পাকিস্তানের বিপক্ষে সবশেষ সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়েছিল মিরপুর শেরে-ই-বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। যেখানে সবকটি ম্যাচেই রান হয়েছিল। বলা যায় স্পোর্টিং উইকেট হয়েছিল। পরবর্তী সিরিজগুলোতেও এমন স্পোর্টিং উইকেটের আশা করছে বিসিবি। মিরপুরসহ দেশের সব ভেন্যুর উইকেট তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন কিউরেটর টনি হেমিং। এবার বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাসুদ পাইলট জানালেন ভালো উইকেটে খেলার পাশাপাশি পরবর্তী সিরিজ নিয়ে লক্ষ্যের কথা। পাইলট বলছিলেন, 'টনি হেমিং খুব ভালো কিউরেটর। আমার যতটুক দেখা সে একজন ডাক্তার বলতে পারেন। রোগী যেমন ডাক্তার দেখাশোনা করে সে মাঠের ডাক্তার পিচের ডাক্তার। তাকে বলা হয়েছিল যে আমরা কোনো ধরনের হোম এডভান্টেজ নেব না। 'কয়েক বছর আগেও কিন্তু আসলে টসের মাধ্যমে খেলা হয়ে যেত মিরপুরের উইকেটে। নিউজিল্যান্ড সিরিজেও পাকিস্তান সিরিজের মত স্পোর্টিং উইকেট হবে। আমরা কোনো শর্টকাটে যাওয়ার চিন্তায় নেই সবসময় স্পোর্টিং উইকেটে খেলা হবে। শর্টকাটে হয়তো ম্যাচ জেতা যায় কিন্তু লম্বা সময়ের জন্য সেটা ক্ষতিকর।' আগামী মাসে বাংলাদেশ সফরে আসছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিউজিল্যান্ড সিরিজের সূচি প্রকাশ করেছে। তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলতে আগামী ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশে আসবে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল। দুইটি ওয়ানডে হবে ঢাকায়, একটি হবে চট্টগ্রামে। চট্টগ্রামে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। সেখানে হবে দুটি ম্যাচ। ঢাকায় হবে শেষ টি-টোয়েন্টি। ঢাকায় প্রথম দুইটি ওয়ানডে হবে ১৭ ও ২০ এপ্রিল। দুপুর ২টায় মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচগুলো শুরু হবে। ২১ এপ্রিল দুই দল চট্টগ্রামে উড়াল দেবে। একদিনের প্রস্তুতি শেষে ২৩ এপ্রিল হবে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে। ম্যাচটি হবে বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। ২৭ এপ্রিল শুরু হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় ম্যাচ একই ভেন্যুতে। দ্বিপক্ষীয় সাদা বলের সিরিজের শেষ ম্যাচটি হবে ঢাকায়। ২ মে দুপুর ২টায় শুরু হবে শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। ২০২৩ সালে নিউ জিল্যান্ড সবশেষ বাংলাদেশ সফর করেছিল। সেবার দুই টেস্টের সঙ্গে তিনটি ওয়ানডে খেলেছিল। এর আগে ২০২১ সালে তারা এসেছিল পাঁচ টি-টোয়েন্টি খেলতে। সর্বপ্রথম তারা বাংলাদেশে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে এসেছিল ২০০৪ সালে।

সব মিলিয়ে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের এটি সপ্তম দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফর হবে। ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে শুক্রবার মিরপুরে জাতীয় দলের ক্যাম্পে ৩৭ জন খেলোয়াড় যোগ দেন। পাকিস্তানর সুপার লিগে (পিএসএল) খেলার কারণে ক্যাম্পে যোগ দিতে পারেননি ছয়জন ক্রিকেটার। তারা হলেন- মুস্তাাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম, পারভেজ হোসেন ইমন, রিশাদ হোসেন, নাহিদ রানা এবং তানজিদ হাসান তামিম। এছাড়া ক্যাম্পে আরও উপস্থিত ছিলেন হাই পারফরম্যান্স ইউনিটের অলরাউন্ডার এস এম মেহেরব হাসান, ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করা আব্দুল গাফফার সাকলাইন, রুয়েল মিয়া এবং এক সময় জাতীয় দলে খেলা মোসাদ্দেক হোসেনও। ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া প্রথম শ্রেনির প্রতিযোগিতা বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) অংশ নেওয়ার আগে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত ক্যাম্পে থাকবেন টেস্ট খেলোয়াড়রা। ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত ক্যাম্পে থাকবেন সাদা বলের ফরম্যাটের খেলোয়াড়রা। এরপর নিউজিল্যান্ডর সিরিজের জন্য জাতীয় দলের সাথে যুক্ত হবেন তারা। ১৭ এপ্রিল থেকে কিউইদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ শুরু করবে বাংলাদেশ। এছাড়া নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য আলাদা দল নিয়েও ক্যাম্প হবে। ২৭ এপ্রিল থেকে টি২০ সিরিজ শুরু হবে।