বিপিএলের এবারের নিলামে নিবন্ধন করেছিলেন ১৪৭ জন স্থানীয় ক্রিকেটার। তাদের মধ্য থেকে দল পেয়েছেন ৭৩ জন। এ ছাড়া ২৬০ জন বিদেশি ক্রিকেটারকে নিলামে তোলা হয়েছিল। প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি বাধ্যতামূলত দু’জন করে বিদেশি ক্রিকেটার কিনেছে। তাতে সবমিলিয়ে নিলাম থেকে ১২ জন বিদেশি ক্রিকেটার দল পেয়েছেন। বিপিএলের নিলামে সব থেকে দামি ক্রিকেটার নাইম শেখ। বাঁহাতি এই ওপেনারকে দলে নিতে আগ্রহ দেখায় চট্টগ্রাম রয়্যালস, রংপুর রাইডার্স ও সিলেট টাইটান্স। তিন দলের লড়াই শেষে ১ কোটি ১০ লাখ টাকায় নাইমকে দলে ভিড়িয়েছে চট্টগ্রাম। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দাম পেয়েছেন তাওহীদ হৃদয়ও। ৩৫ লাখ টাকা ভিত্তিমূল্যের এই ব্যাটারকে দলে নিতে রংপুরের খরচ হয়েছে ৯২ লাখ টাকা। তৃতীয় সর্বোচ্চ দামি ক্রিকেটার লিটন দাস। 'এ' ক্যাটাগরিতে থাকা এই উইকেটকিপার ব্যাটারকে ৭০ লাখ টাকায় কিনেছে রংপুর রাইডার্স। এই তিনজন ছাড়া সেরা দশ দামি ক্রিকেটার হলেন যথাক্রমে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন (৬৮ লাখ), তানজিম হাসান সাকিব (৬৮ লাখ টাকা), নাহিদ রানা (৫৬ লাখ টাকা), শামীম পাটোয়ারী (৫৬ লাখ), মোহাম্মদ মিঠুন (৫২ লাখ টাকা), হাবিবুর রহমান সোহান (৫০ লাখ) ও সৈয়দ খালেদ আহমেদ (৪৭ লাখ টাকা)।
এবার দল গড়তে কোটি টাকার বেশি খরচ করেছে প্রত্যেকটি দলই। নিলামের খরচের ক্ষেত্রে বিসিবির নির্ধারিত সীমার চেয়ে দব দলই কম খরচ করেছে। বিপিএলের নিয়ম অনুযায়ী, প্রত্যেক দল দেশি ক্রিকেটারের জন্য সাড়ে চার কোটি টাকা ও বিদেশি ক্রিকেটারের জন্য সাড়ে ৩ লাখ ডলার খরচ করতে পারে। গতকালের নিলামে কোনো দলই এই সীমা স্পর্শ করেনি। নিলামে সবচেয়ে বেশি টাকা খরচ করেছে রংপুর রাইডার্স। ১২ ক্রিকেটার নিতে তাদের খরচ ৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা। নিলামে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টাকা খরচ করেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। ৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা খরচ করেছে তারা। এর মধ্যে প্রথম ডাকে মোহাম্মদ নাঈমকে কিনতেই ১ কোটি ১০ লাখ টাকা খরচ করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। সবচেয়ে বেশি ১৩ ক্রিকেটার নেওয়া রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের খরচ হয়েছে ৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা। ৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা খরচ করেছে ঢাকা ক্যাপিটালস। ২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা খরচ করেছে সিলেট টাইটানস। নিলামে সবচেয়ে কম টাকা খরচ করেছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। ২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা খরচ করে স্থানীয় ১২ ক্রিকেটারকে কিনেছে তারা। বিদেশি ক্রিকেটার কিনতে দলগুলো খরচ করতে পারত ৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত। কিন্তু নোয়াখালী এক্সপ্রেস, রংপুর রাইডার্স ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ৫০ হাজার ডলারও খরচ করেনি। সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার ডলার খরচ করেছে ঢাকা ক্যাপিটালস, নিলাম থেকে একমাত্র তারাই তিনজন বিদেশি ক্রিকেটার কিনেছে। এবার ৬টি ফ্র্যাঞ্চাইজিই নিজেদের পছন্দমতো দল সাজিয়েছে। নিলামে সর্বোচ্চ দাম পেয়েছেন নাঈম শেখ। ১ কোটি ১০ লাখ টাকায় তাকে দলে ভিড়িয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। তবে এই নিলামের টেবিলেও অবিক্রিত থেকে গেছেন একঝাঁক তারকা। বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে দল পাননি অনেক পরিচিত মুখ। এ তালিকায় পাকিস্তানের আমের জামাল, মোহাম্মদ হারিস, মোহাম্মদ ওয়াসিমরা যেমন আছেন সেই সঙ্গে শ্রীলঙ্কার চারিথ আসালঙ্কা, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা, দুনিথ ভেল্লালাগে, জেফরি ভেন্ডারসে ও চামিকা করুনারত্নেরাও দল পাননি। এ ছাড়া দীনেশ চান্দিমাল, ওয়েন পার্নেল, শান মাসুদ এমনকি পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সালমান আলী আগা, শোয়েব মালিকও দল পাননি। বিপিএলের নিয়মিত মুখ রবি বোপারা ও সামিত প্যাটেলকে নিয়েও কেউ আগ্রহ দেখায়নি। এবারের নিলামে নাম নিবন্ধন করিয়েছিলেন ভারতের আইপিএলজয়ী ক্রিকেটার পীযুষ চাওলা। তিনিও অবিক্রিত থেকে গেছেন। এ ছাড়া জশ লিটল, জর্জ মানসি, জর্জ ডকরেল, অভিষকা ফার্নান্দো, উসামা মীর, মোহাম্মদ হাসনাইন, জামান খান, ডমিনিক ড্রেক্স, কিমো পল, কিসি কার্টি, জনসন চার্লস, আহমেদ শেহজাদ, রাহকিম কর্নওয়ালদের কোনো দর হাঁকানো হয়নি। নাজিবউল্লাহ জাদরান, সাউদ শাকিল, হাশমতউল্লাহ শহিদি, আলী খান, হ্যারি টেক্টর, ওশান থমাস, রিচার্ড এনগারাভা, আসিফ আলী, সন্দীপ লামিচানে, শাহনেওয়াজ দহানি বা আকিফ জাভেদরা অনেক আশা নিয়ে নাম নিবন্ধন করেও বিপিএল খেলার সুযোগ পাননি। পল স্টার্লিং, কার্টিস ক্যানফার, রায়ান বার্লরাও দল পাননি। দেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে দল পাননি মুনিম শাহরিয়ার, সাদমান ইসলাম অনিক, নাহিদুল ইসলাম, অমিত হাসান, মাহফুজুর রহমান রাব্বি, শেখ পারভেজ জীবন, ফজলে মাহমুদ রাব্বি, শফিকুল ইসলাম, সোহাগ গাজী, আনিসুল ইমন, আবু জায়েদ চৌধুরী রাহী, নাঈম ইসলাম, আশিকুর রহমান শিবলি, মার্শাল আইয়ুব, আহরার আমিন, আইচ মোল্লা, আব্দুল্লাহ আল গালিব, তানবির হায়দার, মেহেদী মারুফ, নাবিল সামাদ, রায়ান রাফসান রহমান, অভিষেক দাস, রুবেল হোসেনও। এ ছাড়া দল পাননি লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব।