বাংলাদেশ-আয়ারল্যান্ড শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ আজ। এই ম্যাচ জিতে সিরিজ নিশ্চিত করার সুযোগ দু-দলের সামনেই। ঘরের মাঠে সিরিজ জিততেই আজ মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সিরিজ জিতেই বছর শেষ করকে চায় টাইগাররা। কারন আয়ারল্যান্ড সিরিজই বাংলাদেশের শেষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জিতে সিরিজে সমতায় ফিরেছে বাংলাদেশ। এবার শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জিতে সিরিজও নিশ্চিত করতে চান পেস বোলিং কোচ শন টেইটও। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ফরম্যাটটিতে এটাই বাংলাদেশ দলের শেষ ম্যাচ। যে কারণে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়েই শিষ্যরা বিশ্বকাপে খেলবে বলে প্রত্যাশা সাবেক এই অস্ট্রেলিয়ান পেসারের। শেষ ম্যাচ নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানাতে গিয়ে টেইট বলেন, ‘বিষয়টি খুব জটিল করে দেখতে চাই না। আমরা ভালো খেলে ম্যাচটি জিততে চাই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে জয় সব সময়ই আত্মবিশ্বাস বাড়ায়। গত ম্যাচের আত্মবিশ্বাস কাজে লাগিয়ে শেষ আমরা জিততে চাই। আয়ারল্যান্ড বেশ ভালো ও গোছানো দল। টি-টোয়েন্টিতে তারা কঠিন প্রতিপক্ষ। বিশ্বকাপের ঠিক আগে আমরা এমন চ্যালেঞ্জই চেয়েছিলাম, যা আমাদের প্রস্তুতির জন্য সহায়ক হবে। বাংলাদেশের বর্তমান পেস অ্যাটাক নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট এই অস্ট্রেলিয়ান কোচ। দেশে এখন মানসম্পন্ন পেসারের সংখ্যা বাড়ায় দলে সুযোগ পাওয়ার প্রতিযোগিতা বেড়েছে, যা দলের জন্য ইতিবাচক।’ ক্রিকেটাররা চলতি মাসের শেষ সময়ে মাঠে নামবেন বিপিএল খেলার জন্য। আর বিপিএলের পরপরই বিশ্বকাপ, এতে টানা খেলার ক্লান্তি ভর করবে কিনা সেই শঙ্কা রয়েছে। যদিও পেস বোলিং কোচ শন টেইট বিশ্বকাপের আগে বিপিএলকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টি-টোয়েন্টির আগে তিনি বলেন, ‘আমি ইনজুরি নিয়ে ভাবছি না। এটা তো আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। বিপিএল হচ্ছে বিশ্বকাপের আগে এটা ভালো দিক। খেলোয়াড়রা প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটের মাঝেই থাকবে। ব্যাপারটা ইতিবাচক। ইনজুরি যে কোনো সময় যে কোনো জায়গায় হতে পারে। এটা আমার হাতে নেই, ফাস্ট বোলিং কোচ হিসেবে আমি বিশ্বকাপ নিয়েই ভাবছি।’ টেইটের চোখে অবশ্য অস্ট্রেলিয়া-আয়ারল্যান্ড সমান, ‘প্রতিপক্ষ কে এটা দেখলে হবে না। আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। হোক আয়ারল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়া বা ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ভালো খেলতেই হবে। আমরা কালও ভালো ক্রিকেট খেলারই চেষ্টা করব। আয়ারল্যান্ড ভালো ক্রিকেট খেলেছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভালো খেলতেই হবে।’ বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের প্রসঙ্গে টেইট বলেন, ‘হ্যাঁ, প্রস্তুতি ভালো। বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ আছে। সেখানে প্রস্তুতি হয়ে যাবে। বেশি জটিল করে ভাবতে চাই না, ভালো খেলে ম্যাচ জিততে চাই। আন্তর্জাতিক ম্যাচ জেতা মানেই আত্মবিশ্বাস কুড়িয়ে নেওয়া। তাই সেরা যে কাজটা আমাদের করার আছে সেটা হলো ভালো খেলা।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত ম্যাচ থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাস কাজে লাগাতে হবে।

