বিপিএলের এবারের সিলেট পর্বে বিসিবির দুর্নীতি দমন কর্মকর্তারা কয়েকজন ক্রিকেটারকে হেনস্তা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সেই ক্রিকেটারদের একজন ছিলেন সাইফ হাসান। বিষয়টি নিয়ে এতদিন নীরব থাকলেও টুর্নামেন্টের শেষ দিকে মুখ খুললেন সাইফ। জানালেন, তাদের আচরণ ছিল ‘অসম্মানজনক’।

এবার বিপিএলে চরম বাজে ছন্দে ছিলেন সাইফ। প্রথম ৮ ম্যাচে তিনি করতে পারেন মোটে ৬০ রান। রোববার শেষ ম্যাচে গিয়ে নিজেকে ফিরে পেয়ে খেলেন ৭৩ রানের ইনিংস। জয় দিয়ে শেষ করলেও ছয় দলের মধ্যে পাঁচে থেকে আসর শেষ করেছে ঢাকা ক্যাপিটালস।

বিপিএলের গত আসরে ফিক্সিং সন্দেহে অনেক বিতর্ক তৈরি হলে এবার এই ব্যাপারে আলাদা ব্যবস্থা নেয় বিসিবি। আইসিসির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের সাবেক প্রধান অ্যালেক্স মার্শালকে নিয়োগ দেওয়া হয়, ছিলেন বিসিবির নিজস্ব কর্মকর্তারাও। সিলেট পর্বে আফগানিস্তানের ক্রিকেটার রাহমানুল্লাহ গুরবাজের কক্ষে আচমকা ঢুকে গিয়েছিলেন তারা। আফগান তারকা এই নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসর ছেড়ে চলে যেতেও চেয়েছিলেন।

টুর্নামেন্টে নিজেদের সব ম্যাচ শেষ করে সাইফ সংবাদ সম্মেলনে জানালেন, প্রথম দিকে রান না পাওয়ায় জেরার মুখে পড়েছিলেন তিনি। সাইফ বলেন, ‘প্রথম দুই-তিন ম্যাচে যখন ক্লিক করিনি, ওদের (দুর্নীতি দমন কর্মকর্তারা) কাছে লেগেছে যে, আমার পারফরম্যান্সটা মিলছে না গত বছরের সঙ্গে, মানে গত বছর যেভাবে খেলেছি। ওদের কাছে জিনিসটা স্বাভাবিক লাগেনি। ওরা এসে হুট করে চার্জ করছে। এটা আমার ভালো লাগেনি। ডিস্টার্বড হয়েছি।’

নিজের আদর্শ ও পারিবারিক সততার প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেছেন, ‘কারণ আমি এটার জন্য ক্রিকেট খেলি না। আমি আমার প্যাশন নিয়ে ক্রিকেট খেলি। আমার পরিবারের ব্যাকগ্রাউন্ডও ঐ রকম না। এই জিনিসটা নিয়ে আমি অনেক বিরক্ত হয়েছি অবশ্যই। তবে ম্যানেজমেন্টকে ধন্যবাদ, তারা সবসময় আমাকে সমর্থন দিয়ে গেছে।’

এমনকি এক ম্যাচ চলাকালীন ড্রেসিংরুমে এসেও তারা জেরা করেছেন বলে জানান সাইফ, ‘ব্যাটিংয়ে নামার আগে জিজ্ঞেস করেনি। তবে তখন আমাদের ড্রেসিংরুমে এসেছিল। ড্রেসিংরুমে এসে জিজ্ঞেস করছে ব্যাটিংয়ে নামছ নাকি বা এরকম। ব্যাটিংয়ে নামার আগে ড্রেসিংরুমে ছিলাম। তখন এসেছিল, আর তার আগের দিন রুমে এসেছিল।’

ঘটনাটিকে অপমানজনক উল্লেখ করে সাইফ বলেছেন, ‘অবশ্যই বিস্ময়কর এই ব্যাপারটা। আমি বিশ্রাম নেব, তখন হুট করে এসেছে। (রাহমানুল্লাহ) গুরবাজ তো ঘুমাচ্ছিল, তখন এসেছে। আগে থেকে তো জানাবে! হুট করে আসা মানে- এটা তো অনেক অসম্মানজনক।’

পরবর্তীতে এসব আচরণের জন্য দুর্নীতি দমন বিভাগের কর্মকর্তারা দুঃখপ্রকাশ করেছেন বলে জানান সাইফ, ‘তারা দুঃখিত বলেছে। রুমে এলো, আসার পর কথা বলল, যখন কিছু পায়নি, তখন ‘সরি’ বলে চলে গেল। তারপরের কয়েকদিন বারবার দুঃখিত বলেছে।’