বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পর এখন আইসিসির জবাবের জন্য অপেক্ষা করছে বিসিবি। আইসিসির পক্ষ থেকে শিগগিরই বিসিবিকে সভার আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানালেন, বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে শিগগিরই বিসিবির সঙ্গে সভায় বসবে আইসিসি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শোক জানাতে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় গুলশানের বিএনপির কার্যালয়ে গিয়েছিলেন বিসিবি সভাপতিসহ বেশ কজন পরিচালক। সেখানে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আমিনুল তুলে ধরেন ভারতে যেতে না চাওয়ার পেছনে তাদের ভাবনা। তিনি বলেন ‘ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালকদের নিয়ে আমরা দুটি সভা করেছি সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে। সিদ্ধান্তগুলি আপনারা এর মধ্যেই জানেন যে, আমরা নিরাপদ অনুভব করছি না, আমাদের দল এই মুহূর্তে ভারতে গিয়ে খেলুক। এজন্য আমরা আইসিসিকে চিঠি লিখেছি এবং সেটায় উল্লেখ করেছি, আমরা কী করতে চাচ্ছি। কারণ আমাদের কাছে মনে হয়েছে, নিরাপত্তা একটা বড় কনসার্ন।’ যে প্রক্রিয়ায় মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, বোর্ড কর্তারা সেটিকে অসম্মানজনক মনে করেছেন। বুলবুল বলেন, ‘মুস্তাফিজ আমাদের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। আমাদের ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলার। ক্রিকেটাররা যখন খেলতে যায়, তখন মানসম্মান নিয়ে ক্রিকেট খেলে। কাজেই ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তা যারা আছে, আমিসহ, আমরা এটাকে ভালোভাবে নেই না, যখন কোনো ক্রিকেটারকে কোনোভাবে অসম্মান করা হয়। এজন্য আমরা সবাই মর্মাহত।’ আইসিসি থেকে এখনও কোনো জবাব পায়নি বিসিবি। তবে দ্রুতই আলোচনার আশা করছেন বিসিবি সভাপতি। তিনি বলেন,‘তারা আমাদেরকে মিটিং করার জন্য বলবে খুব তাড়াতাড়ি। সেখানে আমাদের কথাগুলো আমরা প্রকাশ করব। তবে যে ই-মেইলটা আমরা পাঠিয়েছি, এটির জবাবের ওপর নির্ভর করবে, আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ কি নেব।’ আগামী অগাস্টে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসার কথা ভারতীয় দলের। সিরিজ হওয়ার কথা ছিল গত বছর, তবে তা পিছিয়ে দেয় ভারত। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই বছরও সিরিজটি ঝুলে গেছে নিশ্চিতভাবেই। বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও সিরিজে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটির গভীরে যেতে চাইলেন না বাংলাদেশ ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থার প্রধান। বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘দুই দেশের সিরিজ বা বিশ্বকাপে খেলা, এগুলো একটা ব্যাপার, আর বিশ্বকাপের নিরাপত্তা ইস্যু আরেকটি ব্যাপার। আপাতত বিশ্বকাপের ব্যাপার নিয়েই আমরা চিন্তা করছি।’ বিসিবি সভাপতি জানালেন, পুরো ব্যাপারটি নিয়ে ভারতীয় বোর্ডের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ হয়নি। বিশ্বকাপের আয়োজক আইসিসির কাছেই নিজেদের চাওয়া উপস্থাপন করেছেন তারা। বিসিবি সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ এ প্রসঙ্গে পাশ থেকে যোগ করলেন, ‘বিসিসিআই কিন্তু কেকেআরকে চিঠি দিয়েছে, আমরা এটার অংশ নই। কেকেআরকে তারা বলেছে মুস্তাফিজকে দলে না রাখতে। আমাদের বোর্ডকে কিছু জানায়নি। আমরা অত্যন্ত দুঃখিত যে, রাজনৈতিক কারণে একটা ছেলেকে, এত ভালো সামর্থ্যের একজন ক্রিকেটার, যে তার অনেক কিছু দেখাতে পারত সেটা করতে পারছে না আইপিএলে।’ ভারতীয় বোর্ডের নির্দেশ পেয়ে গত শনিবার কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে বাদ দেওয়া হয় মুস্তাফিজকে। পরদিন আইসিসিতে চিঠি পাঠিয়ে বিসিবি জানায়, আগামী মাসের বিশ্বকাপে খেলতে ভারতে যাবে না তারা। বাংলাদেশের ম্যাচগুলি যেন ভারতের বাইরে সরিয়ে নেয়া হয়। সোমবার তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে নিদের্শনা দেয়া হয়, আইপিএলের খেলা ও অনুষ্ঠান যেন বাংলাদেশে সম্প্রচার না করা হয়। আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ করা নিয়ে সরাসরি কিছু বলতে না চাইলেও সমর্থনের কথা বললেন আমিনুল। তিনি বলেন,‘এটা তো ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেট। ঘরোয়া ক্রিকেট দেখাবে বা না দেখাবে, এটা আমাদের সরকারের সিদ্ধান্ত। তথ্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমাদের এখানে কিছু বলার নেই। তবে এটা ঠিক, সরকার যে সিদ্ধান্ত নেয়, আমরা তা সমর্থন করি।’