টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইস্যুতে শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে ছিল পাকিস্তান। মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়ার পর বাংলাদেশ নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে খেলতে যেতে চায়নি। ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানালেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেছে আইসিসি। বাংলাদেশকে সরিয়ে দেয়ার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। এতে বিশ্ব ক্রিকেট সংস্থার সঙ্গে তাদের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে সৃষ্ট চলমান জটিলতা কাটাতে রোববার লাহোরে আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গে প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী এক বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না এলেও ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে বরফ গলার আভাস পাওয়া গেছে।

পাকিস্তানি গণমাধ্যম জিও সুপার সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, কলম্বোতে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে পরিষ্কার দিকনির্দেশনা পেতে আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করবেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। এরপরেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। অবশ্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের হাতেই থাকবে।

এদিকে, ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে পিসিবি আইসিসির কাছে তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করেছে। দাবিগুলো হলো- ১. বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ায় বাংলাদেশকে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ২. টুর্নামেন্টে অংশ না নিলেও বাংলাদেশের প্রাপ্য ‘অংশগ্রহণ ফি’ নিশ্চিত করতে হবে। ৩. ভবিষ্যতে কোনো আইসিসি ইভেন্ট একক বা যৌথভাবে আয়োজনের অধিকার বাংলাদেশকে দিতে হবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আইসিসির পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে আলাদা কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেয়ার সুযোগ নেই। তবে আইসিসির আয় থেকে বাংলাদেশকে তাদের পূর্ণ অংশ নিশ্চিত করার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা পিসিবিকে পরামর্শ দিয়েছেন, তারা চাইলে বিষয়টি আইসিসির আরবিট্রেশন কমিটিতে তুলতে পারে অথবা বোর্ড সভায় আলোচনা করতে পারে। তবে ক্রিকেটের স্বার্থে দ্রুত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করাই যুক্তিযুক্ত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এর আগে, পাকিস্তান সরকারের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে অনুষ্ঠিতব্য ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নামবে না পাকিস্তান। পরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এ সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের প্রতি ‘সংহতির প্রতীক’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

এদিকে, আইসিসি পিসিবির কাছে জানতে চেয়েছে, ‘ফোর্স মেজর’ দাবি করার আগে তারা কী ধরনের প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল। সদস্য অংশগ্রহণ চুক্তি (এমপিএ) অনুযায়ী, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। ইএসপিএন-ক্রিকইনফো জানিয়েছে, টুর্নামেন্ট শুরুর ১০ দিনেরও কম সময় আগে পিসিবি আইসিসিকে ইমেইলে জানিয়েছিল, সরকারের নির্দেশেই তারা ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইসিসির সংবিধানে ‘ফোর্স মেজর’ কার্যকর করার সুনির্দিষ্ট শর্ত, প্রয়োজনীয় প্রমাণ এবং এর ক্রীড়া, বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক প্রভাব স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। আইসিসি পিসিবিকে জানিয়ে দিয়েছে, ম্যাচ না হলে সংস্থাটির বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি গুরুতর হলে আইসিসির হাতে সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিলের ক্ষমতাও রয়েছে।

তবে পিসিবির ধারণা, বিষয়টি আইনি লড়াইয়ে গড়ালে তাদের অবস্থান বরং শক্ত। এ ক্ষেত্রে তারা অতীতের একটি ঘটনাকে সামনে আনছে। সেটি হলো পাকিস্তান ও ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের মধ্যকার একটি পুরোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজ সংক্রান্ত বিরোধ, যা একসময় আইসিসির বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটি (ডিআরসি) পর্যন্ত গড়িয়েছিল।