নিরাপত্তা ইস্যুতে এবার ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ। এরপর বাংলাদেশের সাংবাদিকদের বিশ্বকাপ কাভার করার অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল করে আইসিসি। তবে এটার কারণ জানতে চেয়ে আইসিসিকে মেইল করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। গতকাল সিসিডিএম চ্যালেঞ্জ টি-টোয়েন্টি কাপের উদ্বোধনী দিনে খেলা দেখতে গিয়ে এটা নিশ্চিত করেছেন বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন। আমজাদ হোসেন বলেন, ‘এটার তো সিদ্ধান্তটা এসেছে, এরপর আমরা জানতে চেয়েছি, ব্যাখা চেয়েছি। ওটা ভিতরকার গোপনীয় বিষয় কিন্তু আমরা জানতে চেয়েছি।’ অ্যাক্রিডিটেশন বাতিল করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ নয় যে (তার দেশ) অংশগ্রহণ করতেই হবে। (২০১৩) চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশ অংশ নেয়নি তারপরও আমাদের সাংবাদিকরা সেখানে গিয়েছিলেন কাভার করতে। এছাড়া ফিফা বিশ্বকাপে আমাদের দল কখনো অংশ নেয়নি কিন্তু সাংবাদিকরা নিয়মিত যান কাভার করতে। পূর্ণ সদস্য দেশ হিসেবে এটা (কাভার) করতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু এটা তাদের সিদ্ধান্ত, আমাদের আসলেই কিছু করার নেই। তবে আমরা মনে করি আমাদের গণমাধ্যমকর্মীদের সেই সুযোগটা দেয়া উচিত ছিল। আমরা তৃতীয় সর্বোচ্চ ভিউয়ার, আমরা না খেললেও বিশ্বকাপ তো হচ্ছে। সেক্ষেত্রে আমাদের গণমাধ্যমকর্মীরা সেটা আমাদের দর্শকদের কাছে উপস্থাপন করতে পারতেন।’ বিশ্বকাপ না খেলা আর অ্যাক্রিডিটেশন এক বিষয় নয় বলেও মনে করেন আমজাদ।

তিনি বলেন, আমরা বিশ্বকাপে শর্ত দিয়েছে নিরাপত্তা ইস্যুতে যে আমরা একটা নির্দিষ্ট ভেন্যুতে (দেশ) খেলতে পারবো না, এমন নয় পুরো বিশ্বকাপেই খেলবো না। আমাদের বিকল্প অনুরোধ ছিল এটা পূর্ণ করা হয়নি। এরপর সেখান থেকে আমরা সরে এসেছি। এর সঙ্গে অন্য কিছু মেলানো ঠিক হবে না।’ ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিসিবি ও আইসিসির মধ্যে তৈরি হওয়া টানাপোড়েনেরই প্রতিফলন ঘটেছে এই সিদ্ধান্তে। বিশেষ করে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ দলের ভারত সফরে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের পর থেকেই দুই পক্ষের সম্পর্কে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন বাতিলের বিষয়টি অনেকেই ‘প্রতিশোধমূলক’ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন, যদিও আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে এমন কিছু স্বীকার করেনি। আইসিসির সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আমজাদ হোসেন অতীতের একাধিক আন্তর্জাতিক আসরের উদাহরণ দেন।

তিনি বলেন, ২০১৩ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে বাংলাদেশ দল অংশ নেয়নি, কিন্তু আমাদের গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। একইভাবে ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কখনো খেলেনি, তবুও আমরা ফিফার সদস্য দেশ হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেছি। তার মতে, কোনো দল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ না করলেও সে দেশের গণমাধ্যমকে আন্তর্জাতিক আসর কাভার করার সুযোগ দেয়ার নজির রয়েছে। এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে দেয়া বক্তব্যে আইসিসির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সাংবাদিকদের ভিসা ও অ্যাক্রিডিটেশন না দেয়ার পেছনে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত বিষয়ই প্রধান কারণ। ওই কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ সরকার বারবার বলেছে যে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ভারতে যাওয়া নিরাপদ নয়। এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই ভিসা ও অ্যাক্রিডিটেশন দেয়া হয়নি। এই বক্তব্য ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, কারণ বিসিবির সিদ্ধান্ত আর সরকারের বক্তব্য এই দুইয়ের দায় গণমাধ্যমের ওপর চাপানো কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর আগে গত শনিবার আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়, আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে বিসিবি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে (সিএএস) যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। তবুও বিসিবির দাবি, দল অংশগ্রহণ না করলেও সাংবাদিকদের টুর্নামেন্ট কাভার করার সুযোগ দেয়া উচিত ছিল।

আমজাদ হোসেন বলেন, পূর্ণ সদস্য হিসেবে আমাদের সুযোগ থাকলে ভালো হতো। তবে সিদ্ধান্ত যেহেতু ওনাদের, এখানে আমাদের কিছু বলার নেই। কিন্তু আমরা মনে করি যেকোনো পরিস্থিতিতেই আমাদের সাংবাদিকদের সুযোগ পাওয়া উচিত ছিল। তিনি আরও বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার বারোটি পূর্ণ সদস্য দেশের মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম দর্শক দেশ। আমাদের দেশ বিশ্বকাপে না খেললেও, বিশ্ব আসর হচ্ছে এবং আমাদের গণমাধ্যমকর্মীরা সেটি দেশের দর্শকদের কাছে তুলে ধরতে পারতেন। এদিকে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের একযোগে অ্যাক্রিডিটেশন বাতিলের ঘটনায় আইসিসির নিরপেক্ষতা ও গণমাধ্যমবান্ধব নীতির বিষয়টি নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

এখন বিসিবির ব্যাখ্যা চাওয়ার জবাবে আইসিসি কী অবস্থান নেয়, সেটির দিকেই তাকিয়ে আছে দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও গণমাধ্যম। তবে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের নিয়ে নিজেদের অবস্থানে নমনীয় হচ্ছে আইসিসি। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, বাংলাদেশি সংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশনের অনুরোধ বাতিল হয়েছে দাবি করার পর আবেদন প্রক্রিয়া বদলাচ্ছে আইসিসি। সংস্থাটির সূত্র বলছে- ‘আবেদনের সংখ্যা ও সূচিতে পরিবর্তন আনার পর থেকে পুনরায় (অ্যাক্রেডিটেশন) প্রক্রিয়া চলছে। যথাক্রমে অ্যাক্রেডিটেশন তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।’