তানজিদ তামিমের সেঞ্চুরিতে বড় স্কোর তুলে অনেকটাই নিশ্চিন্ত ছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তানের দ্রুত ৩ উইকেট নিয়ে জয়ের সুবাস পাচ্ছিল মেহেদী হাসান মিরাজের দল। তবে সালমান আলি আগার সেঞ্চুরিতে ম্যাচের মোড় ঘুরতে থাকে। শেষ দিকে ব্যাট হাতে শাহিন শাহ আফ্রিদি হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের দুশ্চিন্তার কারণ। তবে শেষ ওভারে রিশাদ হোসেনের অতি ভালো বোলিংয়ে জয় তুলে নেয় টিম টাইগার্স। ১১ রানের জয় পাওয়ায় ২-১ ব্যবধানে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গড়ানো ম্যাচটি সরাসরি দেখিয়েছে ডিজিটাল প্লাটফর্ম আইস্ক্রিন ও ধারাভাষ্য শোনা গেছে রেডিও ভূমিতে।
তৃতীয় ওয়ানডেতে টসে জিতে স্বাগতিকদের আগে ব্যাটে পাঠায় পাকিস্তান। নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে ৫ উইকেটে ২৯০ রানের সংগ্রহ গড়েছে বাংলাদেশ। জবাবে নেমে নির্ধারিত ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২৭৯ রানে থামে পাকিস্তানের ইনিংস। জয়ে ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে নয়ে উঠে এসেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। রান তাড়ায় নেমে শুরুটা ভালো হয়নি পাকিস্তানের। ১৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে দলটি। চতুর্থ উইকেটে গাজী ঘোরী ও আব্দুল সামাদ মিলে যোগ করেন ৫০ রান। গাজী ২৯ রানে আউট হলে জুটি ভাঙে। দলীয় ৮২ রানে আউট হন সামাদ। ৪৫ বলে ৩৪ রান করেন।
ষষ্ঠ উইকেটে সালমান আগা ও সাদ মাসুদ মিলে যোগ করেন ৭৯ রান। ৪৪ বলে ৩৮ রানে সাদ ফিরে যান। সপ্তম উইকেটে ফাহিম আশরাফ ও সালমান মিলে যোগ করেন আরও ৪৮ রান।
একপ্রান্ত আগলে রাখা সালমান আগা শাহিন শাহকে সঙ্গী করে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। ৮৯ বলে সেঞ্চুরি ছোঁয়া ইনিংসে ছিল ৯ চার ও ৪ ছক্কার মার। অষ্টম উইকেট জুটিতে ৫২ রান যোগ করেন সালমান। দলীয় ২৬১ রানে আউট হন সালমান। ৯ চার ও ৪ ছক্কায় ৯৮ বলে ১০৬ রান করেন। ৪৮.৫ ওভারে শাহিন শাহ আফ্রিদির শট সরাসরি হিট করে মোস্তাফিজের হাঁটুতে। গুরুতর চোট পান টাইগার পেসার। মাঠেই লুটিয়ে পড়েন।
দ্রুতই ফিরে আসেন ফিজিও, স্টেচারও নিয়ে আসা মাঠে। মাঠেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে উঠে দাঁড়ান ফিজ। খোঁড়াতে খোঁড়াতে রানআপ নিয়ে বল করে পরের বলে উইকেট তুলে নেন। হারিস রউফ ফেরেন ১ রানে। শেষ ওভারে জিততে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১৪ রান। তবে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন রিশাদ। কেবল ২ রান দিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন। শেষ বলে তুলে নেন শাহিন শাহর উইকেট। ৩৮ বলে ৩৭ রান করেন শাহিন। বাংলাদেশ বোলারদের মধ্যে তাসকিন আহমেদ ৪ উইকেট নেন।