টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম জয় তুলে নিল নেদারল্যান্ডস। গতকাল দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে নামিবিয়ার বিপক্ষে সাত উইকেটের দাপুটে জয় পায় ডাচরা। ব্যাট হাতে অপরাজিত হাফ-সেঞ্চুরি করে ম্যাচের নায়ক ছিলেন বাস ডি লিডে। বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে লড়াই করে হারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে এসেই জয়ের দেখা পেয়ে পেয়েছে দলটি। নামিবিয়াকে ৭ উইকেট আর ২ ওভার হাতে রেখে হারিয়েছে ডাচরা। দিল্লির অরুন জেটলি স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৫৬ রান তুলেছিল নামিবিয়া। জবাবে ১৮ ওভারে ৩ উইকেটে ১৫৯ রান করে জয় তুলে নেয় নেদারল্যান্ডস। এই জয়ে ২ পয়েন্ট নিয়ে 'এ' গ্রুপে ভারতের পর দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে নেদারল্যান্ডস। পাকিস্তানেরও সমান ২ পয়েন্ট থাকলেও রানরেটে পিছিয়ে থাকায় তারা নেমে গেছে তিনে। ১৫৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নেদারল্যান্ডস ১৮ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১৫৯ রান তুলে নেয়। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ডি লিডে ৪৮ বলে অপরাজিত ৭২ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও চারটি ছক্কা। ডাচদের হয়ে ওপেনার মাইকেল লেভিট শুরুতেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন। তিনি ১৫ বলে ২৮ রান করেন, যেখানে ছিল একটি চার ও তিনটি ছক্কা। কলিন অ্যাকারম্যান ২৮ বলে মূল্যবান ৩২ রান যোগ করেন। অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস ৯ বলে অপরাজিত ১৮ রান করেন। একটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনিই। রান তাড়ায় শুরুতে ম্যাক্স ও'দাউদকে (৭) হারালেও আরেক ওপেনার মাইকেল লেভিট করেন ১৫ বলে ২৮। ২৮ বলে ৩২ রান আসে কলিন অ্যাকারম্যানের ব্যাট থেকে। এরপর দলকে জয়ের বন্দর পর্যন্ত নিয়ে গেছেন বেস ডি লিডি আর অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস। ডি লিডি ৪৮ বলে ৫ চার আর ৪ ছক্কায় খেলেন ৭২ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস। ৯ বলে ১৮ রানে অপরাজিত থাকেন এডওয়ার্ডস।

এর আগে, টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে নামিবিয়া। স্পিনার আরিয়ান দত্ত আউট করেন লরেন স্টিনক্যাম্পকে, তিনি ছয় বলে মাত্র ছয় রান করেন। এরপর জান ফ্রাইলিন্ক ও জান নিকোল লফটি-ইটন দ্বিতীয় উইকেটে ৫০ রানের জুটি গড়ে ইনিংস গুছিয়ে তোলেন। শেষ পর্যন্ত লফটি-ইটনই দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪২ রান করেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩০ রান আসে ফ্রাইলিঙ্কের ব্যাট থেকে। তাতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রান করে নামিবিয়া। ব্যাটিং করতে নেমে ওপেনার লুরেন স্টিনক্যাম্প ৬ রান করে আউট হন আরিয়ান দত্তের বলে স্টাম্পিং হয়ে। দলীয় ১০ রানে প্রথম উইকেট হারায় নামিবিয়া। এরপর ৫০ রানের জুটি গড়েন জেন ফ্রাইলিঙ্ক ও জেন-নিকোল। এই জুটি ভাঙেন লোগান ফন বিক। ৩০ রান করে ফ্রাইলিঙ্ক উইকেটের পেছনে ডাচ অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডসের গ্লাভসে ধরা পড়লে ৬০ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় নামিবিয়া। ভালো শুরু করে ৮ বলে ১৮ রান করেন নামিবিয়ার অধিনায়ক গেরহার্ড এরাসমাস। তবে সেটি ধরে রাখতে পারেননি। আউট হয়েছেন দলীয় ৯৫ রানে বেস ডি লিডির বলে। তার বিদায়ের পর দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৪২ রান করা জেন নিকোলও সাজঘরের পথ ধরেন লোগান ফন বিকের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হয়ে। ১০৭ রানে চতুর্থ উইকেটের পতন হয় নামিবিয়ার। ১ চার ও দুই ছক্কায় জেজে স্মিট ১৫ রান করে চড়াও হওয়ার বার্তা দিয়েই ফিরে যান সাজঘরে বেস ডি লিডির দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হয়ে। পঞ্চম উইকেটের পতন হয় ১২৭ রানে। জেন গ্রিন ৯ রান করে রিভার্স সুইপ করে বাউন্ডারিতে ক্যাচ আউট হলে ১৩৫ রানে ৬ উইকেট হারায় নামিবিয়া। ৯ রান করে রানআউট হন ট্রাম্পেলম্যান। ইনিংসের শেষ বলে দুই রান নিতে গিয়ে রানআউট হন ৪ রান করা উইলিয়ান মাইবার্গ। শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ১৫৬ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় নামিবিয়া। ৬ রান করে অপরাজিত ছিলেন লেচার। ডাচদের হয়ে দুটি করে উইকেট পেয়েছেন লোগান ফন বিক ও বেন ডি লিডি। একটি করে উইকেট আরিয়ান দত্ত ও ফ্রেড ক্লাসেনের ঝুলিতে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

নামিবিয়া: ২০ ওভারে ১৫৬/৮ (স্টিনক্যাম্প ৬, ফ্রাইলিঙ্ক ৩০, লফটি-ইটন ৪২, এরাসমাস ১৮, স্মিট ২২, গ্রিন ৯, ট্রাম্পেলমান ৯, লিচার ৬*, মাইবার্গ ৪; আরিয়ান ৩-০-১৩-১, ফন বিক ৩-০-১৩-২, ক্লাসেন ৩-০-২৫-১, আকারম্যান ৩-০-৩৩-০, লায়ন-ক্যাশে ১-০-৬-০, ফন ডার গুগটেন ২-০-২১-০, ডে লেডে ৩-০-২০-২, ফন ডার মেরওয়া ২-০-২২-০)

নেদারল্যান্ডস: ১৮ ওভারে ১৫৯/৩ (লেভিত ২৮, ও’ডাউড ৭, ডে লেডে ৭২*, আকারম্যান ৩২, এডওয়ার্ডস ১৮*; শুলজ ৪-০-২৭-১, ট্রাম্পেলমান ৪-০-৩০-১, স্মিট ৩-০-২৫-০, হেইঙ্গো ২-০-২২-০, মাইবার্গ ২-০-১২-০, এরাসমাস ১-০-১১-০, লফটি-ইটন ২-০-৩১-১)

ফল: নেদারল্যান্ডস ৭ উইকেটে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: বাস ডে লেডে।