টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে রুদ্ধশ্বাস এক ম্যাচ উপভোগ করল ক্রিকেটভক্তরা। মূল ম্যাচ টাই। প্রথম সুপার ওভার টাই। শেষমেশ দ্বিতীয় সুপার ওভারের শেষ বলে এলো ফল। অবিশ্বাস্য, মহানাটকীয় ম্যাচে শেষ হাসি হাসল দক্ষিণ আফ্রিকা। আফগানিস্তানকে দ্বিতীয় সুপার ওভারে ৪ রানে হারিয়েছে প্রোটিয়ারা। টি-টোয়ন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটাই প্রথম ‘ডাবল সুপার ওভার’ ম্যাচ। গতকাল আহমেদাবাদে আফগানিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার ডাবল সুপার ওভারের মাচে ৪ রানে আফগানিস্তানকে হারিয়েছে প্রোটিয়ারা। টস হেরে দক্ষিণ আফ্রিকা আগে ব্যাট করতে নেমে ৬ উইকেটে ১৮৬ রান করে। জবাব দিতে নেমে ১৯.৪ ওভারে ১৮৬ রান তুলে অলআউট হয়ে যায় আফগানিস্তান। তাতে ম্যাচটি গড়ায় সুপার ওভারে। সেখানে আফগানিস্তান আগে ব্যাট করতে নেমে ১৭ রান তোলে। জবাবে ১ উইকেট হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকাও তোলে ১৭ রান। তাতে আবারও সুপার ওভারে গড়ায় ম্যাচ। সেখানে দক্ষিণ আফ্রিকা আগে ব্যাট করে ৩ ছক্কায় ২৩ রান করে। জবাব দিতে নেমে আফগানিস্তান দুই উইকেট হারিয়ে ১৯ রানের বেশি করতে পারে না। তাতে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ডাবল সুপার ওভার শেষে ৪ রানের দারুণ এক জয় পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। এই জয়ে দুই ম্যাচ খেলে দুটিই জিতে পরের রাউন্ডে যাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে গেল তারা। আহমেদাবাদে টস হেরে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে রায়ান রিকেলটন আর কুইন্টন ডি ককের জোড়া ফিফটিতে ১৮৭ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। লক্ষ্য তাড়ায় জয়ের পথে ছিল আফগানিস্তানও। তবে শেষদিকে টানা উইকেট হারিয়ে কিছুটা এলোমেলো হয়ে পড়ে আফগানরা। শেষ ওভারে তাদের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৩। হাতে ছিল এক উইকেট। বোলিং প্রান্তে ছিলেন রাবাদার মতো অভিজ্ঞ পেসার। প্রথম ডেলিভারিটিই করলেন নো, পরের ডেলিভারি ওয়াইড! এরপর আরও একটি নো বল করেন। চতুর্থ বৈধ বলে ফজলহক ফারুকি রান আউটের ফাঁদে পড়লে ম্যাচ টাই হয়ে যায়। ১৯.৪ ওভারে ১৮৭ রানে অলআউট হয় আফগানিস্তান। সুপার ওভারে ব্যাটিংয়ে আসেন আফগানিস্তানের দুই ব্যাটার আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও রহমানউল্লাহ গুরবাজ। বোলিংয়ে ছিলেন লুঙ্গি এনগিদি। প্রথম দুই বলেই দুই বাউন্ডারি হাঁকান ওমরজাই। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে চারের পরের বলে ছক্কার মার। পরের দুই বলে দুটি সিঙ্গেলস। পঞ্চম বলে আরেকটি বাউন্ডারি পেলেন ওমরজাই। শেষ বলে এক রানের বেশি নিতে পারেননি। তাতে স্কোরবোর্ডে ১৭ রান দাঁড় করায় তারা। প্রোটিয়াদের হয়ে ব্যাটিংয়ে ছিলেন ডেভিড মিলার ও ডেওয়ার্ল্ড ব্রেভিস। বোলিংয়ে ফজলহক ফারুকি। প্রথম বলে সিঙ্গেল নেন মিলার। দ্বিতীয় বলে ছক্কা হাঁকিয়ে পরের বলেই আউট হন ব্রেভিস। শেষ বলে জয়ের জন্য সাত রানের দরকার ছিল প্রোটিয়াদের। ছক্কা হাঁকিয়ে টাই করেন স্টাবস। দ্বিতীয় সুপার ওভারে ঝড় তোলেন প্রোটিয়া দুই ব্যাটার ডেভিড মিলার ও ত্রিস্টান স্টাবস। তিন ছক্কার মারে ২৩ রানের বড় পুঁজি গড়েন তারা। আফগানিস্তানের জয়ের জন্য লক্ষ্যটা দাঁড়ায় ২৪। মোহাম্মদ নবী দুই বল খেলে সাজঘরে ফিরলে ম্যাচ অনেকটাই প্রোটিয়াদের দিকে হেলে যায়। পরের তিন বলে তিন ছক্কা হাঁকিয়ে আবারও জমিয়ে দেন গুরবাজ। শেষ বলে জয়ের জন্য দরকার ছিল ৬ রান। কেশব মহারাজের ওয়াইডে আরও নাটকীয় রূপ নেয় ম্যাচ। শেষ বলে ক্যাচ আউট হন গুরবাজ। তাতে লড়াই থামে আফগানদের। ৪ রানের জয় পায় দক্ষিণ আফ্রিকা। এর আগে টস জিতে প্রোটিয়াদের ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে শুরুতেই সাফল্য পায় আফগানিস্তান।
অধিনায়ক এইডেন মার্করামকে তুলে নেন ফজলহক ফারুকি। তবে শুরুর ধাক্কা সামলে উঠেন রায়ান রিকেলটন আর কুইন্টন ডি কক। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ১ উইকেটে ৪৩ রান তোলে প্রোটিয়ারা। ৬১ বলে ১১৪ রানের বিধ্বংসী জুটি গড়েন দুই ব্যাটার। ৪১ বলে ৫ চার আর ৩ ছক্কায় ৫৯ রান করে রশিদ খানের বলে ডি কক সাজঘরে ফিরলে ভাঙে এই জুটি। ওই ওভারেই রশিদ ফেরান ২৩ বলে ফিফটি হাঁকানো রিকেলটনকে। ২৮ বলে ৬১ রানের ইনিংসে ৫টি বাউন্ডারির সঙ্গে ৪টি ছক্কা মারেন তিনি। শেষদিকে ডেভিড মিলার ১৫ বলে ২০ আর মার্কো জানসেন ৬ বলে ১৬ রানের দুটি ক্যামিও ইনিংস খেলেন। আফগানিস্তানের আজমতউল্লাহ ওমরজাই ৩টি আর রশিদ খান নেন দুই উইকেট। জবাবে দারুণ শুরু পায় আফগানিস্তান। ৪২ বলে ৪ চারের মার ও ৭ ছক্কায় ৮২ রানের সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেন ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ। ২৬ রানে ৩ উইকেট নেন লুঙ্গি এনগিডি।