বিশ্বকাপে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল আফগানিস্তান। পাঁচ উইকেটের এই জয় শুধু দুই পয়েন্টই এনে দেয়নি, টানা দুই হারের পর দলকে ফিরিয়ে দিয়েছে আত্মবিশ্বাসও। অধিনায়ক রশিদ খানের মাইলফলকের ম্যাচ জিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরের সুপার এইটে খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখল আফগানিস্তান ক্রিকেট দল। গতকাল ‘ডি’ গ্রুপে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে আফগানিস্তান ৫ উইকেটে হারিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে। আফগানিস্তানের জয়ে সুপার এইট নিশ্চিত হলো গতবারের রানার্স-আপ দক্ষিণ আফ্রিকার। এই জয়ে ৩ ম্যাচে ১ জয় ও ২ হারে ২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে উঠল আফগানিস্তান। তাদের সাথে সুপার এইটে খেলার দৌড়ে আছে নিউজিল্যান্ড ও আরব আমিরাত। ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে আছে কিউইরা। ৩ ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছে আরব আমিরাত। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ড হারলে এবং আফগানিস্তান ও আরব আমিরাত জিতলে, রান রেটের হিসাব-নিকাশে বসবে তিন দল। তবে কানাডার বিপক্ষে নিউজিল্যান্ড জয় পেলে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিশ্চিত হবে আফগানিস্তান ও আরব আমিরাতের। গতকাল দিল্লিতে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ১৩ রানে দুই ওপেনারকে হারায় আরব আমিরাত। তৃতীয় উইকেটে ৫৭ বলে ৮৪ রানের জুটিতে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন আলিশান শারাফু ও শোয়েব খান। ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩১ বলে ৪০ রানে আউট হন শারাফু। টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়ে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেন শোয়েব। ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৪৮ বলে ৬৮ রান করেন তিনি। পরের দিকে সৈয়দ হায়দার এবং হায়দার আলি ১৩ রান করে করেন। ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬০ রানের সংগ্রহ পায় আরব আমিরাত। আফগানিস্তানের পেসার আজমতুল্লাহ ওমারজাই ১৫ রানে ৪ উইকেট নেন। ২৪ রানে ১ উইকেট নিয়ে বিশ্বের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে ৫১৮তম ম্যাচে ৭শ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন রশিদ। ১৬১ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতে উইকেট হারালেও ওপেনার ইব্রাহিম জাদরানের হাফ-সেঞ্চুরিতে রানের চাকা সচল থাকে আফগানিস্তানের। ১৩ ওভারে ৩ উইকেটে ৯৭ রান তুলে আফগানরা। টি-টোয়েন্টিতে ১৫তম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে ১৪তম ওভারের প্রথম বলে আউট হন ইব্রাহিম। ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৪১ বলে ৫৩ রান করেন তিনি। দলীয় ৯৭ রানে ইব্রাহিম ফেরার পর দারউইশ রাসুলির ৩৩ ও ওমারজাইর ২১ বলে ৪০ রানের ঝড়ো ইনিংসে ৪ বল বাকী থাকতে জয় পায় আফগানিস্তান। অলরাউন্ড নৈপুন্যে ম্যাচ সেরা হন ওমারজাই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
সংযুক্ত আরব আমিরাত : ২০ ওভারে ১৬০/৯ (আরিয়ানশ ০, ওয়াসিম ১০, শারাফু ৪০, সোহেইব ৬৮, সৈয়দ হায়দার ১৩, হার্শিত ০, আরফান ০, হায়দার আলি ১৩, সিমরানজিত ৩, জুনায়েদ ৩*; ওমারজাই ৪-০-১৫-৪, মুজিব ৪-০-৩১-২, জিয়াউর ৪-০-৪৩-০, রাশিদ ৪-০-২৪-১, নুর ৩-০-৩৫-০, গুলবাদিন ১-০-৮-০)।
আফগানিস্তান : ১৯.২ ওভারে ১৬২/৫ (গুরবাজ ০, ইব্রাহিম ৫৩, গুলবাদিন ১৩, আটাল ১৬, রাসুলি ৩৩, ওমারজাই ৪০*, নাবি ৩*; জুনায়েদ ৩.২-০-২৩-২, হায়দার আলি ৪-০-৩৩-০, জাওয়াদউল্লাহ ৪-০-৩৯-১, আরফান ৪-০-৩০-২, সিমরানজিত ৪-০-৩৭-০)।
ফল: আফগানিস্তান ৫ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: আজমাতউল্লাহ ওমারজাই।