বিপিএলের শিরোপার স্বাদ নেয়া হলো না চট্টগ্রাম রয়্যালসের। দ্বাদশ আসরের শিরোপা জয় করেছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। ফাইনাল ম্যাচে চট্টগ্রামকে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তুলেছে রাজশাহী। গতকাল ফাইনাল ম্যাচে রাজশাহী ৬৩ রানে হারিয়েছে চট্টগ্রামকে। এটা রাজশাহীর দ্বিতীয় বিপিএল শিরোপা। ফাইনাল ম্যাচে আগে ব্যাট করে তানজিদ তামিমের সেঞ্চুরিতে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ৪ উইকেটে করে ১৭৪ রান। জয়ের জন্য চট্টগ্রামের সামনে টার্গেট ছিল ১৭৫ রান। ব্যাট করতে নেমে চট্টগ্রাম ১৭.৫ ওভারে ১১১ রান করলে রাজশাহী জয় পায় ৬৩ রানে। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের ফাইনালে আগে ব্যাটিং করে ৪ উইকেটে ১৭৪ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়ে রাজশাহী। দলের পক্ষে সেঞ্চুরি করেছেন তানজিদ হাসান তামিম। ফাইনাল ম্যাচে চট্টগ্রাম বোলারদের কচুকাটা করেছেন তিনি। মেরেছেন একের পর এক বিশাল ছক্কা। চার-ছক্কার বন্যা বইয়ে তুলে নেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেওমুংরি। আর তাতে ফাইনালের মঞ্চে রাজশাহী পায় বড় সংগ্রহ। বিধ্বংসী সেঞ্চুরি করেছেন ওপেনার তামিম। ৬২ বলের ইনিংসে ৬টি চার ও ৭টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। চট্টগ্রামের হয়ে ৪ ওভারে ২০ রান খরচায় ২ উইকেট নেন মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ।
ফাইনালে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় চট্টগ্রাম রয়্যালস। ব্যাট হাতে নেমে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার শাহিবজাদা ফারহান ও তানজিদ হাসান। পাওয়ার প্লেতে ৪০ রান তোলেন তারা। সপ্তম ওভারে দলের রান পঞ্চাশ পূর্ণ করেন এই দুই ওপেনার। দশম ওভারে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ২১তম হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তানজিদ। এজন্য ২৯ বল খেলেন তিনি। ১১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে দলীয় ৮৩ রানে রাজশাহীর উদ্বোধনী ভাঙেন চট্টগ্রামের পেসার মুকিদুল ইসলাম। ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩০ বলে ৩০ রান করা ফারহানকে শিকার করেন মুকিদুল। এরপর কেন উইলিয়ামসনকে নিয়ে ৩২ বলে ৪৭ রান যোগ করেন তানজিদ। জুটিতে ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৫ বলে ২৪ রান করা উইলিয়ামসনকে থামান চট্টগ্রামের পেসার শরিফুল ইসলাম। দলীয় ১৩০ রানে উইলিয়ামসন ফেরার পর ক্রিজে তানজিদের সঙ্গী হন জেমি নিশাম। তাদের ১৯ বলে ৩৩ রানের জুটিতে টি-টোয়েন্টিতে তৃতীয় সেঞ্চুরির দেখা পান ৬১ বল খেলা তানজিদ। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সবগুলো সেঞ্চুরিই বিপিএলের মঞ্চে করেছেন তিনি। যা বাংলাদেশের ব্যাটারদের মধ্যে বিপিএলে সর্বোচ্চ। তৃতীয় ব্যটার হিসেবে বিপিএলের ফাইনালে সেঞ্চুরি করলেন তানজিদ। এর আগে ২০১৭ সালে রংপুর রাইডার্সের হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল এবং ২০১৯ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসের হয়ে সেঞ্চুরি করেছিলেন তামিম ইকবাল। শেষ পর্যন্ত মুকিদুলের বলে আউট হন তানজিদ। ৬২ বল খেলে ৬টি চার ও ৭টি ছক্কায় ১০০ রান করেন এই বাঁ-হাতি ব্যাটার। ইনিংসের শেষ দিকে নিশাম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৭ বলে ১১ রানের জুটিতে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭৪ রানের সংগ্রহ পায় রাজশাহী। বল হাতে চট্টগ্রামের শরিফুল ও মুকিদুল ২টি করে উইকেট নেন।
জয়ের জন্য চট্টগ্রামের সামনে টার্গেট ছিল ১৭৫ রান। বড় রান তাড়ায় শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি চট্টগ্রাম রয়্যালসের। পাওয়ার প্লেতে তারা হারায় তিন উইকেট। ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১৮ রানে প্রথম উইকেট হারায় দলটি। মাত্র ৯ রান করে আউট হন মোহাম্মদ নাঈম। বলের লাইন মিস করে বোল্ড হয়ে যান ওপেনার নাঈম। ১০ বলে দুই চারে তিনি করেন ৯ রান। দলীয় ১৮ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় চট্টগ্রাম। এবার রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন মাহমুদুল হাসান জয়। এক বল পর ফ্লিক করে তানজিদ হাসানের হাতে ধরা পড়েন জয়। ২ বলে তিনি করেন শূন্য। তৃতীয় ওভারে তিন বলের মধ্যে মোহাম্মদ নাঈম শেখ ও মাহমুদুল হাসান জয়কে ফিরিয়ে দিলেন বিনুরা ফার্নান্দো। মোহাম্মদ রুবেলের জায়গায় একাদশে ফেরা হাসান মুরাদ আক্রমণে এলেন পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে। বাঁহাতি স্পিনারকে ছক্কায় ওড়ানোর চেষ্টায় সীমানায় ধরা পড়লেন হাসান নাওয়াজ। নিজের জোনেও বল পেয়েছিলেন নাওয়াজ। কিন্তু টাইমিং করতে পারেননি তিনি। কিছুটা এগিয়ে এসে ক্যাচ নেন এসএম মেহরব। ৭ বলে একটি করে ছক্কা ও চারে ১১ রান করেন নাওয়াজ। ফলে ৩৯ রানে প্রথম তিন উইকেট হারিয়ে প্রথমেই চাপে পড়ে চট্টগ্রাম। আর ৬ ওভারে চট্টগ্রামের রান ছিল ৩ উইকেটে ৪১। এখানেই শেষ নয়। দলীয় ৬৪ রানে দলটি হারায় চতুর্থ উইকেট। মাত্র ১১ রান করে আউট হন জাহিদুজ্জামান। দলীয় ৭২ রানে পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার আগে মেহেদী হাসান আউট হন ৪ রানে। দলের ধারাবাহিক উইকেট পতনেরর মধ্যে টিকে থেকে দলকে এগিয়ে নিতে চেস্টা করেছিলেন ওপেনার মির্জা বেগ। তবে দলীয় ৯২ রানে আউট হন তিনিও। আউট হওয়ার আগে মির্জা করেন ৩৯ রান। মির্জা আউট হয়োর পর দলের পরাজয় অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়। কারণ শতরানের আগেই নেই দলের ৬ উইকেট। তবে ব্যাট করতে নেমে আসিফ আলী দলকে শতরানে নিয়ে শক্ত হাতে ব্যাট চালিয়েছেন। আসিফ আলী দলীয় ১০৯ রানে আউট হন ২১ রান করে। শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রাম ১১১ রানে অলআউট হলে রাজশাহী জয় পায় ৬৩ রানে।