মুস্তাফিজ ইস্যুতে বিসিবির কঠোর অবস্থানের পর এবার ক্রিকেটারদের পক্ষ থেকেও আইপিএল নিয়ে অনীহার কথা শোনা যাচ্ছে। জাতীয় দলের তরুণ পেস বোলিং অলরাউন্ডার তানজিম হাসান সাকিব জানিয়েছেন, মোস্তাফিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার পর আগামী বছর আইপিএলে নাম দেয়ার আগে তিনি নতুন করে চিন্তাভাবনা করবেন। আইপিএল থেকে অভিজ্ঞ পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে অনাকাক্সিক্ষতভাবে বাদ দেয়ার ঘটনায় তোলপাড় চলছে দুই দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে। ক্রিকেটে রাজনীতির অনুপ্রবেশ নিয়ে অসন্তুষ্টি গতকাল সিলেটে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের অনুশীলন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তানজিম সাকিব মোস্তাফিজের বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘মোস্তাফিজ ভাইকে কেন আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো, তা আমরা কেউ জানি না। হয়তো কোনো রাজনৈতিক ইস্যু হতে পারে। তবে ক্রিকেটে রাজনীতি না আসাই ভালো। ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের আইপিএল খেলার ইচ্ছা থাকে ঠিকই, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে পরবর্তী বছরগুলোতে নাম দেওয়ার আগে এজেন্টের সঙ্গে এবং দেশের সবার সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেব। মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে ইতিমধ্যে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ দল ভারতে নিরাপদ বোধ করছে না। ফলে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ। আইসিসি সবুজ সংকেত দিলেই বদলে যাবে টাইগারদের বিশ্বকাপ ভেন্যু। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রস্তাব বাংলাদেশ দল ভারত সফরে না গেলে শত শত কোটি টাকার লোকসানের মুখে পড়বে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। এই আর্থিক ক্ষতি এড়াতে মরিয়া ভারত এখন বাংলাদেশ দলকে ‘রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা’ (যা সাধারণত সরকারপ্রধানরা পেয়ে থাকেন) দেওয়ার নজিরবিহীন প্রস্তাব দিয়েছে। এই ভেন্যু পরিবর্তন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে আইসিসির সঙ্গে বিসিবির একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা হওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৬ সালের আইপিএল নিলামে বাংলাদেশ থেকে ৬ জন ক্রিকেটার নাম দিলেও শেষ পর্যন্ত দল পেয়েছিলেন কেবল মোস্তাফিজ। কলকাতা নাইট রাইডার্স ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে তাকে কিনে নিলেও রাজনৈতিক ও উগ্রপন্থী চাপের মুখে তাকে রিলিজ দিতে বাধ্য হয় কেকেআর। এই ঘটনায় খেলোয়াড়দের মনে যে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে, তানজিম সাকিবের বক্তব্যে তা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। বিশ্ব ক্রিকেটের নজর এখন আইসিসির আজকের সভার দিকে। টাইগাররা কি শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কাতেই খেলবে, নাকি ভারতের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার আশ্বাসে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবে তা সময়ই বলে দেবে।