বিপিএলে হ্যাটট্রিক করা নবম বোলার নোয়াখালী এক্সপ্রেসের পেসার মেহেদী হাসান রানা। । এর আগে সর্বশেষ গত আসরে শরিফুল ইসলাম ও মঈন আলি এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। বাংলাদেশি বোলার হিসেবে বিপিএলে হ্যাটট্রিক করা পঞ্চম বোলার তিনি। তার আগে এই তালিকায় নাম লিখিয়েছেন আল-আমিন হোসেন, আলিস আল ইসলাম, মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী ও শরিফুল ইসলাম। শনিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্বাগতিক সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক উপহার দিয়েছেন নোয়াখালী এক্সপ্রেসের পেসার মেহেদী হাসান রানা। যদিও তার এই ব্যক্তিগত অর্জন ম্লান হয়ে গেছে দলের পরাজয়ে। শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ১ উইকেটের নাটকীয় জয় পেয়েছে সিলেট। ১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ১৭ ওভার শেষে সিলেটের সংগ্রহ ছিল ৫ উইকেটে ১২০ রান। জয়ের জন্য শেষ ১৮ বলে প্রয়োজন ছিল মাত্র ২৪ রান। এমন সমীকরণে ১৮তম ওভারে বোলিংয়ে আসেন রানা। ওভারের প্রথম তিন বলে ৫ রান দেয়ার পর শুরু হয় রানার ম্যাজিক। চতুর্থ বলে সিলেটের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজকে উইকেটরক্ষকের ক্যাচ বানিয়ে সাজঘরে ফেরান। পঞ্চম বলে নাসুম আহমেদকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন এবং শেষ বলে খালেদ আহমেদকে আউট করে হ্যাটট্রিকের উল্লাসে মাতেন তিনি। বিপিএল তো বটেই, স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতেও এটি রানার প্রথম হ্যাটট্রিক। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হেরেছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। রোমাঞ্চকর ম্যাচের শেষ বলে গিয়ে ১ উইকেটের ব্যবধানে হেরেছে নবাগত দলটি। যে কোনো বোলারের জন্য হ্যাটট্রিক আরাধ্য সাফল্য। পরপর তিন বলে তিন উইকেটের আনন্দ অন্য কিছুতে পাওয়া যায় না নিশ্চিতভাবেই। মেহেদী হাসান রানা এই ম্যাচে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো এমন অমৃত স্বাদ পেলেন। বিপিএলের দ্বাদশ আসরের হ্যাটট্রিকের খাতা খুলল মেহেদী হাত ধরে। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে দুর্দান্ত বোলিংয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বাঁহাতি পেসার। মেহেদী হাসান মিরাজকে উইকেটের পেছনে তালুবন্দি করানোর পর ধ্রুপদী স্লোয়ারে পরাস্ত হন নাসুম আহমেদ। লেট অর্ডার ব্যাটসম্যান খালেদকে পরীক্ষা নেন শর্ট বলে। কাজ হয়ে যায় তাতেই। মেহেদীর বল উড়াতে গিয়ে লং অনে ক্যাচ দেন খালেদ। খ্যাপাটে উদযাপনে হ্যাটট্রিকের আনন্দ ভাগাভাগি করেছেন সতীর্থদের সঙ্গে। তবে, দিন শেষে শেষ হাসিটা হাসতে পারেননি। চরম নাটকীয় ম্যাচে শেষ বলে ম্যাচ জিতে নেয় সিলেট টাইটান্স। বিপিএলে এটি ছিল নবম হ্যাটট্রিক। এর আগে হ্যাটট্রিক করেছেন আট বোলার। ২০১২ সালে প্রথম আসরে একমাত্র হ্যাটট্রিক করেছিলেন দুরন্ত রাজশাহীর মোহাম্মদ সামি। ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের ড্যারেন স্টিভেন্স, আফতাব আহমেদ ও নাভেদ উল হাসানের উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। তিন বছর পর ২০১৫ সালে আল-আমিন হ্যাটট্রিক করেন বরিশাল বুলসের হয়ে। সিলেট সুপারস্টারসের রবি বোপারা, নুরুল হাসান ও মুশফিকুর রহিমকে আউট করেন তিনি। ২০১৯ বিপিএলে তিনটি হ্যাটট্রিক হয়েছিল। শুরুটা ঢাকা ডায়নামাইটসের আলিস আল ইসলামকে দিয়ে। নিজের অভিষেক ম্যাচে আলিস মোহাম্মদ মিঠুন, মাশরাফি বিন মুর্তজা ও ফরহাদ রেজার উইকেট নেন। পরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ওয়াহাব রিয়াজ হ্যাটট্রিক করেন খুলনা টাইটান্সের বিপক্ষে। তার শিকার ছিল ডেভিড ভিসে, তাইজুল ইসলাম ও মোহাম্মদ সাদ্দাম। ঢাকার হয়ে খেলা আন্দ্রে রাসেল হ্যাটট্রিক করেন ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে। চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে তার হ্যাটট্রিক ছিল মুশফিকুর রহিম, ক্যামেরুন ডেলপোর্ট ও দাসুন শানাকা। ২০২২ বিপিএলে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের পেসার হ্যাটট্রিক করেন সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে। মৃত্যুঞ্জয় উইকেট নেন এনামুল হক, মোসাদ্দেক হোসেন ও রবি বোপারার। গত বিপিএলে দুটি হ্যাটট্রিক হয়েছিল। দুর্দান্ত ঢাকার শরিফুল ইসলাম হ্যাটট্রিক করেন খুশদিল শাহ, রোস্টন চেজ ও মুকিদুল ইসলাম অঙ্কনকে ফিরিয়ে। এছাড়া, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের মঈন আলী চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের শহীদুল ইসলাম, আল-আমিন হোসেন ও বিলাল খানকে আউট করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। এবার নোয়াখালী এক্সপ্রেসের মেহেদীকে দিয়ে হ্যাটট্রিকের খাতা খুলল। দেখা যাক এই তালিকায় কেউ নাম তুলতে পারেন কিনা।

বিপিএলে হ্যাটট্রিক তালিকা-

মোহাম্মদ সামি (দুরন্ত রাজশাহী) - প্রতিপক্ষ ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস (২০১২)

আল-আমিন হোসেন (বরিশাল বুলস) - প্রতিপক্ষ সিলেট সুপারস্টারস (২০১৫)

আলিস আল ইসলাম (ঢাকা ডায়নামাইটস) - প্রতিপক্ষ রংপুর রাইডার্স (২০১৯)

ওয়াহাব রিয়াজ (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস) - প্রতিপক্ষ খুলনা টাইটানস (২০১৯)

আন্দ্রে রাসেল (ঢাকা ডায়নামাইটস) - প্রতিপক্ষ চিটাগং ভাইকিং (২০১৯)

মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী (চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স) - প্রতিপক্ষ সিলেট সানরাইজার্স (২০২২)

শরিফুল ইসলাম (দুর্দান্ত ঢাকা) - প্রতিপক্ষ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স (২০২৪)।

মঈন আলি (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স) - প্রতিপক্ষ চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স (২০২৪)।

মেহেদী হাসান রানা -নোয়াখালী এক্সপ্রেস প্রতিপক্ষ সিলেট টাইটানস (২০২৫)।