পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় দিয়ে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করেছে বাংলাদেশ। গতকাল প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ সহজেই পাকিস্তানকে হারিয়েছে ৮ উইকেটে। নাহিদ রানার ৫ উইকেটের পর ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের অপরাজিত ৬৭ রানে ভর করে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই বড় জয় পায় টাইগাররা। ফলে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। গতকাল মিরপুরে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তান স্বাগতিক বোলারদের তোপের মুখে ৩০.৪ ওভারে মাত্র ১১৪ রানে গুটিয়ে যায়। ফলে ১১৫ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ১৫.১ ওভারে বাংলাদেশ ২ উইকেট হারিয়ে ৮ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে। সহজ জয়ের জন্য ১১৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ম্যাচের শুরুতেই সাইফ হাসানের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দলেল উড়ন্ত সূচনা এন দেন তানজিদ হাসান তামিম। তবে দলীয় ২৭ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৪ রানে (১০ বলে) শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে আউট হয়ে যান সাইফ হাসান। তার ক্যাচটি ধরেন শামিল হুসাইন। এরপর ৮২ রানের দুর্দান্ত এক জুটি গড়ে তোলেন তানজিদ তামিম এবং নাজমুল হোসেন শান্ত। তাদের ব্যাটিংয়ে সহজ জয়ের পথে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ। প্রকৃতপক্ষে ইফতারের আগেই ম্যাচটা শেষ করতে চাচ্ছিলেন যেন তারা। কিন্তু ১৪তম ওভারের ৫ম বলে মোহাম্মদ ওয়াসিমের একটি বাউন্স বল ঠিকমতো খেলতে না পেরে ব্যাটের কানায় লাগিয়ে উইকেটের পেছনে মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ দেন নাজমুল শান্ত। ৩৩ বলে ২৭ রান করে আউট হন তিনি। অন্যপ্রান্তে স্বরূপেই ছিলেন তানজিদ তামিম। শেষ পর্যন্ত ৪২ বলে ৫ ছক্কা ও ৭ বাউন্ডারিতে ৬৭ রান করে অপরাজিতই থাকলেন তিনি। পাওয়ার প্লে শেষে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ১ উইকেটে ৮১। দুই ওভার পর মাত্র ৩২ বলে তানজিদ হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন। ১৪তম ওভারে শান্তকে (২৭) ফিরিয়ে ৮২ রানের এই জুটি ভাঙ্গেন ওয়াসিম জুনিয়র। শেষ পর্যন্ত তানজিদ অপরাজিত থেকে বাংলাদেশকে দাপুটে জয় উপহার দেন। ৪২ বলে ৭টি বাউন্ডারি ও ৫টি ওভার বাউন্ডারির সহায়তায় তানজিদ ৬৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। ৫ উইকেট নিয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ম্যাচ সেরা হলেন নাহিদ রানা। এর আগে, আগে ব্যাট করতে নামা পাকিস্তানের শুরুটা ভালো হয়নি। তাসকিন আহমেদের তৃতীয় ওভারে দুই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে দূরন্ত ফর্মে থাকা ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান নিজেকে মেলে ধরার চেষ্টা করে। উদ্বোধনী জুটিতে ফারহানের সাথে অভিষিক্ত মাজ সাদাকাত মুস্তাফিজুর রহমানের পরের ওভারে একটি বাউন্ডারি হাঁকান। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে তাসকিন আহমেদের স্থানে নাহিদের হাতে বল দেন অধিনায়ক মিরাজ। আক্রমণে এসেই দলকে ব্রেকথ্রু এনে দেন এই তরুণ পেসার। ওভারের শেষ বলে তাকে কাট করতে গিয়ে পয়েন্টে আফিফ হোসেনের হাতে ধরা পড়েন সাহিবজাদা ফারহান। ২৭ রান করে এই ওপেনার ফিরলে ভাঙে ৪১ রানের উদ্বোধনী জুটি। নিজের পরের চার ওভারের সবকটিতেই উইকেট পেয়েছেন নাহিদ। নবাগত শামিল হোসাইন, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সালমান আলি আগাকে সাজঘরে ফেরান এই ডানহাতি পেসার। ১১ তম ওভারে জীবন ফিরে পাওয়া অভিষিক্ত শামিল উইকেটে পিছনে লিটনকে ক্যাচ তুলে দেন। ১৪তম ওভারে রানার তৃতীয় শিকারে পরিনত হন সাদাকাত। পরের দুই ওভারে রানা একে একে সাজঘরে পাঠিয়েছেন রিজওয়ান ও সালমান আলিকে। পাকিস্তানের টপ অর্ডার ভেঙে ক্যারিয়ারের প্রথমবারের মত ফাইফার পূরণ করেন রানা। পরের কাজটুকু সেরেছেন মিরাজ। ২৯ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন বাংলাদেশের অধিনায়ক। ৮২ রানে নবম উইকেট হারানোর পর একশর আগেই অলআউটের শঙ্কায় পড়ে পাকিস্তান। তবে ফাহিম আশরাফ একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই করে গেছেন। আবরার আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে শেষ উইকেটে ৩২ রানের জুটি গড়েন। ফাহিমের ৩৭ রানের ইনিংসে ভর করে কোনোরকমে একশ’ রানের কোটা পার করে সফরকারী পাকিস্তান। শুক্রবার মিরপুরে দ্বিতীয় ম্যাচে দুই দল মুখোমুখি হবে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

পাকিস্তান: ৩০.৪ ওভারে ১১৪ (সাহিবজাদা ২৭, সাদকাত ১৮, শামিল ৪, রিজওয়ান ১০, সালমান ৫, তালাত ৪, সামাদ ০, ফাহিম ৩৭, আফ্রিদি ৪, ওয়াসিম ০, আবরার ০*; তাসকিন ৭-০-২৯-১, মুস্তাফিজ ৪.৪-০-১৮-১, মিরাজ ১০-০-২৯-৩, নাহিদ ৭-০-২৪-৫, রিশাদ ২-০-১০-০)

বাংলাদেশ: ১৫.২ ওভারে ১১৫/২ (সাইফ ৪, তানজিদ ৬৭*, শান্ত ২৭, লিটন ৩*; আফ্রিদি ৫-১-৩৫-১, ফাহিম ২-০-১৯-০, ওয়াসিম ৩.১-০-২৪-১, আবরার ৩-০-২৫-০, সালমান ২-০-১২-০)।