মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে রোববার (১৫ মার্চ) রীতিমতো ধ্বংসযজ্ঞ চালালেন বাংলাদেশ দলের তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। সিরিজের নির্ধারক ওয়ানডে ম্যাচে পাকিস্তানের শক্তিশালী বোলিং লাইনআপকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে তিনি তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। শুধু সেঞ্চুরিই নয়, ছক্কা মারার রেকর্ডেও পেছনে ফেলেছেন দেশের অভিজ্ঞ ওপেনাররা।

প্রথম থেকেই তানজিদ আগ্রাসী ব্যাটিং শুরু করেন। ওয়ানডের পাওয়ার প্লেতে যেখানে অন্য ব্যাটাররা কিছুটা সাবধানে খেলেন, সেখানে তানজিদ প্রতিপক্ষের জন্য হয়ে ওঠেন এক ভয়ংকর আতঙ্ক। তামিম ইকবাল, লিটন দাস ও সৌম্যের শুরু করা আগ্রাসী ব্যাটিং ধারাকে তিনি নতুন মাত্রা দেন।

পরিসংখ্যানে চোখ বুলালে অবাক হওয়া যায়। মাত্র ৪৮১ বল খেলে বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডে পাওয়ার প্লেতে সর্বোচ্চ ২০টি ছক্কা মারার কীর্তি গড়েছেন তানজিদ। এতে তিনি পেছনে ফেলেছেন ১৫০০ বল খেলে ১৬ ছক্কা হাঁকানো লিটন দাস ও ৩ হাজার বল খেলে ১৫ ছক্কা মেরে তামিম ইকবালকে।

প্রথম উইকেটে সাইফ হাসানের সঙ্গে ১০৫ রানের জুটি গড়ে তিনি দলের জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি করেন। সাইফ ৩৬ রানে ফেরলেও তানজিদ থেমে যাননি। নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ৫১ রানের এবং লিটনের সঙ্গে ৩৬ রানের কার্যকর জুটিতে দলকে শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দেন। মাত্র ৪৭ বলে তুলে নেন ফিফটি।

৩০ ওয়ানডে খেলার পরও ৫টি হাফ সেঞ্চুরি থাকা তানজিদের ম্যাজিক ফিগার এদিন পূর্ণ হয়। ফিফটির পর কিছুটা ধীরগতি নিয়েও শেষ পর্যন্ত ৯৮ বলে পূর্ণ করেন তার প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি। মাইলফলক অতিক্রম করার পর সপ্তম ছক্কা হাঁকিয়ে ব্যাট উঁচিয়ে দর্শকদের করতালির মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা জানান সৃষ্টিকর্তার প্রতি।

শেষ পর্যন্ত ১০৭ রানে আউট হন তানজিদ। এই ইনিংস ৬ বাউন্ডারি ও ৭টি গগনচুম্বী ছক্কায় সজ্জিত। বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি অন্যতম সেরা উদ্বোধনী ইনিংস হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।