বিপিএলে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলো রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। গতকাল লিগ পর্বে নিজেদের সপ্তম ম্যাচে রাজশাহী ৭ উইকেটে হারিয়েছে রংপুর রাইডার্সকে। দ্বিতীয় উইকেটে ৮২ বল ১৪২ রানের জুটি গড়ে রাজশাহীর জয়ে বড় অবদান রাখেন শান্ত ও ওয়াসিম। এই জয়ে ৭ ম্যাচে ৫ জয় ও ২ হারে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠল রাজশাহী। ৭ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট আছে চট্টগ্রাম রয়্যালসেরও। তবে রান রেটে পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে রাজশাহী।

৭ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে রংপুর। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৭২ রানে ৩ উইকেট হারায় রংপুর। কাইল মায়ার্স ও ইফতিখার আহমেদ ৮ রান করে এবং লিটন দাস ১১ রানে আউট হন। এরপর চতুর্থ উইকেটে খুশদিল শাহকে নিয়ে ব্যাট হাতে ঝড় তুলেন ওপেনার হিসেবে নামা তাওহিদ হৃদয়। ১৯তম ওভারে বিচ্ছিন্ন হবার আগে ৫১ বলে ১০৫ রানের জুটি গড়েন তারা। এতে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭৮ রান করে রংপুর। ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় ২৯ বলে ৪৪ রানে থামেন খুশদিল। ইনিংসের শেষ পর্যন্ত খেলেও মাত্র ৩ রানের জন্য টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি মিস করেন হৃদয়। ৯৭ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে ২০তম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেওয়া ইনিংসে ৫৬ বল খেলে ৮টি চার ও ৬টি ছক্কা হাঁকান হৃদয়। রাজশাহীর পক্ষে বল হাতে তানজিম হাসান, রিপন মণ্ডল, জেমস নিশাম ও সন্দ্বীপ লামিচানে ১টি করে উইকেট নেন।

জয়ের জন্য ১৭৯ রান তাড়া করতে নেমে তৃতীয় ওভারেই ধাক্কা খায় রাজশাহী। ৩ রান করে আউট হন ওপেনার তানজিদ হাসান। দলীয় ১৩ রানে তানজিদ ফেরার পর দ্বিতীয় উইকেটে রংপুরের বোলারদের উপর তাণ্ডব চালিয়েছেন ওপেনার মুহাম্মদ ওয়াসিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। মাত্র ৫৮ বল খেলে সেঞ্চুরির জুটি গড়ে রাজশাহীর জয়ের পথ সহজ করেন তারা। সেঞ্চুরির জুটি গড়ার পথে হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন ওয়াসিম ও শান্ত। ওয়াসিম ৩২ বলে ৩১তম এবং শান্ত ৩৭ বলে ১৮তম অর্ধশতকের দেখা পান। ১৬তম ওভারে শান্তকে শিকার করে জুটি ভাঙেন রংপুরের ইনফর্ম পেসার মুস্তাফিজুর রহমান।

৪২ বল খেলে ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৭৬ রান করেন শান্ত। দ্বিতীয় উইকেটে ওয়াসিমের সাথে ৮২ বলে ১৪২ রান যোগ করেন শান্ত। দলীয় ১৫৫ রানে শান্ত ফেরার পর ক্রিজে এসে ১ রানে বিদায় নেন জেমি নিশাম। তবে রায়ান বার্লকে নিয়ে ১৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে রাজশাহীকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান ওয়াসিম। ৭টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৫৯ বলে অপরাজিত ৮৭ রান করে ওয়াসিম। ম্যাচ সেরা হন শান্ত।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

রংপুর রাইডার্স: ২০ ওভারে ১৭৮/৪ (হৃদয় ৯৭*, মেয়ার্স ৮, লিটন ১১, ইফতিখার ৮, খুশদিল ৪৪, সোহান ১*; মেহেরব ১-০-১৩-০, তানজিম ৪-০-৩৫-১, রিপন ৪-০-৫৬-১, নিশাম ৩-০-২৭-১, লামিছানে ৪-০-২১-১, সাকলাইন ৪-০-২২-০)।

রাজশাহী ওয়ারিয়র্স: ২০ ওভারে ১২৮/৯ (ওয়াসিম ৮৭*, তানজিদ ৩, শান্ত ৭৬, নিশাম ১, বার্ল ৭*, নাহিদ ২.১-০-১৬-০, আলিস ৪-০-৩৭-০, আকিফ ৪-০-৪৩-২, মুস্তাফিজ ৪-০-৩৪-১, খুশদিল ৪-০-২৯-০, ইফতিখার ১-০-১৬-০)।

ফল : রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ৭ উইকেটে জয়ী।

ম্যান অব দা ম্যাচ : নাজমুল হোসেন শান্ত।