টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বদলে যৌথ আয়োজক শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া হলে কোনো জটিলতা হবে না—এমনটাই জানিয়েছে ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ। তাদের মতে, বিসিবির করা আবেদনের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করতে পারে আইসিসি।
তবে আবেদন গৃহীত না হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। অতীতে নিরাপত্তাজনিত কারণে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাধিকবার শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়েতে ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। তখন প্রতিপক্ষ দল নিয়ম অনুযায়ী ‘ওয়াকওভার’ পেয়ে যায়। এবার সূচি অপরিবর্তিত থাকলে বাংলাদেশকেও এমনভাবে পয়েন্ট ছাড়তে হতে পারে—অথবা বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশের জায়গায় নতুন কোনো দল যোগ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে আইসিসি। ২০০৯ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ে সরে দাঁড়ানোর পর ঠিক এমনভাবেই সুযোগ পেয়েছিল স্কটল্যান্ড।
সূচি বদলের সম্ভাবনা কতটা
বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি অল্প সময়। ৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একই ভেন্যুতে ইতালি ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধেও খেলতে কথা ছিল, আর নেপালের বিপক্ষে ম্যাচটি হওয়ার কথা মুম্বাইয়ে। এই চার ম্যাচই ভারতের বাইরে নেওয়ার আবেদন করেছে বিসিবি।
যদিও আইসিসি এ পর্যন্ত কখনো বিশ্বকাপের সূচি পরিবর্তন করেনি। ভারতীয় বোর্ডের এক কর্মকর্তা এনডিটিভিকে বলেন, হোটেল, ভ্রমণ, সম্প্রচার—সব লজিস্টিক চূড়ান্ত হয়ে গেছে, এখন সূচি বদলানো প্রায় অসম্ভব। পাকিস্তানের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছিল অনেক আগেই। তবু পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত সিদ্ধান্ত দিতে পারে আইসিসি।
‘ওয়াকওভার’-এর নজির
১৯৯৬ বিশ্বকাপে নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ শ্রীলঙ্কায় খেলতে যায়নি; নিয়ম অনুযায়ী দুই ম্যাচেই জয় পায় স্বাগতিকরা। ২০০৩ সালে ইংল্যান্ড জিম্বাবুয়েতে না গিয়ে ম্যাচ পরিত্যক্ত করে; পূর্ণ পয়েন্ট পায় জিম্বাবুয়ে। একই আসরে কেনিয়ার বিপক্ষে না খেলায় নিউজিল্যান্ডও ওয়াকওভার দেয়।
দ্বিপক্ষীয় সিরিজ ও ভবিষ্যৎ আয়োজনের অনিশ্চয়তা
গত বছর নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখিয়ে বাংলাদেশ সফর স্থগিত করেছিল ভারত, যা এ বছর সেপ্টেম্বরের জন্য পুনর্নির্ধারিত। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সিরিজ নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আগামী বছর বাংলাদেশে এশিয়া কাপ হওয়ার কথা—ভারত অংশ না নিলে টুর্নামেন্ট ‘হাইব্রিড মডেলে’ হতে পারে। পাশাপাশি ২০২৯ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি (ভারত) এবং ২০৩১ ওয়ানডে বিশ্বকাপের (বাংলাদেশ–ভারত যৌথ আয়োজক) ভবিষ্যৎও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে সম্পর্কের টানাপোড়েনে।
সর্বোপরি, বিসিবির আবেদনের ওপর আইসিসির সিদ্ধান্তই এখন নির্ধারণ করবে—বাংলাদেশ মাঠে নামবে, নাকি ইতিহাসের মতো আরেকবার ‘ওয়াকওভার’ই হয়ে যাবে সমাধান।