গতি ও আগ্রাসী বোলিংয়ের জন্য আগে থেকেই পরিচিত নাহিদ রানা। পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে নাহিদ রানা যেন দেখিয়ে দিলেন, উইকেটে বাউন্স থাকলে তার সামনে ব্যাটসম্যানরা কতটা অসহায় হয়ে পড়তে পারে। প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে সাত ওভার বোলিং করে মাত্র ২৪ রান দিয়ে তুলে নেন ৫টি উইকেট, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। টানা সাত ওভারের এই বিধ্বংসী স্পেলে সাজঘরে ফেরেন সাহিবজাদা ফারহান, শামাইল হোসেন, মাজ সাদাকাত ও সালমান আলী আগা। তাদের প্রত্যেকেই আউট হয়েছেন শর্ট বলে। অন্যদিকে অধিনায়ক মোহাম্মদ রিজওয়ানকে কয়েকটি শর্ট বল দিয়ে চাপে ফেলার পর হঠাৎ লেংথ বদলে আউট করেন তিনি। এমন পারফরম্যান্সের পর স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন নাহিদ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথমবার সংবাদ সম্মেলনে এসে নিজের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলেন এই তরুণ পেসার। টানা শর্ট বল করে সফল হওয়ার পেছনে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ ও সতীর্থ নাজমুল হোসেন শান্তর পরামর্শের কথাও জানান তিনি। নাহিদ বলেন, ‘এটি মূলত ক্যাপ্টেনের পরিকল্পনা ছিল। শান্ত ভাইয়েরও পরামর্শ ছিল, কারণ তারা অনেক দিন ধরে ওয়ানডে খেলছে এবং অভিজ্ঞ। মাঠে যেকোনো সাহায্য লাগলে আমি তাদের সঙ্গে আলোচনা করি। ফিজ ভাই, তাসকিন ভাইÑসবার কাছ থেকেই আমি সহায়তা পাই, যা আমাকে চাপমুক্ত থাকতে সাহায্য করে।’ সংবাদ সম্মেলনে ঘুরে ফিরে আসে সাবেক পাকিস্তানি পেসার ওয়াকার ইউনুসের প্রসঙ্গও। গত বিপিএলের সময় ওয়াকার ইউনুসের সঙ্গে কথা হয়েছিল নাহিদের। সেই পরামর্শ অনুযায়ীই অনুশীলনে কাজ করছেন বলে জানান তিনি। নাহিদ বলেন, ‘তিনি শুধু বলেছিলেনÑনিজেকে ফিট রাখো এবং নিজের শক্তিটা হারিও না। দীর্ঘ সময় খেলতে হলে ফিটনেস ঠিক রাখা খুব জরুরি। তিনি বলেছিলেন, যত বেশি ম্যাচ খেলব, তত বেশি শিখব। অনেক কিছু হয়তো এখন মনে থাকবে না, কিন্তু নিজে বোঝার মাধ্যমে তা কাজে লাগবে। আমি সেই পরামর্শ অনুশীলনে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি এবং কোচের সঙ্গে স্কিল ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কাজ করছি।’ নাহিদের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শুধু দ্রুতগতির বল করাই যথেষ্ট নয়; দক্ষতা ও নিয়ন্ত্রণই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘অনুশীলনের সময় আমি ভাবি কীভাবে নিজের স্কিল আরও বাড়ানো যায়। গতি নিয়ে আলাদা করে চিন্তা করি না। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্কিলটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ জাতীয় দলের বোলিং কোচ শন টেইটের অবদানও স্বীকার করেছেন এই পেসার। নাহিদ বলেন, ‘কোচ হিসেবে উনি অসাধারণ। কোচ হয়েও বন্ধুর মতো আচরণ করেন। যখন যে জিনিসটা দরকার, সেটাই দেন। তিনি বলেন, তোমরা তোমাদের শক্তির জায়গা অনুযায়ী খেলো। তোমরা মাঠে খেলবে, আমি শুধু পরিকল্পনা দেব।’

পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডেতে ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়া বাংলাদেশের দ্বিতীয় বোলার হলেন নাহিদ রানা। এর আগে ২০১৯ বিশ্বকাপে লর্ডসে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১০ ওভারে ৭৫ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। পিএসএলে খেলার অভিজ্ঞতা তার পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলেছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে নাহিদ বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, প্রতিটি ব্যাটসম্যানের নির্দিষ্ট উইকেট জোন থাকে। তবে আমি প্রথমে আমার নিজের শক্তিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। আজও নিজের শক্তির জায়গা থেকেই শুরু করেছি। ব্যাটসম্যানের অভ্যাস দেখে নয়, মাঠে পরিস্থিতি যা দাবি করে সেটাই করার চেষ্টা করেছি। বেশি কিছু চিন্তা করিনি।’