জাতীয় ক্রিকেট লিগের লংগার ভার্সনেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রংপুর বিভাগ। লিগের শেষ ম্যাচে খুলনাকে ৭ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা জয় নিশ্চিত করে আকবর আলীর দল। ৭ ম্যাচের ৩টি জয় এবং ৩টিতে ড্র করে রংপুর। পরাজিত হয়েছে একটিতে। ফলে শিরোপা জিতে নিলো রংপুর বিভাগ। সমান সংখ্যক ম্যাচ খেলে দু’টিতে জয় এবং ৫টিতে ড্র করে রানার্সআপ সিলেট বিভাগ। ফলে চলতি মৌসুমে ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত ‘ডাবল’ পূর্ণ করল দলটি। এর আগে গত অক্টোবরে ঘরোয়া ক্রিকেটে টি-টোয়েন্টি শিরোপা জিতে নিয়েছিল রংপুর। আকবর আলির নেতৃত্বে গত অক্টোবরে জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল রংপুর বিভাগ। প্রায় দুই মাসের ব্যবধানে এবার এনসিএল চারদিনের ক্রিকেটেও তারাই শিরোপা জিতেছে।

শেষ ম্যাচে গতকাল রাজশাহী স্টেডিয়ামে বরিশালের সাথে ড্র করায় শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায় সিলেটের। রংপুরের শিরোপা অনেকটাই নিশ্চিত হয়েছিল সোমবার খুলনাকে আকষ্মিকভাবে হারানোর পরেই। কিন্তু বরিশাল এবং সিলেটের মধ্যকার ম্যাচটি অমীমাংসিত থাকার ফলে চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া সম্ভব হয়নি। বিসিবি সিলেটকে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন ভবে রাজশাহীতে ট্রফি পাঠিয়েছিল। কিন্তু রংপুরের কাছে খুলনা হারার পরই ঘুম ভাঙ্গে বিসিবির। তারা দ্রুত রাজশাহী থেকে বগুড়ায় পৌঁছে দেয় চ্যাম্পিয়ন ট্রফি।

এবারের এনসিএল লংগান ভার্সনে সর্বোচ্চ রান করেছেন খুলনা বিভাগের সৌম্য সরকার, শেষ ম্যাচের প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ হয়েছেন রংপুরের ইকবাল হোসেন এবং লিগের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন রংপুরের পেস বোলার মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ। গতকাল বিকেলে শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি, প্রাইজমানি এবং ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত পুরস্কার তুলে দেন বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মাসুদ হোসেন। এসময় রংপুর জেলা ক্রীড়া অফিসার মাসুদ রানা, রংপুর বিভাগীয় ক্রিকেট দলের ম্যানেজার তারেক আহম্মেদ রুবেল, বিসিবি’র রংপুর জেলার কাউন্সিলর আশরাফুল আলম সুজন, বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য খালেদ মাহমুদ রুবেল ও মমিনুর রশীদ শাইন উপস্থিত ছিলেন।

দিনের অন্য খেলায় সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রাজশাহী বিভাগ ১৪৬ রানে হারায় ময়মনসিংহ বিভাগকে। যদিও এই ম্যাচের যাবতীয় আলো কেড়ে নেন ময়মনসিংহের পেসার আবু হায়দার রনি। ২২৭/৯ থেকে দিন শুরু করে রনি মাত্র ১২৭ বলে ১০ চার ও ১৩ ছক্কায় খেলেন ক্যারিয়ারের সেরা ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন ১৪১ রানে। এটি প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে তার তার দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তবে ম্যাচসেরা স্পিনার সানজামুল ইসলাম (৫/৮৮) শেষ উইকেট হিসেবে আসাদুল্লাহ হিল গালিবকে (৯ রান) আউট করে রাজশাহীর জয় নিশ্চিত করেন। এই হারের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহ তাদের অভিষেক মৌসুমে একমাত্র পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেল। ১০টি চার ও ১৩টি ছক্কায় ১২৭ বলে ১৪১ রানে অপরাজিত থাকেন আবু হায়দার।

রাজশাহীর সানজামুল ৫টি ও নিহাদুজ্জামান ৩ উইকেট নেন। প্রথম ইনিংসেও ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন সানজামুল। প্রথম ইনিংসে রাজশাহী ২১৯ ও ময়মনসিংহ ১২৭ রান করে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৪৫ রান করে রাজশাহী।