ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসন থেকে নির্বাচিত হতে না পারলেও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক ফুটবলার ও বিএনপি নেতা আমিনুল হক। এই জন্য আমিনুলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আওয়াল। সাবেক তারকা ক্রীড়াবিদ ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক হওয়ায় ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট সবাই বেশ খুশি। আমিনুলের মাধ্যমে ক্রীড়াঙ্গনের ইতিবাচক পরিবর্তন চান ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে আমিনুল হককে অভিনন্দন জানিয়ে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, আমিনুল হক ক্রীড়াঙ্গনে নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের অনেক সমর্থক ও তরুণ ক্রীড়াবিদকে অনুপ্রাণিত করেছেন। বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের প্রাক্তন অধিনায়ক হিসেবে তার অভিজ্ঞতা দেশের ক্রীড়া প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বলেন, আমিনুল হকের মতো একজন বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্বকে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেখার বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় ফুটবল দলকে গর্বের সঙ্গে নেতৃত্ব দেয়ার অভিজ্ঞতা থাকার কারণে তিনি ক্রীড়াবিদদের বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ ও আকাক্সক্ষা ভালোভাবে বোঝেন। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, একজন ক্রীড়াবিদ হিসেবে তার অভিজ্ঞতা দেশের বিভিন্ন ক্রীড়া ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিসিবি নতুন প্রতিমন্ত্রী এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। যেটার মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের জন্য ধারাবাহিক উন্নয়ন ও সুযোগ হবে। উপমহাদেশের প্রথম গ্র্যান্ডমাস্টার ও দেশের অন্যতম কিংবদন্তী ক্রীড়াবিদ নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, ‘আমিনুলকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী করায় প্রথমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ। কারণ তিনি ক্রীড়াঙ্গনে সবচেয়ে যোগ্য লোককে দায়িত্ব দিয়েছেন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সাদেক হোসেন খোকা ছাড়া ক্রীড়াঙ্গনের কোনো লোক ক্রীড়াঙ্গনে সেভাবে দায়িত্ব নেয়নি এবং কাজও করেনি। আরিফ খান জয় উপমন্ত্রী থাকলেও সবাইকে হতাশ করেছেন। আমি চাই আমিনুল দেশের ইতিহাসে সেরা ক্রীড়া মন্ত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে।’
বাংলাদেশে সরকারের মেয়াদ পাঁচ বছর। এই পাঁচ বছরের কর্মকাণ্ডের পরই সাফল্য-ব্যর্থতার খতিয়ান হয়। এই পাঁচ বছরে আমিনুল ক্রীড়াঙ্গনের জন্য এমন কিছু করবেন যা তাকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখবে বলে বিশ্বাস নিয়াজের, ‘আমিনুলের একটা ভিশন রয়েছে। ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে তিনি অনেক দিন থেকেই কাজ করছেন। কোথায় সমস্যা, কোনটা সম্ভাবনা সবই তিনি ভালোভাবে জানেন। আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী আমিনুল সেরা মন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা রাখেন।’ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক কোচ শফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরেই আমিনুলকে চেনেন। তার কোচিংয়ে অনেক বছরই খেলেছেন আমিনুল। ক্রীড়াঙ্গন থেকে রাজনীতির ময়দানেও অনেক কষ্ট করেছেন জাতীয় দলের সাবেক গোলরক্ষক। সেই কষ্টের ফসল পেয়েছেন তিনি। তাই আমিনুলের কাছে ক্রীড়াঙ্গনেও বিপ্লব প্রত্যাশ্যা মানিকের, ‘আমিনুল এই মুহূর্তে ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবক হওয়ার জন্য সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন গতানুগতিকভাবে চলছে অনেক দিন থেকে। ঝিমিয়ে পড়া এই ক্রীড়াঙ্গনে একটি বিপ্লব বা পরিবর্তন দরকার। আশা করি আমিনুল সেটা করতে পারবে।’ আমিনুলের এক সময়ের মাঠের সতীর্থ ও সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ময়দানের অন্যতম সঙ্গী সাবেক জাতীয় ফুটবলার জাহেদ পারভেজ চৌধুরী।
আমিনুল মন্ত্রীত্ব পাওয়ায় তিনি বলেন, ‘ভাই অত্যন্ত পরিশ্রমী। বিশেষ করে দল ও ক্রীড়াঙ্গনের জন্য নিবেদিতপ্রাণ। বিএনপির যে ভিশন সেটা তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত। তিনি সেটা বাস্তবায়ন করে জেলা-বিভাগীয় পর্যায়ের ক্রীড়াঙ্গন সচল রাখবেন।’ আমিনুলের একটা ভিশন রয়েছে। ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে তিনি অনেক দিন থেকেই কাজ করছেন। কোথায় সমস্যা, কোনটা সম্ভাবনা সবই তিনি ভালোভাবে জানেন। আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী আমিনুল সেরা মন্ত্রী হওয়ার যোগ্যতা রাখেন।