বিপিএলে শুরু থেকে শরীফুল ইসলাম উইকেট পেয়ে আসছেন। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে ২ উইকেট নিয়ে শুরু। এরপর আরও ১০ ম্যাচে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে গেছেন। দারুণ বোলিং নৈপুণ্যে তিনিই হলেন সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। তার হাতেই উঠলো টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার। যদিও শরীফুলের দল চট্টগ্রাম রয়্যালস শিরোপা জিততে পারেনি। এ নিয়ে তার আক্ষেপ কম নয়। তাই টুর্নামেন্ট সেরা হয়েও সমর্থকদের কাছে চাইলেন ক্ষমা। চট্টগ্রামের জার্সিতে সব মিলিয়ে এবারের বিপিএলে ১২ ম্যাচে ২৬ উইকেট নিয়েছেন শরিফুল। ওভারপ্রতি খরচ করেছেন মাত্র ৫ দশমিক ৮৪ রান, বোলিং গড় মাত্র ১০ দশমিক ০৭! নোয়াখালীর বিপক্ষে ৯ রানে ৫ উইকেট তার সেরা বোলিং। বিপিএলের ইতিহাসে এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড গড়েছেন। গত আসরে ২৫ উইকেট নিয়ে এই রেকর্ডটি ছিল তাসকিন আহমেদের। এবার সেটি ভেঙে দিয়ে চমক শরিফুলের। সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হিসেবে ৫ লাখ টাকার অর্থ পুরস্কার পান বাঁহাতি পেসার। দারুণ পারফরম্যান্সের পর শরিফুলের হাতেই উঠেছে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার। বিপিএলের ইতিহাসে এই প্রথম বিশেষজ্ঞ কোনও বোলার টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার পেলেন। সুদৃশ্য ট্রফির পাশাপাশি ১০ লাখ টাকার অর্থ পুরস্কারও পেয়েছেন। শরীফুল ব্যক্তিগত সাফল্যে খুশি। তবে চ্যাম্পিয়ন হতে না পারার আক্ষেপের কথা জানালেন, ‘সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ও টুর্নামেন্টসেরা হয়ে খুব ভালো লাগছে। তবে আমরা যদি চ্যাম্পিয়ন হতে পারতাম, তাহলে আরও বেশি ভালো লাগতো।’ একইসঙ্গে ভক্ত-সমর্থকদের কাছেও ক্ষমা চেয়ে নেন বাঁহাতি পেসার, ‘সরি চট্টগ্রামবাসী, আপনাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করেছি। আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি। আপনারা আমাদের সাপোর্ট করবেন। আমাদের কোচিং স্টাফ, নাফীস ভাই, সুমন স্যার, বাবুল স্যার- সবাইকে ধন্যবাদ। আমরা পুরো দল হিসেবে খেলেছি। সবাইকে ধন্যবাদ।’ বিপিএলের দ্বাদশ আসরে নেওয়া ২৬ উইকেটের মধ্যে নোয়াখালীর বিপক্ষে পাওয়া ফাইফার (৫ উইকেট) তার কাছে সবচেয়ে স্পেশাল। ফাইনালে হারের পর সংবাদ সম্মেলনে শরিফুল বলেন, ‘মনে হয় টি-টোয়েন্টিতে পাঁচ উইকেট পাওয়া অনেক কঠিন বিষয়। ওই দিনের বোলিং ফিগারটাকে আমি এগিয়ে রাখব।’ এমন সাফল্যের পেছনে বেশ কয়েকজনের অবদান আছে বলে উল্লেখ করেন শরিফুল, ‘আমিও স্বীকার করি, আগে এক ম্যাচ ভালো খেললে কয়েকটা ম্যাচ ইয়ে (ফর্মহীন) যেত। এবার চিন্তা করেছি ভালো ফর্ম কীভাবে ধরে রাখা যায়। ম্যাচ চলাকালে বলেছিলাম আমার একটা পারসোনাল অ্যানালিস্ট আছে, তার সঙ্গে কথা বলি। আমাদের টিম ডিরেক্টর সুমন স্যারের সঙ্গেও ভালো বোঝাপড়া। ভালো পরামর্শ দিত।’ টানা খেলার ধকল সামলে আপাতত ফিটনেসের দিকে মনোযোগ রাখছেন শরিফুল, ‘আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো করছি। এখনও ইঞ্জুরির ভয় থাকে। টানা ১২ ম্যাচ খেলেছি। এখন রেস্ট পাব আবারও রিকভারি করার।’ একজন পেসার হয়েও টুর্নামেন্টসেরা হওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলাদাভাবে উচ্ছ্বসিত পঞ্চগড় থেকে উঠে আসা এই তারকা, ‘আলহামদুলিল্লাহ ভালো লাগছে। এবার আমি বোলার হিসেবে ম্যান অব দ্যা টুর্নামেন্ট হয়েছি, পরেরবার হয়তো আরও কেউ হবে। বিপিএলে বোলাররা এখন ভালো ফাইট দিচ্ছে। গতবার তাসকিন ভাই (এবার আমি)। ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে বোলাররা আরও ডমিনেট করবে।’