নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব খেলতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। ৯ এপ্রিল লাহোরে পর্দা উঠতে যাওয়া এই প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় দিনে তারা প্রথম ম্যাচ খেলবে। লাহোর সিটি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন গ্রাউন্ডে তাদের প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ড। টুর্নামেন্টে অংশ নিতে আজ বৃহস্পতিবার সকালে দেশ ছাড়বে মেয়েরা। তার আগে বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজেদের লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে হবে ৬ দলের বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব। পয়েন্ট টেবিলের সেরা দুইয়ে থাকা দুটি দল জায়গা করে নেবে ভারত বিশ্বকাপ। অক্টোবরে হতে যাওয়া নারী বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে জায়গা করে নিয়েছে স্বাগতিক ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কা। এই টুর্নামেন্টে নিজেদের লক্ষ্যের কথা জানাতে গিয়ে বাংলাদেশের অধিনায়ক বলেছেন, ‘দেখেন কোয়ালিফায়ার মানে হচ্ছে কোয়ালিফাই করতে যাচ্ছি, এটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। আর গতবারও আমাদের কোয়ালিফাই করে ওডিআই ওয়ার্ল্ড কাপ খেলতে হয়েছে। সো এবারও আমাদের সেম জিনিস, হয়তো বা সুযোগ ছিল যেটা আমরা পূরণ করতে পারি নাই। বাট স্টিল বলবো যে যদি কোয়ালিফায়ার রাউন্ডে বেটার খেলতে পারি টিমের জন্য ভালো এবং সবার প্রত্যাশা তো থাকবে ওইটা যে যেন ওডিআই ওয়ার্ল্ড কাপ খেলতে পারি।’
জ্যোতি আরও জানিয়েছেন, ‘বলবো যে, সম্মানের দিক থেকে বলেন, ফিন্যান্সিয়ালি বলেন, আমরা প্লেয়াররা কিন্তু অনেক বেশি বেনিফিসিয়াল হইছি। এই একটা জিনিস- উইমেন্স ক্রিকেটের জন্য বাংলাদেশের ওয়ার্ল্ড কাপে কোয়ালিফাই করাটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং সেটাকে সামনে রেখে আমাদের যা যা করণীয় ছিল, যতটুকু আয়ত্তে ছিল আমাদের, যদিও রোজা ছিল, অনেক ডিফিকাল্ট ছিল, আন্ডারলাইটেও আমরা প্র্যাকটিস করছি। যেহেতু দুইটা ম্যাচ আমাদের ওখানে আছে। প্রত্যেকটা পয়েন্ট অনেক ভ্যালিড সো সেখান থেকে প্রত্যেকটা প্লেয়ার অনেক সিরিয়াস এবং আজকের দিনেও আমরা প্র্যাকটিস করছি। কারণ আমরা জানি ব্যাক টু ব্যাক দুইদিন আমাদের ট্র্যাভেল করতে হবে। সো ফার ভালো একটা প্রিপারেশন বলতে পারি এবং ওখানেই গিয়েও প্র্যাকটিস ম্যাচেস খেলবো। আমার মনে হয় মেইন টুর্নামেন্টের আগে দল পুরোপুরি প্রস্তুত হবে।’ ঈদের ছুটিতে সবাই বাড়ি গেলেও ব্যস্ত ছিলেন নারী ক্রিকেটাররা। মাঠে তাদের নিবিড় অনুশীলন চলেছে। বাছাই পর্ব খেলতে যাওয়ার আগে নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে জ্যোতি স্তূতি গাইলেন, ‘প্রস্তুতির জন্য দেখেন আমরা ঈদের ছুটিতে বাসায় যেতে পারিনি। ঈদের আগের দিনই প্র্যাকটিস করতে হয়েছে। আমরা সবাই জানি যে, দলের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ এই টুর্নামেন্টটা। কারণ একটা টিম যখন বড় একটা ইভেন্ট খেলে আইসিসির, তখন টিম একটা ডিফারেন্ট ওয়েতে মানুষ সেটা দেখে। প্লাস হচ্ছে বলবো যে, আইসিসির কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের অপরচুনিটিজ আসে যখন একটা টিম ওডিআই ওয়ার্ল্ড কাপ খেলে। আমরা জানি যে আমাদের ক্যারিয়ারের জন্য বড় একটা জিনিস। কারণ লাস্ট টাইম যখন ওডিআই ওয়ার্ল্ড কাপ খেলছি, এফটিপিতে এন্টার করছি, তখন কিন্তু আমাদের ক্রিকেটের পরিমাণটা অনেক বেশি বেড়ে গেছে।’
সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাংলাদেশ পুরুষ দলের সঙ্গে কাজ করেছেন ডেভিড হেম্প। এরপর থেকে অনেকটা আড়ালেই ছিলেন এই ব্যাটিং কোচ। গত ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ এবং সবশেষ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেও দলের সঙ্গে ছিলেন না তিনি। এই মুহূর্তে তাকে নারী দলের সাথে অন্তর্ভুক্ত করেছে বিসিবি। নতুন কোচের অধীনে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে জ্যোতি বলেছেন, ‘ওনার ইনক্লুড হওয়াতে আমার মনে হয় টিমের জন্য অনেক ভালো হয়েছে বিকজ মেয়েদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। সেকেন্ড হচ্ছে- পাকিস্তানের মেয়েদের হেড কোচ হিসেবে লং টাইম ছিলেন। ওদের কন্ডিশনটা অনেক ভালো জানেন, সেখানে কীভাবে রান করতে হয় সেটা ভালো করে জানেন। উনি ওনার এই এক্সপেরিয়েন্সগুলো শেয়ার করছিলেন, প্রত্যেকটা সেশনের পর উনি ইন্ডিভিজুয়ালি বিশেষ করে ব্যাটিং ইউনিটের সঙ্গে কথা বলেছেন, কোন ওয়েতে গেলে আমাদের জন্য বেটার হবে। কাজটা সহজ হবে। যেহেতু আমাদের অ্যাগেইনস্টে উনি অনেক বেশি প্ল্যান করেছেন এর আগেও, হয়তো অপনেন্ট টিমের কোচ ছিলেন। এখন আমাদের বলছেন যে উনার জন্য আমাদেরকে রিড করা অনেক সহজ, সেই হিসেবে কাজের পরিধি এবং টাইমগুলো কম ছিল। অল্প সেশন পেয়েছি, বাট পাকিস্তানে গিয়ে মনে হয় তার এক্সপেরিয়েন্স কাজে লাগবে।’ বাছাই পর্ব বাংলাদেশের জন্য মোটেও সহজ নয়। বাংলাদেশের মেয়েদের দ্বিতীয় ম্যাচ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। দিবারাত্রির ম্যাচটি হবে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে, ১৩ এপ্রিল। একই মাঠে ১৫ এপ্রিল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ দল। ১৭ এপ্রিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ১৯ এপ্রিল পাকিস্তানের বিপক্ষে লাহোর সিটি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ নিজেদের সর্বশেষ দুটি ম্যাচ খেলবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি কঠিন দলের বিপক্ষে লড়তে হবে বাংলাদেশের মেয়েদের।
জ্যোতি অবশ্য আত্মবিশ্বাসী, ‘প্রথমত আমার মনে হয় দুটো দলই (পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ) বিটেবল। কারণ আমরা দুটো দলকেই হারিয়েছি। পাকিস্তানের সঙ্গে রেগুলার বেসিসে খেলা হয়। হয়তো ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে না। রিসেন্টলি আমরা খেলে আসছি তাদের অ্যাগেইনস্টে, একটা ম্যাচও উইন করেছি। সো এইদিক থেকে একটু হলেও কনফিডেন্স আছে। এর আগে কিন্তু থাইল্যান্ড, স্কটল্যান্ড আর আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে খেলবো, দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দেন পাকিস্তান পাবো। প্রথম থেকে যদি একটা মোমেন্টাম ক্রিয়েট করতে পারি তাহলে আমার কাছে মনে হয় যে টিম ওয়াইজ খেলাটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য বলবো যে নতুন একটা সারফেস থাকবে। আমাদের জন্যও সেম। পাকিস্তান ওইদিক থেকে এগিয়ে থাকবে, তাদের জন্য হোম কন্ডিশন। বাট স্টিল আমার মনে হয় যদি টিম ওয়াইজ ভালো খেলতে পারি এবং স্পেশালি যদি ব্যাটিং ইউনিট রান করতে পারে কারণ আমরা সবাই জানি পাকিস্তানের উইকেট কেমন হবে। বেশি ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি। সেখান থেকে ব্যাটিংয়ে যদি ভালো স্টার্ট এনে দিতে পারি এবং বোলাররা কিন্তু দুর্দান্ত, সব সময় ভালো ব্যাকআপ দেয়। সো লক্ষ্য তো থাকবে যেন আমরা ব্যাটিং ইউনিট ভালো পারফরম্যান্স করি।’