স্পোর্টস রিপোর্টার

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের চার ম্যাচের সবকটি জিতে সুপার এইটে গত বিশ্বকাপের রানার্স আপ দক্ষিণ আফ্রিকা। গতকাল ‘ডি’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচটিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৬ উইকেটে হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে শতভাগ জয়েই গতকাল শেষ করল তারা গ্রুপ পর্ব। গতকাল সকালের বৃষ্টিতে আবহাওয়া ছিল সিক্ত। উইকেট ছিল লম্বা সময় ঢেকে রাখা। টস জিতে অনুমিতভাবেই বোলিং বেছে নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু তাদেরকে চমকে দিয়ে প্রথম ৩ ওভারেই সংযুক্ত আরব আমিরাত তুলে ফেলল ৩০ রান। এইডেন মার্করামের কপালে একটু যেন দেখা গেল চিন্তার ভাঁজ। তবে প্রোটিয়া অধিনায়কের দুর্ভাবনা দ্রুতই দূর করে দিলেন বোলাররা। দিল্লিতে বুধবার চারটি ক্যাচ ছেড়েও আমিরাতকে ১২২ রানে আটকে রেখে প্রোটিয়ারা। রান তাড়ায় ম্যাচ জিতে যায় তারা ৪০ বল বাকি রেখেই। ১২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা প্রোটিয়া পেসার করবিন বশ। আগেই সুপার এইট নিশ্চিত করা দক্ষিণ আফ্রিকা এ দিন বিশ্রামে রাখে ডেভিড মিলার, লুঙ্গি এনগিডি, কেশাভ মহারাজ ও মার্কো ইয়ানসেনকে। টস জিতে বোলিংয়ের সূচনা করেন কাগিসো রাবাদা। অভিজ্ঞ পেসারের প্রথম ওভারেই ব্যাটের কানায় লেগে ছক্কা পেয়ে যান আরিয়ানশ শার্মা। রাবাদার পরের ওভারে টানা তিনটি চার মারেন আমিরাতের অধিনায়ক মুহাম্মাদ ওয়াসিম। ৪ ওভারে ৩৬ রান তুলে শুরুর জুটি তখন চোখ রাঙাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে। পঞ্চম ওভারে স্পিন আক্রমণে আসতেই বদলে যায় চিত্র। জর্জ লিন্ডার প্রথম ওভারে বিদায় নেন আমিরাতের সফলতম ব্যাটসম্যান ওয়াসিম (১২ বলে ২২)। পরের ওভারে বশ এসেই বিদায় করেন আরিয়ানশকে। এরপর আর তেমন কোনো জুটি গড়ে ওঠেনি। ৩৮ রানের উদ্বোধনী জুটিই হয়ে থাকে ইনিংসের সর্বোচ্চ। তিনে নেমে আলিশান শারাফু একটা প্রান্ত আগলে রাখলেও পাননি কোনো সঙ্গী। টানা দুটি ফিফটির পর সোহেইব খান এবার ফেরেন ১১ বলে ৬ রান করে। ভালো করতে পারেননি আর কেউ। শারাফু ৩৮ বলে ৪৫ রান করে আউটন হন অষ্টাদশ ওভারে। চারটি ক্যাচ ছাড়েন প্রোটিয়া ফিল্ডাররা, কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি আমিরাতের ব্যাটসম্যানরা। সহজ রান তাড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা শুরু থেকেই ছিল আগ্রাসী। রানও উঠতে থাকে দ্রুততায়। অতি আগ্রাসী হওয়ায় উইকেটও হারাতে হয় কিছু। কোনো ব্যাটসম্যান বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। তবে জয় ধরা দেয় অনায়াসেই। ওপেনিংয়ে ১১ বলে ২৮ করে মার্করাম আউট হন হায়দার আলির দারুণ ডেলিভারিতে। কুইন্ট ডি কক (১৬ বলে ১৪) ভালো না করলেও ফর্মে থাকা রায়ান রিকলটন যথারীতি খেলেন দারুণ কিছু শট (১৬ বলে ৩০)। আগের ম্যাচগুলোয় ততটা ভালো করতে না পারা ডেওয়াল্ড ব্রেভিস দলকে কিছুটা স্বস্তি দেন ৩ ছক্কায় ২৫ বলে ৩৬ রান করে। গ্রুপের চার ম্যাচের সবকটি জিতে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে এখন সুপার এইটের চ্যালেঞ্জ। চার ম্যাচের একটি জিতে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হলো আমিরাতের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

সংযুক্ত আরব আমিরাত : ২০ ওভারে ১২২/৬ (আরিয়ানশ ১৩, ওয়াসিম ২২, শারাফু ৪৫, সোহেইব ৬, সৈয়দ হায়দার ৬, আরফান ১১, পারাশার ৫*, ফারুক ১*; রাবাদা ৪-০-৩০-০, মাফাকা ৪-০-৩০-০, নরকিয়া ৪-০-২৮-১, লিন্ডা ৪-০-১৭-১, বশ ৪-০-১২-৩ )।

দক্ষিণ আফ্রিকা : ১৩.২ ওভারে ১২৩/৪ (মার্করাম ২৮, ডি কক ১৪, রিকলটন ৩০, ব্রেভিস ৩৬, স্টাবস ৬*, স্মিথ ৩*; পারাশার ২-০-৮-০, জুনায়েদ ২.২-০-২৩-০, হায়দার আলি ৩-০-৩৩-১, জাওয়াদউল্লাহ ২-০-২০-১, আরফান ২-০-১৬-১, ফারুক ২-০-১৯-১)।

ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৬ উইকেটে জয়ী।

ম্যান অব দা ম্যাচ: করবিন বশ।