মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়ার পর ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা ক্রমেই বাড়ছে। এর মধ্যেই ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল দাবি করেছেন, মোস্তাফিজুর রহমান বাংলাদেশ দলে থাকলে ভারতে জাতীয় দলের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে, এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগ থেকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল যে বক্তব্য দিয়েছেন তা আইসিসির পাঠানো আনুষ্ঠানিক কোন জবাব নয়। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ (আজাদ মজুমদার) ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছেন, আইসিসিকে উদ্বৃত করে তিনটি নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা আইসিসির পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো জবাব নয় বলে জানিয়েছেন।
সোমবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সামগ্রিক বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, মোস্তাফিজ দলে থাকার পাশাপাশি আরও দুটি কারণে বাংলাদেশ দল ভারতে খেলতে গেলে নিরাপত্তাশঙ্কা থাকবে বলেছে আইসিসি।যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেছেন, আইসিসির চিঠিতে নিরাপত্তা শঙ্কাজনিত কোন ৩টি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে-
১. বাংলাদেশ দলে যদি মোস্তাফিজুর রহমান থাকেন। ২. বাংলাদেশের সমর্থকরা যদি দেশের জার্সি পরে ঘোরাফেরা করেন। ৩. নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে ততই বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তাশঙ্কা বাড়বে।
আইসিসির এমন প্রত্যাশা অযৌক্তিক মনে করছেন আসিফ নজরুল। বলেছেন, ‘আইসিসি যদি আশা করে আমরা আমাদের শ্রেষ্ঠ বোলারকে বাদ দিয়ে ক্রিকেট দল করব, আমাদের যারা সমর্থক আছে তারা বাংলাদেশের জার্সি পরতে পারবে না, আর আমরা ক্রিকেট খেলার জন্য বাংলাদেশের নির্বাচন পিছিয়ে দিবো- এরচেয়ে উদ্ভট, অবাস্তব, অযৌক্তিক কোন প্রত্যাশা হতে পারে না।’
ভারতের কোন ভেন্যুতেই খেলার সুযোগ নেই, জানিয়েছেন আসিফ নজরুল। বলেছেন, ‘যেখানে আমাদের দলের একটা খেলোয়াড়কে খেলানোর পরিবেশ নাই, উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে মাথা নত করে ভারতের জাতীয় ক্রিকেট বোর্ড। ন্যাশনাল একটা অথরিটি তারা যখন বলে তাকে এখানে খেলানো না হোক, এরচেয়ে বড় প্রমাণ আর কী আছে আইসিসির সামনে আমি বুঝলাম না। আর আইসিসির নিরাপত্তা দলের যে চিঠি আছে, আমরা একটা সময় চিঠির কপি আপনাদেরকে দিয়ে দিবো। এটা তো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে যে, আমাদের ওখানে খেলার পরিবেশ নাই, ভারতের কোন জায়গাতে খেলার পরিবেশ নাই।’
‘আমরা মনে করি ক্রিকেটের উপর কারো কোন মনোপলি থাকা উচিত না। বাজার ব্যবস্থাপনার ভিত্তিতে একটা খেলার সম্পূর্ণ বা একটা টুর্নামেন্টের ভাগ্য নির্ধারিত হতে পারে না। আইসিসি যদি সত্যি বৈশ্বিক সংগঠন হয়ে থাকে, আর আইসিসি যদি ভারতের কথায় ওঠে আর না বসে, তাহলে অবশ্যই আমাদের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ শ্রীলঙ্কাতে দেয়া উচিত। এই প্রশ্নে আমরা কোনরকম নতি স্বীকার করব না।’
ক্রীড়া উপদেষ্টার বক্তব্য আইসিসির সরাসরি জবাব নয়: উপ-প্রেস সচিব
ভারতের মাটিতে গিয়ে বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলার বিষয়ে আইসিসিকে উদ্বৃত করে তিনটি নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা আইসিসির পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো জবাব নয় বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ (আজাদ মজুমদার)।
এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আজাদ মজুমদার ফেসবুক একটি স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘ক্রীড়া উপদেষ্টা আইসিসির যোগাযোগের যে কথা বলেছেন, সেটা আসলে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে হুমকি পর্যালোচনায় আইসিসির একটি আন্তঃবিভাগীয় একটি নোট।’বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে নিয়ে যেতে যে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ, তার জবাবে আইসিসির পাঠানো কোনো জবাব নয়, জানিয়েছেন উপ-প্রেস সচিব আজাদ মজুমদার।
ক্রীড়া উপদেষ্টার বক্তব্য আইসিসির আনুষ্ঠানিক কোনো জবাব নয়: বিসিবি
ভারতের মাটিতে গিয়ে বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলার বিষয়ে আইসিসিকে উদ্বৃত করে তিনটি বিষয়ে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল যে বক্তব্য দিয়েছেন তা আইসিসির পাঠানো আনুষ্ঠানিক কোন জবাব নয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি বলেছে, ‘যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আজ টি-২০ বিশ্বকাপ ঘিরে আইসিসির চিঠির বিষয়ে একটি বক্তব্য দিয়েছেন। এটি বাংলাদেশের ম্যাচ ভারতের বাইরে সরিয়ে নেওয়া সংক্রান্ত বিসিবির অনুরোধে আইসিসি কোন সরাসরি বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয়। এটি নিরাপত্তা হুমকি মূল্যায়ন সম্পর্কিত আইসিসি ও বিসিবির মধ্যে অভ্যন্তরীণ আলোচনার বিষয়ে ছিল।’বিসিবি জানিয়েছে, ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে দুই দফা চিঠি দিয়ে জানিয়েছে বিসিবি। দলের নিরাপত্তার কারণে ভারতের বাইরে বিশ্বকাপ ভেন্যুর ব্যবস্থার অনুরোধ করেছে। বোর্ড এখনো বিষয়টি নিয়ে আইসিসির উত্তরের অপেক্ষায় আছে।