আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো কোনো কিছু স্পষ্ট নয়। বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে কয়েক দফা আলোচনার পরও আসেনি কোনো সমাধান। গত ১৭ জানুয়ারি ঢাকায় বৈঠক করে এই দুই সংস্থা। ঢাকার ওই বৈঠকের সূত্র ধরেই রোববার এক প্রতিবেদনে জনপ্রিয় ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো জানায়, বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে ২১ তারিখের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে আইসিসি। তবে এই বিষয়ে উল্টো সুর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)।
সোমবার বিসিবি পরিচালক আমজাদ হোসেন এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, ‘গত শনিবার ১৭ জানুয়ারি আইসিসির একজন প্রতিনিধি আসেন এবং আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধি দলের একটি বৈঠক হয়।’তিনি আরও বলেছেন, ‘বিকল্প ভেন্যুর জন্য আমরা অনুরোধ করি, তাদের প্রতিনিধির সঙ্গে আমাদের বিস্তরিত আলোচনা হয়। উনারা তখন আমাদেরকে বলেন, এই ব্যাপারগুলো তারা আইসিসিকে গিয়ে অবহিত করবে এবং পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত আমাদেরকে জানিয়ে দেবে। এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট কোন তারিখ বা করে নাগাদ জানাবেন এমন কিছু জানানি। শুধুমাত্র বলেছে আমাদেরকে পরবর্তী তারিখটা করে হবে জানিয়ে দেবে।’
শনিবারের বৈঠক ছিল গত এক সপ্তাহের মধ্যে আইসিসি ও বিসিবির দ্বিতীয় বৈঠক। আলোচনায় বিসিবি জানিয়েছে, তারা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে আগ্রহী, তবে ভারতের বাইরে। সহ-আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কাকেই বিকল্প ভেন্যু হিসেবে প্রস্তাব দিয়েছে বিসিবি। ভারতের মাটিতে খেলতে গিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কার কথা তুলে ধরলেও আইসিসি তাদের নির্ধারিত সূচি বদলাতে রাজি হয়নি। বর্তমান সূচি অনুযায়ী বাংলাদেশ রয়েছে গ্রুপ ‘সি’-তে।
এই অচলাবস্থা প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলেছে। ৪ জানুয়ারি প্রথমবার আইসিসিকে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানায় বিসিবি। সূচি অনুযায়ী, উদ্বোধনী দিনেই কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। পরের দুটি ম্যাচও একই ভেন্যুতে, এরপর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা মুম্বাইয়ে।
শনিবারের আলোচনায় আইসিসি বিসিবির আরেকটি প্রস্তাবও নাকচ করে দেয়। বিসিবি চেয়েছিল গ্রুপ ‘বি’-তে থাকা আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ বদল করতে, যাতে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ খেলতে পারে। তবে আইসিসি এতে সম্মত হয়নি। বরং তারা বিসিবিকে আশ্বস্ত করেছে যে, বাংলাদেশ দলের জন্য ভারতে কোনো নির্দিষ্ট নিরাপত্তা হুমকি নেই।আইসিসিÑবিসিবি আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, বিসিবির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকবে আইসিসি। যদি বিসিবি ভারত সফরে বাংলাদেশ দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে বিকল্প দল ঘোষণা করতে পারে আইসিসি। বর্তমান র্যাঙ্কিং অনুযায়ী সেক্ষেত্রে স্কটল্যান্ড সুযোগ পেতে পারে।