বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটির প্রধানসহ সব কর্মকাণ্ড থেকে সরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। গতকাল এক জরুরি বোর্ড সভায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। নাজমুলের পরিবর্তে এখন অর্থ কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করবেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, সাম্প্রতিক ঘটনাবলি পর্যালোচনা করে এবং সংগঠনের বৃহত্তর স্বার্থে বিসিবি সভাপতি অবিলম্বে নাজমুল ইসলামকে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিসিবি গঠনতন্ত্রের ৩১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সভাপতির ওপর অর্পিত ক্ষমতাবলে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যার লক্ষ্য বোর্ডের দাপ্তরিক কার্যক্রমের সুষ্ঠু ও কার্যকর ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বিসিবি সভাপতি নিজেই অর্থ কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সম্প্রতি, জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালকে ভারতীয় দালাল বলে মন্তব্যের পর গতকাল ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছিলেন বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম। তাই বিসিবি পরিচালকের পদ নাজমুল সরে না দাঁড়ালে গতকাল খেলা বন্ধের হুঁশিয়ারি দেয় ক্রিকেটার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)। সেই অনুযায়ী গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বিপিএলে দিনের প্রথম ম্যাচ মাঠে গড়ায়নি। দ্বিতীয় ম্যাচ হবে কি না, তা নিয়েও আছে সংশয়।
এর মাঝেই দুপুরে রাজধানীর এক হোটেলে কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন জানান, ক্রিকেটাররা মাঠে ফিরবে একটা শর্তে যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিসিবি প্রতিশ্রুতি দেয় নাজমুল আর বিসিবিতে থাকছেন না। বিসিবির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, একজন পরিচালককে তার পরিচালক পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। যদি না তিনি পদত্যাগ করে থাকেন। গতকাল বিপিএলে প্রথম ম্যাচটি ছিল চট্টগ্রাম রয়্যালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের। সন্ধ্যা ৬টায় মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও সিলেট টাইটানসের। কিন্তু কোন ম্যাচই হয়নি। তামিমকে অমন খারাপ কথা বলার পর আপনাআপনি পোস্ট দিয়ে ‘সরি’ বলবেন এম নাজমুল ইসলাম। কিংবা ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করবেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি তার ধার-কাছ দিয়েও যাননি। উল্টো নিজেকেই ‘ডিফেন্ড’ করেছেন। তাতেই থেমে থাকেনি তার মুখ। বুধবার বিকেলে সাংবাদিকদের সাথে আলাপে নাজমুল ইসলাম বোঝানোর চেষ্টা করেন ক্রিকেটাররা নয়, আগে বোর্ড এবং তাদের বেতন-ভাতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। এতসব নেতিবাচক কথা বলে নাজমুল ইসলাম এখন রীতিমত ক্রিকেটারদের চক্ষুশূল হয়ে পড়েছেন।
ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (কোয়াব) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মিঠুন, নুরুল হাসান সোহান, সামসুর রহমান শুভ, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাসরা গতকাল বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়ে দেন, আগে নাজমুলের পদত্যাগ। তারপর আমরা মাঠে ফিরবো। খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, বিসিবি কোনো পরিচালককে পদচ্যুত করতে পারবে না। কারণ বিসিবির গঠনতন্ত্রেই সরাসরি কোনো পরিচালককে অব্যাহতি দেওয়ার নজির নেই। তাহলে কী আছে? বিসিবির গঠনতন্ত্রে বলা আছে, কিছু বিশেষ কারণে বা সময়েই কোনো পরিচালককে অব্যাহতি দেওয়া যাবে। সেই বিশেষ কারণগুলো কী কী? কারো মৃত্যু ঘটলে অনিবার্যভাবে তার পরিচালক পদের ইতি ঘটবে। এছাড়া যদি কেউ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন কিংবা দেশের ফৌজদারি আইনে দোষী সাব্যস্ত হলে; অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়লে এবং পরপর তিনটি বোর্ড সভায় যৌক্তিক কারণ ছাড়া অনুপস্থিত থাকলেই কেবল পরিচালক থাকবেন না।
নাজমুল ইসলাম ওপরেউল্লিখিত কোনো ক্রাইটেরিয়ার মধ্যেই পড়েন না। তাই তাকে সরাসরি পদচ্যুত করার উপায় নেই বিসিবির। কেউ কেউ হয়তো প্রশ্ন করবেন, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নিলে যখন নাজমুল হোসেন পাপনের বোর্ড ভেঙে ফারুক আহমেদের নেতৃত্বে নতুন বোর্ড গঠিত হয়, তখন কিন্তু পাপনের বোর্ড সভার দুই পরিচালক আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি ও জালাল ইউনুস ছিলেন। কারণ হলো, জালাল ও ববি ছিলেন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মনোনীত পরিচালক। কিন্তু এম নাজমুল ইসলাম এসেছেন ক্লাব কোটায়। তাই এনএসসিও তার বোর্ড কাউন্সিলরশিপ তথা পরিচালক পদ থেকে চ্যুত করতে পারবে না।