আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে ক্রিকেটারদের বড় অঙ্কের জরিমানা করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। সেমিফাইনালের আগেই টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়ায় দলটির প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ৫০ লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানা করা হয়েছে। বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নেদারল্যান্ডস ও নামিবিয়ার বিপক্ষে জিতলেও ভারতের কাছে হেরে গিয়েছিল পাকিস্তান। এরপর সুপার এইটে নিউজিল্যান্ড ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পর ইংল্যান্ডের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে চলে যায় দলটি। শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারালেও ব্যবধান বড় রাখতে না পারায় সেমিফাইনালের আগেই বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করতে হয় সালমান আগার দলকে। পাকিস্তানের সংবাদ মাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানিয়েছে, কলম্বোতে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে ৬১ রানে হারের পরই পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেয় মহসিন নাকভির বোর্ড। সূত্রমতে, পিসিবি কর্মকর্তারা খেলোয়াড়দের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে অনেক তোষণ করা হয়েছে, এখন থেকে আর্থিক সুবিধা পাওয়া যাবে শুধু পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে।
পিসিবির সূত্রটি আরও জানায়, এরই মধ্যে দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ৫০ লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানা করা হয়েছে। পিসিবি বলেছে, খেলোয়াড়েরা যদি ভালো পারফরম্যান্সের জন্য পুরস্কার পান, তবে খারাপ পারফরম্যান্সের জন্যও তাদের জরিমানা দিতে হবে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে হারার পরপরই দলকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছিল। এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, পাকিস্তানের জাতীয় ক্রিকেটাররা বর্তমানে বছরে বড় অঙ্কের আয় করেন। একজন ‘এ’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড় মাসে ৪৫ লাখ রুপি বেতনের পাশাপাশি আইসিসির রাজস্বের অংশ হিসেবে ২০.৭ লাখ রুপি পান। ‘বি’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড়েরা মাসিক ৩০ লাখ রুপির সঙ্গে আইসিসির অংশ হিসেবে পান ১৫.৫২৫ লাখ রুপি। এ ছাড়া ‘সি’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড়দের জন্য মাসিক বেতন ১০ লাখ ও আইসিসির অংশ ১০.৩৫ লাখ; ‘ডি’ ক্যাটাগরির খেলোয়াড়দের জন্য মাসিক বেতন ৭.৫ লাখ ও আইসিসির অংশ ৫.১৭৫ লাখ রুপি। এর বাইরে স্কোয়াডে থাকলে পাওয়া যায় ম্যাচ ফি। ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুনের চলমান কেন্দ্রীয় চুক্তিতে অবশ্য ‘এ’ ক্যাটাগরিতে কোনো খেলোয়াড় নেই।