বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারত ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ম্যাচে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে রেকর্ডের বন্যা বয়ে গেছে। ম্যাচটিতে দুই দল মিলিয়ে অসংখ্য নতুন পরিসংখ্যান তৈরি হয়েছে। এমন কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে ক্রিকবাজ। ভারত এদিন প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ২৫৩ রান করে। যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ এবং টুর্নামেন্টের নকআউট ম্যাচে সর্বোচ্চ স্কোর। এর আগে নকআউট ম্যাচে একমাত্র ২০০-এর বেশি রান করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ২০১২ সালের সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে (২০৫/৪)।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারতের এটি ষষ্ঠবার আড়াই শ’র বেশি রান করার ঘটনা, যা যেকোনো দলের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে পাঁচবার এমন কীর্তি ছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের। এই ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে মোট ৪৯৯ রান হয়েছে (ভারত ২৫৩, ইংল্যান্ড ২৪৬), যা টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। সর্বোচ্চ ৫১৭ রান হয়েছিল ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচে। এদিকে, ইংল্যান্ডের ২৪৬/৭ টি- টোয়েন্টিতে ভারতের বিপক্ষে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ করেছিল ২৪৫/৬।
এই বিশ্বকাপে ভারত এখন পর্যন্ত ৮৮টি ছক্কা মেরেছে, যা কোনো টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় এক দলের সর্বোচ্চ। তারা ছাড়িয়ে গেছে বুলগেরিয়া ক্রিকেট দলের ২০২৫ সালে করা ৭৮ ছক্কার রেকর্ড। ম্যাচটিতে মোট ৩৪টি ছক্কা হয়েছে; ভারত ১৯টি এবং ইংল্যান্ড ১৫টি। যা টি- টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ। ভারতের ১৯টি ছক্কা বিশ্বকাপে এক ম্যাচে যৌথভাবে সর্বোচ্চ।
ইংল্যান্ডের লেগ স্পিনার আদিল রশিদ টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম বোলার হিসেবে ২০০টির বেশি ছক্কা হজম করার রেকর্ড গড়েছেন (মোট ২০৩)। চলতি বিশ্বকাপে তিনি ১৮টি ছক্কা দিয়েছেন, যা এক আসরে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। একই আসরে সমান ছক্কা দিয়েছেন হার্দিক পান্ডিয়া। এদিন জোফ্রা আর্চার একাই ৭টি ছক্কা হজম করেন, যা বিশ্বকাপের এক ম্যাচে কোনো বোলারের যৌথ সর্বোচ্চ।
ইংল্যান্ডের ব্যাটার জ্যাকব বেথেল মাত্র ১৯ বলে অর্ধশতক করেন এদিন। যা বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে যৌথভাবে দ্রুততম। পরে তিনি ১০৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর।
তবে তার এই সেঞ্চুরি দলকে জেতাতে পারেনি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটি তৃতীয় শতক, যা পরাজয়ের ম্যাচে এসেছে। এর আগে ২০০৭ সালে ক্রিস গেইল এবং ২০২৬ সালে যুবরাজ সামরা একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিলেন।
ভারতের বোলার বরুণ চক্রবর্তী এদিন ৪ ওভারে ৬৪ রান দেন, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয়বহুল বোলিং স্পেল। এর আগে ৬৫ রান দিয়েছিলেন সৌরভ নেত্রাভালকার।
টি-টায়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর:
শ্রীলঙ্কা-২৬০/৬ বনাম কেনিয়া (২০০৭, জোহানেসবার্গ)
ভারত -২৫৬/৪ বনাম জিম্বাবুয়ে (২০২৬, চেন্নাই)
ওয়েস্ট ইন্ডিজ -২৫৪/৬ বনাম জিম্বাবুয়ে (২০২৬, ওয়াংখেড়ে)
ভারত -২৫৩/৭ বনাম ইংল্যান্ড (২০২৬, ওয়াংখেড়ে)
ইংল্যান্ড -২৪৬/৭ বনাম ভারত (২০২৬, ওয়াংখেড়ে)।