বিপিএলে প্রথমবার যুক্ত হয়েছেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার শোয়েব আখতার। ঢাকা ক্যাপিটালসে তাকে মেন্টর হিসেবে যুক্ত করেছে। মেন্টর শোয়েব উড়ে এসেছেন পাকিস্তান থেকে। খেলা ছাড়ার পর কোচিং পেশায় শোয়েবকে দেখা যায়নি তেমন। ধারাভাষ্য এবং নিজের ইউটিউবে বিশ্লেষণ করতেই দেখা যায় তাকে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্রুততম বলের বিশ্বরেকর্ডটি গত দুই দশক ধরে নিজের দখলে রেখেছেন শোয়েব আখতার। ২০০৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ঘণ্টায় ১৬১.৩ কিলোমিটার গতিতে বল করে তিনি যে ইতিহাস গড়েছিলেন, তা আজও অক্ষত। তবে ‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’ খ্যাত এই তারকা চান, তার এই দীর্ঘদিনের রেকর্ডটি ভাঙুক বাংলাদেশের স্পিড স্টার তাসকিন আহমেদের হাতে। সরাসরি সাইনে এবার তাসকিনকে যুক্ত করেছে ঢাকা। এবার ঢাকা ক্যাপিটালসের মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন শোয়েব আখতার। এ উপলক্ষে বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন তিনি। এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের রেকর্ডের প্রসঙ্গ উঠলে শোয়েব বলেন, তাসকিন যদি তাঁর গতির রেকর্ড ভেঙে দিতে পারেন, তবে সেটাই হবে তাঁর জন্য সবচেয়ে আনন্দের বিষয়। ঢাকা ক্যাপিটালসের পেস ইউনিটে তাসকিনের সঙ্গে রয়েছেন তরুণ পেসার মারুফ মৃধাও। শোয়েবের উপস্থিতি এই দুই পেসারের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে বলে মনে করছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা। সংবাদ সম্মেলনে তরুণ পেসারদের উদ্দেশে নিজের বোলিং দর্শনও তুলে ধরেন শোয়েব। তিনি বলেন, ‘একজন ফাস্ট বোলারের উচিত নিজের রানআপ, স্টাইল এবং প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করা। নিজেকে উজাড় করে দিয়ে দর্শকদের রোমাঞ্চিত করাই ফাস্ট বোলারের কাজ।’ তবে গতির ঝড়ের সঙ্গে দায়িত্বশীলতার কথাও মনে করিয়ে দেন এই স্পিড স্টার। তাঁর মতে, পেসারদের লক্ষ্য হওয়া উচিত ব্যাটসম্যানকে আঘাত করা নয়, বরং উইকেট শিকার করা। এ প্রসঙ্গে নিজের ক্যারিয়ারের একটি আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন শোয়েব। তিনি জানান, ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটার শচীন টেন্ডুলকার তাঁর বলে আঘাত পেয়েছিলেন, যা আজও তাকে মানসিকভাবে পীড়া দেয়। তাই তরুণদের প্রতি তাঁর পরামর্শÑআগ্রাসন থাকুক, তবে তা যেন নিয়ন্ত্রণহীন না হয়। হুট করে বাংলাদেশে এসে ঢাকার দায়িত্ব কেন নিলেন? উত্তরটা তার মুখ থেকেই শুনুন, ‘আমি সবসময় এই দেশকে ভালোবাসি এবং দীর্ঘদিন ধরে এখানে আসতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পারিনি। বাংলাদেশের মানুষের প্রতি আমার অগাধ ভালোবাসা রয়েছে এবং সারা জীবন আপনাদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা আমি পেয়েছি, তা আমার কাছে অনেক বড় কিছু। ধন্যবাদ। আমি এখানে আসতে পেরে সত্যিই আনন্দিত।’ বিপিএল নিয়ে শোয়েব আরো যোগ করেন, ‘আমি এর আগে কখনো বিপিএলের অংশ ছিলাম না, তবে শুনেছি এটি খুব ভালো চলছে। অবশেষে, আমার এখানে আসার এবং এর অংশ হওয়ার সুযোগ হলো। আমি আমার শেখা জ্ঞানগুলো, বিশেষ করে ফাস্ট বোলিং সম্পর্কে, খেলোয়াড়দের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই, তাদের অনুপ্রাণিত করতে চাই, ম্যাচ জেতার কিছু কৌশল শিখিয়ে দিতে চাই এবং তাদের মানসিকতাকে উন্নত করতে চাই।’ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬১.৩৭ কিলোমিটার গতির বলের মালিক শোয়েব।

প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের জন্য তিনি ছিলেন হুমকির কারণ। পেস বোলিংয়ের যে ভাষা, যে মনোভাব তা সবটুকুই ছিল শোয়েবের বোলিংয়ে। বাংলাদেশের পেস বোলিংয়েও বর্তমান সময়ে সেই একই তেজ, নিবেদন দেখতে পান শোয়েব, ‘পেস ব্যাটারি এখন বেশ ভালো দেখাচ্ছে।’