আশা করি কালও জিতব। একটা বিরতিও পেয়েছে ছেলেরা। আয়ারল্যান্ড ভালো খেলেছে, তাদের ভালো খেলোয়াড় আছে। টি-টোয়েন্টিতে ওরা বেশ গোছানো একটা দল। আমরা এমন চ্যালেঞ্জই চেয়েছিলাম। পরের খেলা তো বিশ্বকাপে।’ টেইট বলেন, ‘আমাদের চিন্তাভাবনা খুব বেশি জটিল করার প্রয়োজন নেই। আমার মনে হয় আমাদের শুধু ভালো ক্রিকেট খেলা এবং ম্যাচ জেতার দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। যখনই আপনি কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ জিতেন, সেখান থেকে কিছু আত্মবিশ্বাস পাবেন।’ দ্বিতীয় ম্যাচে আইরিশদের দেওয়ার লক্ষ্য তাড়ায় ৪ উইকেটে জিতেছিল বাংলাদেশ। সেই প্রেরণা তৃতীয় ম্যাচে কাজে লাগবে বলে বিশ্বাস টেইটের, ‘আমি মনে করি, আমরা সবচেয়ে ভালো যেটা করতে পারি তা হলো, গত ম্যাচে আমরা যে ম্যাচটি জিতেছি সেখান থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাস নিয়ে ভালো খেলা এবং সেটা শেষ ম্যাচে কাজে লাগানো। আশা করি আমরা জিতব।’

একইভাবে সিরিজ জিতে আত্মবিশ্বাস নিয়েই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যেতে চান এই বোলিং কোচ, ‘(সিরিজ শেষে) এরপর অবশ্যই কিছুটা বিরতি আছে। কিন্তু সেই আত্মবিশ্বাসটা আমাদের সঙ্গেই থাকবে। আমরা যদি একটা জয় পাই, সেটাই সবচেয়ে ভালো ব্যাপার। তাই আমার মনে হয় না আমাদের এখনই খুব বেশি চিন্তাভাবনা কঠিন করার দরকার আছে।’ প্রতিপক্ষ যে দলই হোক মাঠে শক্ত লড়াই চান টেইট, ‘আয়ারল্যান্ড কিছু ভালো ক্রিকেট খেলেছে। বেশ ভালো কিছু খেলোয়াড়ও আছে তাদের। দেখে মনে হচ্ছে ওরা বেশ গোছানো একটা টি-টোয়েন্টি দল। আমরাও একটা ভালো চ্যালেঞ্জই চেয়েছি। আপনারা জানেন, আমাদের পরবর্তী মিশন বিশ্বকাপ। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জন্য এর চেয়ে বড় কিছু (মঞ্চ) আর হতে পারে না।’ ইতোমধ্যে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ ও সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। যেখানে সাবেক দুই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের পাশাপাশি নেপাল ও ইতালির গ্রুপে পড়েছে বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে টেইটের ভাষ্য, ‘প্রতিপক্ষ কারা সেটা আসলে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। আমরা আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া বা ওয়েস্ট ইন্ডিজ, যার বিপক্ষেই খেলি না কেন, আমাদের শুধু ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে। এটাই (চলমান সিরিজ) তো প্রস্তুতি। এরপর বিপিএল ও প্র্যাকটিস ম্যাচ আছে, তারপর বিশ্বকাপ। এটাই প্রস্তুতি।’

তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘তাসকিন আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একজন ভালো লিডার। তার সাথে আমার নিয়মিত কথা হয়। অন্যদিকে মোস্তাফিজ অভিজ্ঞতায় ভরপুর এবং বিশ্বমানের। সে নিজের শক্তির জায়গাটা ভালো চেনে, তাই সব জায়গাতেই তার কদর রয়েছে।’ আগের ম্যাচে সাইফউদ্দিন ও শরিফুল কিছুটা খরুচে বল করলেও একে টি-টোয়েন্টির স্বাভাবিক অংশ হিসেবেই দেখছেন কোচ। তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচক নই, তবে টি-টোয়েন্টিতে এমনটা হতেই পারে। কখনো রান খরচ হবে, আবার কখনো ভালো বল হবে। ধারাবাহিকতা ধরে রাখা কঠিন। তবে পরের ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকছে।’