টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে চলমান অস্থিরতা নিয়ে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন আইসিসির সাবেক প্রেসিডেন্ট এহসান মানি। ক্রিকেটে রাজনীতির প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ ও আইসিসির প্রশাসনিক দুর্বলতাকে দায়ী করে তিনি বলেছেন, বর্তমান ব্যবস্থায় ক্রিকেট তার সঠিক দিকনির্দেশনা হারিয়ে ফেলছে। টেলিকম এশিয়াকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আশির দশকের এই অভিজ্ঞ ক্রিকেট প্রশাসক বলেন, আইসিসির গভর্ন্যান্স কাঠামো এখনই পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। তার ভাষায়, ‘বর্তমান আইসিসি যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তাতে ক্রিকেট দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে সংবিধান সংশোধন করে বোর্ডের অধিকাংশ পরিচালককে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ করতে হবে।’
বাংলাদেশ ও ভারতের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের প্রসঙ্গ টেনে এহসান মানি সরাসরি আইসিসি ও বিসিসিআইয়ের সমালোচনা করেন। মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়ার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ নিয়ে পরিস্থিতি এখানে এসে দাঁড়ানো উচিত ছিল না। আইপিএল নিলামে নেয়ার পর মোস্তাফিজকে বাদ দেয়া প্রমাণ করে, বিসিসিআই একজন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ। ফলে বাংলাদেশ দল যখন নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, সেটি যৌক্তিক হয়ে ওঠে।’ তবে বিসিবির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মানি। তার মতে, ‘ভারত সফর নিয়ে সিদ্ধান্ত সরকারের পক্ষ থেকেই আসা উচিত ছিল। বোর্ডের এভাবে সামনে আসা ঠিক হয়নি। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আয়োজনের জন্য চালু হওয়া ‘হাইব্রিড মডেল’কেও কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন আইসিসির সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। তিনি একে ‘ভুল সমাধান’ আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘আইসিসির উচিত ফিফা বা অলিম্পিকের মডেল অনুসরণ করা। হয় আয়োজক দেশকে সব দলের ভিসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, নতুবা তাদের আয়োজনের অধিকার হারাতে হবে। মাঝামাঝি কোনো আপসের জায়গা নেই।’
সাক্ষাৎকারে প্রয়াত বিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ইন্দরজিৎ সিং বিন্দ্রার কথাও স্মরণ করেন এহসান মানি। তিনি বলেন, ‘বিন্দ্রা, ডালমিয়া কিংবা রাজ সিংদের সময়ে এশিয়ার ক্রিকেট ঐক্যবদ্ধ ছিল। তারা স্পষ্টভাষী ছিলেন এবং রাজনীতিকে ক্রিকেট থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করতেন। এখন সেই সততা ও দৃঢ়তার বড় অভাব দেখা যাচ্ছে।’