আগামী মাসে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। মাস খানেক সময়ও বাকি নেই আর। দেশে চলছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। ঢাক ক্যাপিটালসের হয়ে খেলছেন জাতীয় দলের অন্যতম পেসার তাসকিন আহমেদ। সরাসরি চুক্তিতে ঢাকা দলে নিয়েছিল তাকে। ক্যারিয়ারে অনেকবারই ইনজুরিতে পড়েছেন তাসকিন আহমেদ। যে কারণে ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলা হয়নি তার। এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ফের দুশ্চিন্তা এই পেসারকে নিয়ে। দেশের এক নম্বর ফাস্ট বোলার কি ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে টুর্নামেন্টটি খেলতে পারবেন?
চলতি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে খেলছেন তাসকিন। কিন্তু হাঁটুর চোটের কারণে টুর্নামেন্টের বাকি অংশে তাকে নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ইনজুরির কারণেই ঢাকা ক্যাইপটালসের সর্বশেষ ম্যাচেও দেখা যায়নি এই ডানহাতি পেসারকে। রোববার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসের একাদশে ছিলেন না তাসকিন। এমনকি ড্রেসিংরুমেই ছিলেন না তিনি। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে-কী হয়েছে জাতীয় দলের এই পেসারের?
তখন বিষয়টি নিয়ে জানা না গেলেও ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন বিষয়টি পরিষ্কার করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাসকিন বর্তমানে হাঁটুর চোটে ভুগছেন এবং আপাতত খেলার মতো অবস্থায় নেই। তবে আশার কথা, চোটটি গুরুতর নয়। মিঠুন জানান, ফিজিওর পরামর্শে তাসকিন সিলেট ছেড়ে ঢাকায় গেছেন। সেখানে প্রয়োজনীয় স্ক্যান করানো হবে। তিনি বলেন, ‘এটা পুরোপুরি ফিজিওর সিদ্ধান্ত। তাসকিন এখন খেলার অবস্থায় নেই। তার বিশ্রাম প্রয়োজন এবং স্ক্যান করানোর জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’
সোমবার ঢাকার আরেকটি ম্যাচ থাকলেও সেখানে তাসকিনকে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে ঢাকা পর্ব শুরু হলে ফেরার আশাবাদ রয়েছে। মিঠুনের কথায়, ‘আনঅফিসিয়ালি যতটুকু জানি, যদি বড় কোনো সমস্যা না থাকে, তাহলে ঢাকা পর্ব থেকে আবার খেলার সম্ভাবনা আছে।’ চলতি বিপিএলে পাঁচ ম্যাচে মাত্র তিন উইকেট পেয়েছেন তাসকিন, ইকোনমি রেটও বেশ বেশি ৯.৭৮। সব মিলিয়ে, আপাতত সতর্কতার পথেই হাঁটছে ঢাকা ক্যাপিটালস। তাসকিনের চোট গুরুতর না হলেও তাকে পুরোপুরি ফিট না করে মাঠে নামাতে চায় না দল ব্যবস্থাপনা।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম বায়েজিদ চোটের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। বিসিবি এই ফিজিও বলেন, ‘চোটটি গুরুতর নয়। বড় কোনো সমস্যা নেই। আগেও এই হাঁটুর বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হয়েছে। রুটিন চেকআপের জন্যই তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।’ তবে উদ্বেগের জায়গা হলো আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টের আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি। যদি স্ক্যান রিপোর্টে চোট গুরুতর প্রমাণিত হয়, তাহলে বিশ্বকাপে তাসকিনকে না পাওয়ার শঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। এখনো পর্যন্ত তার ফেরার নির্দিষ্ট সময়সূচি জানানো হয়নি। স্ক্যান রিপোর্টের অপেক্ষায় বিসিবি ও বিপিএল কর্তৃপক্ষ। সব পক্ষই আশাবাদী, দ্রুত সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরবেন বাংলাদেশের অন্যতম ভরসার এই পেসার।