতে, ফাইনালে দুই দলই নিজেদের শক্তির ওপর বিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে। দিন শেষে যে দল বেশি সময় ধরে নিজেদের সেরা খেলাটা ধরে রাখতে পারবে, তারাই জিতবে।