তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুটির পর এখন সমতায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ ও আয়ারল্যান্ড। তাই আজ দুপুরে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি টোয়েন্টি মূলত পরিণত হয়েছে ফাইনালে। দুদলই সমান আগ্রহ ও লড়াকু মন নিয়ে নামবে মাঠে সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা এখন সমান দুই পক্ষেরই।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতায় হোঁচট খায় বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডের দেওয়া ১৮২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে স্বাগতিকরা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে টাইগাররা। ব্যাটিং অর্ডারে কেউই বড় ইনিংস খেলতে না পারায় দলীয় সংগ্রহ ১৪০ রানের বেশি এগোয়নি। ৯ উইকেটে ১৪০ রানে থামে ইনিংস, ফলে ৩৯ রানের বড় ব্যবধানে ম্যাচ হারতে হয় বাংলাদেশকে। বোলাররা ভালো শুরু করলেও শেষ দিকে আইরিশ ব্যাটারদের হাত খুলে খেলার সুযোগ দেওয়ায় স্কোর বড় হয়ে যায়। ম্যাচ শেষে বিশ্লেষকেরা বলেছিলেন-টাইগাররা ব্যাটিংয়ে আরও দায়িত্বশীল হতে পারলেই হারের ব্যবধান কমতে পারত।
দ্বিতীয় ম্যাচে প্রথম ম্যাচের ছন্দহীনতা কাটিয়ে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ড আবারও টস জিতে ব্যাটিং নেয় এবং উইকেট হারালেও ধীর গতিতে এগিয়ে ৬ উইকেটে ১৭০ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায়। কিন্তু এবার টাইগারদের ব্যাটিংয়ে ছিল প্রত্যাশিত আগ্রাসন ও আত্মবিশ্বাস। ওপেনারদের সুচারু শুরু, মিডল অর্ডারের স্থিরতা এবং শেষ দিকে প্রয়োজনীয় বড় শট-সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ৬ উইকেট হারিয়ে ১৭৪ রান তুলে সহজেই জয় নিশ্চিত করে। ফলে ৪ উইকেটের জয়ে বাংলাদেশ সিরিজে ফেরে এবং সমতা এনে তৃতীয় ম্যাচকে সিদ্ধান্ত-নির্ধারণী করে তোলে।
আজকের ম্যাচ ঘিরে দুদলই সমান উদ্দীপ্ত। বাংলাদেশের লক্ষ্য-নিজেদের মাটিতে আরেকটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জিতে পিছনের ব্যর্থতা ভুলে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া। দলের কোচিং স্টাফ জানিয়েছেন, দ্বিতীয় ম্যাচের জয়ের ছন্দ ধরে রাখতে পারলে সিরিজ নিজেদের করে নেওয়া সম্ভব। বিশেষ করে বোলারদের লাইন-লেংথ ধরে রাখা, পাওয়ারপ্লে থেকে রান তোলার কৌশল এবং মধ্য ও শেষ ভাগে স্ট্রাইক রোটেশন-এ তিন জায়গায় বাড়তি মনোযোগ দেবে দল।
অন্যদিকে আয়ারল্যান্ডও চায় প্রথম ম্যাচের জয় ভুলে না গিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচের ভুলগুলো শুধরে মাঠে নামতে। তাদের বোলাররা শুরুতে ভালো করলেও শেষ দিকে রান চাপে পড়ে ব্যর্থ হয়। আজ সেই ঘাটতি পুষিয়ে সিরিজ ঘরে নিতে মুখিয়ে থাকবে তারা।
সব মিলিয়ে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি যে জমজমাট লড়াই উপহার দেবে, তা নিশ্চিত। দুই দলের সমর্থকরাই তাই অপেক্ষায়-শেষ হাসি কার মুখে ফুটবে?