অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম অঘটন ঘটিয়েছে জিম্বাবুয়ে। গতকাল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৩ রানে জয় পেয়েছে জিম্বাবুয়ে। ওপেনার ব্রায়ান বেনেট এবং দুই পেসার ব্লেসিং মুজারাবানি ও ব্র্যাড ইভান্সের দুর্দান্ত বোলিংয়ে আবারও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল জিম্বাবুয়ে। এর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের পথেই ছিল নেপাল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জিততে পারেনি তারা। আর তিনবার সুপার ওভার খেলেও দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারাতে পারেনি আফগানিস্তান। তবে এই দুই দল না পারলেও ঠিকই বড় দলের বিপক্ষে জয় তুলে নিলো জিম্বাবুয়ে। গতকাল জিম্বাবুয়ে ২৩ রানে হারায় সাবেক চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে। এর আগে ২০০৭ সালের বিশ্বকাপেও অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। ফলে বিশ্বকাপের মঞ্চে অসিদের বিপক্ষে দু’বারের মোকাবেলায় শতভাগ সাফল্য আছে জিম্বাবুয়ের। কলম্বোতে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দারুণ সূচনা করে জিম্বাবুয়ে। উদ্বোধনী জুটিতে ৪৫ বলে ৬১ রান যোগ করেন বেনেট ও তাদিওয়ানশে মারুমানি। ৭টি চারে ২১ বলে ৩৫ রান তুলে সাজঘরে ফিরেন মারুমানি। এরপর জিম্বাবুয়ের রানের চাকা সচল রাখেন বেনেট ও তিন নম্বরে নামা রায়ান বার্ল। ৫১ বলে ৭০ রানের জুটিতে জিম্বাবুয়ের লড়াকু সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন তারা। ৪২ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দশম হাফ-সেঞ্চুরি তুলে থামেন বেনেট। তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক সিকান্দার রাজার সাথে ২৪ বলে ৩৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে জিম্বাবুয়েকে ২০ ওভারে ২ উইকেটে ১৬৯ রানের সংগ্রহ এনে দেন বেনেট। এই জুটিতে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৩ বলে অপরাজিত ২৫ রান করেন রাজা। ইনিংসের শেষ পর্যন্ত খেলে ৭টি চারে ৫৬ বলে অনবদ্য ৬৪ রান করেছেন বেনেট। মার্কাস স্টয়িনিস ও ক্যামেরুন গ্রিন ১টি করে উইকেট নেন। ১৭০ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে মুজারাবানি ও ইভান্সের বোলিং তোপে ২৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে শুরুতেই খাদের কিনারায় পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। জশ ইংলিশকে ৮ ও টিম ডেভিডকে শূন্য হাতে বিদায় করেন মুজারাবানি। অসি অধিনায়ক ট্রাভিস হেডকে ১৭ ও ক্যামেরুন গ্রিনকে খালি হাতে থামান ইভান্স। এরপর অস্ট্রেলিয়াকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও ম্যাট রেনশ। ৫৯ বলে ৭৭ রানের জুটি গড়ে সফলও হন তারা। ১টি করে চার-ছক্কায় ম্যাক্সওয়েল ৩২ বলে ৩১ রান করে জিম্বাবুয়ের স্পিনার রায়ান বার্লের বলে বোল্ড হন। দলীয় ১০৬ রানে ম্যাক্সওয়েল ফেরার পর অস্ট্রেলিয়ার ভরসা ছিলেন রেনশ, স্টয়িনিস ও বেন ডোয়ার্শিষ। কিন্তু ৬ রান করে স্টয়িনিস ও ডোয়ার্শিষ বিদায় নিলে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের পথ কঠিন হয়ে যায়। ৩৪ বলে টি-টোয়েন্টিতে প্রথম হাফ-সেঞ্চুরিতে তুলে অসিদের আশা বাঁচিয়ে রাখেন রেনশ। তবে ১৯তম ওভারের চতুর্থ বলে দলীয় ১৩৯ রানে রেনশ আউট হলে হারের মুখে ছিটকে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ১৯.৩ ওভারে ১৪৬ রানে অলআউট হয় অস্ট্রেলিয়া। ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৪ বলে ৬৫ রান করেন রেনশ। মুজারাবানি ১৭ রানে ৪টি ও ইভান্স ২৩ রানে ৩টি উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হন মুজারাবানি। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে চার ম্যাচ খেলে দ্বিতীয় জয়ের দেখা পেল জিম্বাবুয়ে। এই গ্রুপে ২ ম্যাচ খেলে ২ জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠল জিম্বাবুয়ে। ২ ম্যাচে সমান ১টি করে জয়-হারে ২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে অস্ট্রেলিয়া। ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে রান রেটে এগিয়ে শীর্ষে আছে শ্রীলংকা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
জিম্বাবুয়ে : ২০ ওভারে ১৬৯/২ (বেনেট ৬৪, মারুমানি ৩৫, বার্ল ৩৫, রাজা ২৫*; ডোয়ার্শিস ৪-০-৪০-০, স্টয়নিস ২.৫-০-১৭-১, ম্যাক্সওয়েল ১-০-১৪-০, কুনেমান ৩-০-২৪-০, এলিস ৪-০-৩৪-০, জ্যাম্পা ৪-০-৩১-০, গ্রিন ১.১-০-৬-১)।
অস্ট্রেলিয়া : ১৯.৩ ওভারে ১৪৬ (ইংলিস ৮, হেড ১৭, গ্রিন ০, ডেভিড ০, ম্যাক্সওয়েল ৩১, রেনশ ৬৫, স্টয়নিস ৬, ডোয়ার্শিস ৬, এলিস ৭*, জ্যাম্পা ২, কুনেমান ০; রাজা ২-০-১৭-০, মুজারাবানি ৪-০-১৭-৪, ইভান্স ৩.৩-০-২৩-৩, মায়ার্স ১-০-৯-০, ক্রিমার ,৪-০-৩৩-০ মাসাকাদজা ৪-০-৩৬-১, বার্ল ১-০-৯-১)।
ফল: জিম্বাবুয়ে ২৩ রানে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: ব্লেসিং মুজারাবানি।