টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে গতকাল রাতে দেশ ছেড়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। আগামী ১২ জুন ইংল্যান্ডে শুরু হবে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপের আগে ৩০ মে স্কটল্যান্ডে নেদারল্যান্ডস ও স্বাগতিকদের নিয়ে একটি প্রস্তুতি সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। এ জন্য দুই ধাপে দেশ ছাড়বে ক্রিকেটাররা। গতকাল রাতে প্রথম দল গেলেও আরেক দল যাবে মঙ্গলবার সকালে। স্কটল্যান্ডে ত্রিদেশীয় প্রস্তুতি সিরিজ শেষ করে সেখান থেকে সরাসরি ইংল্যান্ডে যাবে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। বিশ্বকাপে খেলতে দেশ ছাড়ার আগে গতকাল আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে করেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। বিশ্বকাপের আগে এই ত্রিদেশীয় কাজে দেবে বলে জানালেন অধিনায়ক। মিরপুরে জ্যোতি বলেন, ‘আমরা যেহেতু ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলার জন্য স্কটল্যান্ডে যাব। বিশ্বকাপের আগে এটা আমাদের জন্য অনেক বড় একটা সুযোগ যে আমাদের দলটা আসলে কতটুকু ভালো ক্রিকেট খেলবে। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে যদি আমরা সম্মিলিতভাবে ক্রিকেটটা খেলতে পারি, অবশ্যই আগের অনেক বিশ্বকাপের চেয়ে ভালো ফলাফল পাবো।’
টি- টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অতীত খুব একটা সুখকর নয়। এখন পর্যন্ত ২৫ ম্যাচে মাত্র তিনটি জয় এসেছে। তবে এবার সেই চিত্র বদলাতে চায় জ্যোতির দল। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ খেলবে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে। প্রতিটি ম্যাচ ধরেই এগোতে চান অধিনায়ক। বিশেষ করে কিছু ম্যাচে জয়ের ভালো সম্ভাবনা দেখছেন তিনি। নিগার সুলতানা বলেন, ‘আমাদের দুটি ম্যাচে জেতার অনেক বড় সুযোগ থাকবে, একটা হচ্ছে নেদারল্যান্ডস ও পাকিস্তান। দ্বিতীয়ত ভারতের সঙ্গে আমাদের খেলার অভিজ্ঞতা আছে। ভারত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে আমাদের ম্যাচ জেতার অভিজ্ঞতা আছে। আমরা প্রতিটি ম্যাচ ধরে এগোতে চাই। শুরুটা যদি ভালো পাই, ছন্দ পেলে সেটা বাকি টুর্নামেন্টে সাহায্য করবে।’ বিশ্বকাপে এবারের দল নিয়ে আশাবাদী জ্যোতি, ‘সবকিছু বিবেচনায় রেখে আসলে দল নির্বাচন করা হয়েছে। নির্বাচকরা ওভাবেই চিন্তা করে দল দিয়েছেন। আমি যেটা মনে করি যে যথেষ্ট ব্যাটার আছে দলে, বোলিং আক্রমণও অনেক ভালো আছে। এখন হচ্ছে আসলে আমাদের ভালো খেলার পালা।’
২০১৪ সালে ঘরের মাঠে প্রথমবার নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর থেকে নিয়মিত খেললেও সাফল্য খুব সীমিত। । প্রথম আসরে শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডকে হারানোর পর দীর্ঘ সময় কোনো জয় পায়নি দলটি। পরে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে আবার জয়ের দেখা মিললেও ধারাবাহিকতা গড়ে ওঠেনি। জ্যোতি বলেন, ‘সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমরা দুবাইয়ে একটি ম্যাচ জিতেছিলাম। এর আগের আসরেও খেলেছিলাম, তবে তখন কোনো ম্যাচ জিততে পারিনি। সেই জায়গা থেকে আমি মনে করি, গতবারের তুলনায় এবার আমাদের দলগত সমন্বয় আরও ভালো। তাই ম্যাচ জয়ের সংখ্যাও বাড়ানোর সুযোগ আছে। আমার কাছে মনে হয়, এখন টি-টোয়েন্টি দলে আগের চেয়ে বেশি পাওয়ার হিটার রয়েছে, যা আগে ছিল না। আগে দুই-একজন ক্রিকেটারের ওপরই টি-টোয়েন্টি অনেকটা নির্ভর করত। কিন্তু এখন নতুন কয়েকজন খেলোয়াড় এসেছে, যারা নিয়মিত দলের পারফরম্যান্সে অবদান রাখছে। যেমন নাহিদা আছে, মারুফা আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, খেলোয়াড়দের মধ্যে এখন একটা ক্ষুধা কাজ করছে। বিশ্বকাপের মঞ্চে ভালো খেলতে হবে, ম্যাচ জিততে হবে। এই দিকগুলো বিবেচনা করলে আমার বিশ্বাস, এবার আমরা আরও ভালো করতে পারব। দুই-একটি নয়, তিন-চারটি ম্যাচ জেতার সামর্থ্যও আমাদের আছে। দলের বর্তমান অবস্থান, কয়েকজন ক্রিকেটারের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে আমাদের যে শক্তি তৈরি হয়েছে, সেগুলো ইতিবাচক দিক। আমরা যদি সম্মিলিতভাবে নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারি, তাহলে গত বিশ্বকাপের চেয়ে অবশ্যই ভালো ফল করা সম্ভব।’ পেসার মারুফা আক্তারকে নিয়ে অধিনায়ক বলেন, ‘মারুফার কথা যদি বলি সে ধারাবাহিকভাবে দলের জন্য অনেক ভালো করে আসছে, পারফর্ম করছে এবং বলব যে তৃষ্ণাও কিন্তু যে নিজেকে প্রমাণ করেছে। গত সিরিজে ওর পারফরম্যান্স দেখেছি এবং কোয়ালিফাইয়ে দুয়েকটা ম্যাচে যে সুযোগ পেয়েছে ওখানে সে ভালো করেছে।’ বিশ্বকাপের আগে এবার পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ম্যাচ পাচ্ছে বাংলাদেশ, যা নিয়ে সন্তুষ্ট অধিনায়ক। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকবার আইসিসি ইভেন্টের আগে আমরা তেমন আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি ম্যাচ পেতাম না। এটা আমাদের একটা কমপ্লেইন ছিল। এবার কিন্তু সেটা নেই। আমরা অনেক ম্যাচ খেলেছি, সামনে আরও ম্যাচ আছে। আমার মনে হয় টুর্নামেন্টের আগে কম্বিনেশন ঠিক করার জন্য যথেষ্ট সময় পাব।’বাংলাদেশ দলের কাছে স্কটল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজটি তাই কেবল প্রস্তুতি নয়, বিশ্বকাপের আগে নিজেদের গুছিয়ে নেওয়ার বড় সুযোগও। ইংল্যান্ডের কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, সেরা একাদশ ঠিক করা এবং ব্যাটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো। এই তিন বিষয়েই বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে টিম বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো এবারের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে ১২টি দল। দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে দলগুলো লড়বে শিরোপার জন্য। ১২ জুন শুরু হওয়া আসরের ফাইনাল হবে ৫ জুলাই, ঐতিহ্যবাহী লর্ডসে। গ্রুপ ‘এ’-তে বাংলাদেশ পেয়েছে নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও পাকিস্তানকে। অন্যদিকে ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড। বাংলাদেশ নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ১৪ জুন, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এজবাস্টনে। এরপর একে একে অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে জ্যোতির দল।