এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলছে না বাংলাদেশ। ভারতের মাটিতে না খেলার ব্যাপারে অনড় ছিল তারা, বিপরীতে নিজেদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কা সরিয়ে নেওয়ার আহবান জানালেও মানেনি আইসিসি। বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাটি বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে যুক্ত করে। তবে বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে ভারতের বিপক্ষে না খেলার ঘোষণা দেয় পাকিস্তান। সেই ইস্যুতে আইসিসি ও পিসিবির মাঝে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে। এরই মাঝে জানা গেছে, পিসিবি এবং বিসিবির সঙ্গে গতকাল বৈঠক করে আইসিসি। সেখানে অংশ নিতে শনিবার দিবাগত রাত ১টায় লাহোরে যান বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। শনিবার রাত একটায় বিসিবির পরিচালকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সভাপতি আমিনুল ইসলামের জরুরি বার্তা। পাকিস্তানের বিমানে ওঠার অপেক্ষায় তখন তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। কিন্তু হঠাৎ কেন পাকিস্তানে যাচ্ছেন বিসিবি সভাপতি? পরিচালকদের উদ্দেশে দেওয়া বার্তায় সেটি পরিষ্কার করেননি আমিনুলও। শুধু জানিয়েছেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে না খেলা নিয়ে তিনি আইসিসির সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মধ্যে আছেন। তারই অংশ হিসেবে লাহোরে যাচ্ছেন আইসিসি ও পিসিবির সঙ্গে সভা করতে। আমিনুলের বার্তা অনুযায়ী পাকিস্তানে যেতে হবে, সেটাই তিনি নিশ্চিত হয়েছেন কাল রাত সাড়ে ১১টার দিকে। রাত ১টার দিকে বোর্ড পরিচালকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে পাঠানো বার্তায় আমিনুল লিখেন, ‘মাত্র ৯০ মিনিট আগে আমার এই সফরটি নিশ্চিত হয়েছে। আমি এখন বিমানবন্দরে। সময়স্বল্পতার কারণে কাউকে কল করা সম্ভব হয়নি। মিটিং হবে লাহোরের সময় আগামীকাল (আজ) বিকাল ৪টায়। ফিরব ৯ তারিখ সন্ধ্যায়।’ ওদিকে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রবিবার ভোরে লাহোরে পৌঁছেছেন আমিনুল। সেখানে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালমান নাসির তাঁকে স্বাগত জানান। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের ফেসবুকে আমিনুলকে স্বাগত জানানোর একটা ভিডিও–ও পোস্ট করা হয়েছে, যেটির ক্যাপশনে সালমান নাসিরকে উদ্ধৃত করে লেখা হয়েছে, ‘সম্মানিত অতিথিকে আমরা আন্তরিকভাবে পাকিস্তানে স্বাগত জানিয়েছি।’ লাহোরে আইসিসি ও পিসিবির সভায় যোগ দেওয়া ছাড়াও পিসিবিপ্রধান মহসিন নাকভির সঙ্গে আলাদা একটি সভা করার কথা আমিনুলের। পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র এই প্রতিবেদককে জানিয়েছে, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তানের না খেলার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ নিয়ে আইসিসির একটি প্রতিনিধিদলের লাহোরে আসার কথা। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা। যদিও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সভা শুরু হয়নি বলে জানা গেছে। সভায় আইসিসির পক্ষে অংশ নেওয়ার কথা ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজার।

ব্যাখ্যা চেয়েছে আইসিসি

নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে বিশ্বকাপ খেলছে না বাংলাদেশ, বিকল্প দল নিয়েছে আইসিসি। প্রতিবাদে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বয়কট করেছে পাকিস্তান। পিসিবি আইসিসিকে কারণ হিসেবে জানিয়েছে, ফোর্স ম্যাজিউর ধারা কাজে লাগিয়ে তারা ম্যাচ খেলবে না। এদিকে ম্যাচ বর্জনের ক্ষেত্রে ফোর্স ম্যাজিউর ধারা প্রয়োগের পেছনে তাদের যুক্তি ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছে ক্রিকেটের অভিভাবক সং¯’া আইসিসি। ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হওয়ার কথা। চলতি মাসের শুরুতে পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী শাহাবাজ শরীফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, ম্যাচটি খেলবে না পাকিস্তান। পরে বলেন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে সমর্থন দিতেই নেয়া হয়েছে। পিসিবির কাছে কারণ জানতে চাইলে, আইসিসিকে তারা জানায় সরকারের নির্দেশনায় এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যা দেশটির ক্রিকেট বোর্ড ফোর্স ম্যাজিউর ধারায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। ফোর্স ম্যাজিউর চুক্তি আইন মূলত যেকোনো বিষয়ে একটি পক্ষকে দায় বা বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত করে, যখন কোন অস্বাভাবিক ঘটনা বা পরি¯ি’তি পক্ষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে। যেমন যুদ্ধ, ধর্মঘট, দাঙ্গা, অপরাধ, মহামারী বা আকস্মিক আইনি পরিবর্তন, এক বা উভয় পক্ষকে চুক্তির অধীনে তাদের বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে বাধা দেয়। আইসিসির গঠনতন্ত্রে ফোর্স ম্যাজিউরে যুদ্ধ, সন্ত্রাসী হামলা, প্রাক...তিক দুর্যোগ, এমনকি সরকারের নির্দেশনা পালনের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত। ভারত ম্যাচ বর্জনে পিসিবি সরকারের নির্দেশনাকে ফোর্স ম্যাজিউর হিসেবে দেখিয়েছে। আইসিসি অবশ্য পিসিবিকে দেয়া মেইলে উল্লেখ করেছে, কোন কোন শর্তে বৈধভাবে ফোর্স ম্যাজিউর ধারা প্রয়োগ করা যায়। ম্যাচে না নামার জন্য কী ধরনের প্রমাণ প্রয়োজন, এবং এর ফলে কী ধরনের ক্রীড়া, বাণিজ্যিক ও শাসনগত প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া আইসিসি পিসিবিকে জানিয়েছে, ম্যাচ বর্জন কার্যকর হলে তারা সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে।

আইসিসি জানিয়েছে তারা সংঘাত এড়াতে চায়, তবে তাদের সংবিধান অনুযায়ী গুরুতর দায়িত্ব লঙ্ঘন হলে পিসিবির বোর্ড সদস্যপদ ¯’গিত বা বাতিল করার মতো চরম পদক্ষেপ আসতে পারে। পিসিবি আইসিসিকে মনে করিয়ে দিয়েছে, এক বিরোধে পিসিবি ও ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) মধ্যকার মামলা আইসিসির ডিসপিউট রেজ্যুলশন কমিটিতে গিয়েছিল। সে মামলাটি ছিল দ্বিপাক্ষিক, ২০১৪ সালের একটি সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলার কথা ছিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের। বিসিসিআই তা না খেলায় পিসিবি ক্ষতিপূরণ চেয়ে আইসিসির ডিসপিউজ রেজ্যুলশন কমিটি পর্যন্ত গিয়েছিল। সেই মামলায় পিসিবি হেরে যায়। বিসিসিআইয়ের পক্ষে রায় হয়েছিল সরকারের অনুমতি না থাকার যুক্তিতে।পিসিবি এবার সেটিকে নজির হিসেবে দেখাচ্ছে।