দুই ওপেনার ১২৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুুটিতে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জয়ের ধারায় ফিরল চট্টগ্রাম রয়্যালস। লিগ পর্বে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে গতকাল চট্টগ্রাম ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে ঢাকা ক্যাপিটালসকে। এবারের বিপিএলে এই প্রথম কোন দল ১০ উইকেটের ব্যবধানে ম্যাচ জিতল। সব মিলিয়ে বিপিএলের ইতিহাসে পঞ্চম ১০ উইকেটে জয়। এই জয়ে তিন ম্যাচে সিলেট টাইটান্সের সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে নেট রানরেটে এগিয়ে থাকায় পয়েন্ট টেবিলের ৪ নম্বর থেকে দুইয়ে উঠলো চট্টগ্রাম। চার ম্যাচে ৩ জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। অন্যদিকে ৩ ম্যাচে দুই ম্যাচে হেরে ২ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ নম্বরে নেমে গেল ঢাকা ক্যাপিটালস।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে চট্টগ্রাম রয়্যালসের বোলারদের তোপে ১২ ওভারে ৬৬ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারায় পড়ে যায় ঢাকা। ঢাকার দুই ওপেনার সাইফ হাসানকে ১ ও জুবায়েদ আকবরিকে ২ রানে শিকার করেন চট্টগ্রামের পেসার শরিফুল ইসলাম। এরপর উসমান খানকে ২১ রানে, অধিনায়ক মোহাম্মদ মিথুনকে ৮ রানে এবং ইমাদ ওয়াসিমকে ৯ রানে বিদায় দেন চট্টগ্রামের স্পিনার তানভীর ইসলাম। শরিফুল ও তানভীরের সাথে উইকেট শিকারে মাতেন অধিনায়ক মাহেদি হাসান। ঢাকার দুই মিডল অর্ডার ব্যাটার শামিম হোসেনকে ৪ ও সাব্বির রহমানকে ৯ রানে আউট করেন মাহেদি। উইকেট পতন ঠেকিয়ে অষ্টম উইকেটে ৩৬ বলে ৪৮ রানের জুটি ঢাকার রান ১শ পার করেন নাসির হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। ২টি চারে ১৭ রান করা নাসিরকে শিকার করে জুটি ভাঙ্গেন শরিফুল। দলীয় ১১৪ রানে অষ্টম ব্যাটার হিসেবে নাসির ফেরার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি ঢাকা। ১৯.৪ ওভারে ১২২ রানে অলআউট হয় তারা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন সাইফুদ্দিন। তার ২৫ বলের অনবদ্য ইনিংসে ৪টি চার ছিল।
চট্টগ্রামের শরিফুল ও তানভীর ৩টি করে এবং মাহেদি হাসান ২টি উইকেট নেন। ১২৩ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে পাওয়ার প্লেতে ৪৭ রান তুলেন চট্টগ্রামের দুই ওপেনার মোহাম্মদ নাইম ও এডাম রসিংটন। ইনিংসের ১১তম ওভারে দলের রান ১শ ও নিজেদের হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন নাইম ও রসিংটন। নাইম ৩৪ বলে টি-টোয়েন্টিতে ১৬তম এবং রসিংটন ৩২ বলে ১৯তম হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান। জোড়া হাফ-সেঞ্চুরির পর দ্রুত চট্টগ্রামের জয় নিশ্চিত করেন নাইম ও রসিংটন। ১২৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৪৪ বল বাকী থাকতে চট্টগ্রামের জয় নিশ্চিত করেন তারা। এবারের বিপিএল উদ্বোধনী জুটিতে প্রথম এবং সব মিলিয়ে তৃতীয় শতরানের জুটি এটি। ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় নাইম ৪০ বলে ৫৪ এবং ৯ চার ও ২ ছক্কায় ৩৬ বলে ৬০ রানে অপরাজিত থাকেন রসিংটন। ম্যাচ সেরা হন রসিংটন। ৩ ম্যাচে ২ জয় ও ১ হারে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠল চট্টগ্রাম। সমানসংখ্যক ম্যাচে ১ জয় ও ২ হারে ২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চম স্থানে নেমে গেছে ঢাকা। ঢাকা ক্যাপিটালসকে গুড়িয়ে দেয়ার ম্যাচে বড় ভূমিকা রেখেছেন চট্টগ্রামের অ্যাডাম রশিংটন। ব্যাট হাতে ৩৬ বলে ৯ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় অপরাজিত ৬০ রানের পাশাপাশি রাজধানীর দলটিকে অল্পতে আটকানোর ক্ষেত্রে উইকেটের পিছনেও বড় ভূমিকা রেখেছেন চট্টগ্রামের এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। ম্যাচে মোট পাঁচটি ডিসমিসালে অবদান রেখেছেন ৩২ বছর বয়সী রশিংটন।
এই ইংলিশ ক্রিকেটার ঢাকার ইনিংসে একটি রান আউটের পাশাপাশি স্ট্যাম্পিং করেছেন চারটি। তাতেই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এক ম্যাচে সর্বোচ্চ স্ট্যাম্পিংয়ের বিশ্বরেকর্ড যৌথভাবে নিজের নাম লিখিয়েছেন তিনি। রশিংটনের আগে এক ম্যাচে চারটি করে স্ট্যাম্পিং করেছেন আরও ছয় জন উইকেটরক্ষক। তারা হলেন- টনি ফ্রোস্ট, দিনেশ কার্তিক, কামরান আকমল, ধীমান ঘোষ, দিনেশ রামদিন ও লাহিরু দাওয়াতাগে। এই তালিকার নতুন সংযোজন হলেন অ্যাডাম রশিংটন।