অনুশীলন ক্যাম্পেই বলের আঘাতে মাথায় গুরুতর চোট পেয়েছেন বাংলাদেশের টেস্ট দলের নিয়মিত স্পিনার নাঈম হাসান। গতকাল মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্ট্রেন্থ এবং কন্ডিশনিং ক্যাম্পের অংশ হিসেবে খেলোয়াড়দের নিয়ে ফিল্ডিং ড্রিল করছিলেন কোচ জেমস প্যামেন্ট। এ সময় একটি ক্যাচ তালুবন্দী করতে গিয়ে মাথায় লাগে নাঈমের। সঙ্গে সঙ্গে তাকে এসে পর্যবেক্ষণ করেন জাতীয় দলের ফিজিও। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে নিয়ে যাওয়া হয় মাঠের বাইরে। তবে এই অফস্পিনারের এখন বেশ ভালো অবস্থায় আছেন বলে জানা গেছে। চোট সম্পর্কে জানতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ফিজিও দেবাশিষ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বেশ ভালো অবস্থায় আছেন নাঈম। চোট নিয়ে শঙ্কার কিছু নেই। দেবাশিষ চৌধুরী বলেন,‘সাধারণত মাথার চোটের ক্ষেত্রে আমরা ১২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখি। ওকেও (নাঈম হাসান) পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। যদি এর মধ্যে খারাপ কিছু মনে হয়, তাহলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে তেমন গুরুতর কিছু মনে হচ্ছে না।’ তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচের সিরিজ খেলতে এপ্রিলে বাংলাদেশ সফরে আসছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল। আসন্ন হোম সিরিজকে সামনে রেখে ঈদের ছুটি শেষে শুরু হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের স্ট্রেন্থ ও কন্ডিশনিং ক্যাম্প। এই স্ট্রেন্থ এবং কন্ডিশনিং ক্যাম্পে ক্যাম্পে অংশ নিয়েছেন ৩৭ জন ক্রিকেটার। কিউই সিরিজের প্রস্তুতি মূল লক্ষ্য হলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ মাথায় রেখে লাল বলের ক্রিকেটারদেরও ডাকা হয়েছে ক্যাম্পে। প্রাথমিক পর্যায়ে ক্রিকেটারদের স্কিল বা ব্যাটিং-বোলিংয়ের চেয়ে ফিটনেস ও ফিল্ডিংয়ের ওপর বেশি জোর দেয়া হচ্ছে। কড়া রোদে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছেন খেলোয়াড়রা। চলমান পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) খেলার কারণে জাতীয় দলের ছয়জন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার ক্যাম্পে যোগ দিতে পারেননি। তারা হলেন- মোস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, পারভেজ হোসেন ইমন, রিশাদ হোসেন, নাহিদ রানা এবং তানজিদ হাসান তামিম।

পিএসএল মিশন শেষ করেই তারা সরাসরি জাতীয় দলের সাথে যুক্ত হবেন।আগামী ১৩ এপ্রিল ঢাকায় পৌঁছাবে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল। তিনদিনের অনুশীলন শেষে ১৭ এপ্রিল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বেলা ২টায় শুরু হবে ওয়ানডে সিরিজ। ২০ এপ্রিল একই মাঠে দ্বিতীয় ওয়ানডে। ২৩ এপ্রিল চট্টগ্রামে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে। এরপর একই মাঠে ২৭ ও ২৯ এপ্রিল সিরিজের প্রথম ও দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। ২ মে ঢাকায় তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ দিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজের সমাপ্তি হবে, সেই সঙ্গে কিউইদের সঙ্গে হোম সিরিজও।