জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মান উজ্জ্বল করা ক্রীড়াবিদদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সুরক্ষার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সফল ক্রীড়াবিদদের জন্য মাসিক সর্বোচ্চ দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ভাতা নির্ধারণের একটি খাসড়া প্রস্তাব প্রস্তুত করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। দীর্ঘদিন ধরেই ক্রিকেট ও ফুটবলের বাইরে অন্যান্য খেলার অ্যাথলেটরা চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করছেন। দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক পদক জিতলেও অনেকেরই নিয়মিত আয়ের কোনো সুনির্দিষ্ট উৎস থাকে না।এই রূঢ় বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের একটি স্থায়ী আর্থিক কাঠামোর আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন। তার সরাসরি তত্ত্বাবধানেই এই খসড়া প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে খেলোয়াড়দের জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘বেতন কাঠামো’ চালুর চিন্তা করা হয়েছিল। তবে বেতন হিসেবে অর্থ প্রদান করলে খেলোয়াড়দের আয়ের বড় একটি অংশ আয়করের (ইনকাম ট্যাক্স) আওতায় চলে যেত। ক্রীড়াবিদদের স্বার্থ রক্ষা এবং তাদের হাতে পুরো অর্থ প্ৗেছে দেয়ার লক্ষ্যেই সেটিকে ‘ভাতা’ হিসেবে প্রস্তাব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের তৈরি করা এই খসড়ায় শুধু ভাতার অঙ্কই নয়, বরং কারা এই সুবিধার আওতায় আসবেন তার সুনির্দিষ্ট মানদণ্ডও উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে সাফল্যের ধরন অনুযায়ী খেলোয়াড়দের শ্রেণিবিন্যাস এবং একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মাধ্যমে স্বচ্ছ বাছাই প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে এতে। খসড়া অনুযায়ী আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়াবিদদের জন্য মাসিক দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ভাতার সুপারিশ থাকলেও সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে, সরকার প্রধান তারেক রহমান ক্রীড়াবিদদের সামগ্রিক কল্যাণে অত্যন্ত ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছেন, যা এই প্রস্তাবটি দ্রুত বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।