ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠেয় আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা ক্রমেই জটিল হচ্ছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ভারতে কোনো ম্যাচ খেলবে না। ওদিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) বলছে, ভারতে বিশেষ কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই। তাই বাংলাদেশকে সেখানে গিয়েই খেলতে হবে, নয়ত টুর্নামেন্ট থেকে বাদ পড়তে হবে। এমনকি বাংলাদেশের বিকল্প হিসেবে একটি ইউরোপীয় দেশকে চূড়ান্ত করার কথা ভাবছে আইসিসি। বিশ্ব ক্রিকেটের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থার একটি সূত্র বার্তা এএফপিকে জানিয়েছে, বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না খেললে তাদের জায়গায় বিশ্বকাপে সুযোগ না পাওয়া দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংধারী স্কটল্যান্ডকে নেয়া হবে।
আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ‘ডেডলাইনের’ কথা না জানালেও ক্রিকেট বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন ক্রিকইনফো জানিয়েছে, আগামী বুধবারের (২১ জানুয়ারি) মধ্যে বিসিবিকে বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে হবে। কট্টর হিন্দুত্ববাদী কয়েকটি সংগঠনের হুমকির মুখে মোস্তাফিজুর রহমানকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে বাদ দেয়ার পরই এই জটিলতার সূত্রপাত। যেখানে ভারত এক মোস্তাফিজকেই নিরাপত্তা দিতে পারছে না, সেখানে পুরো বাংলাদেশ দল, স্টাফ, সাংবাদিক এবং ফ্যানদের নিরাপত্তা কীভাবে-এই প্রশ্ন রেখে বিসিবি ভারতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
এক্ষেত্রে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেয়া এবং গ্রুপ পরিবর্তনের মতো কিছু প্রস্তাব বিসিবির তরফে আইসিসিকে দেয়া হয়েছিল। তবে বাংলাদেশের দুশ্চিন্তাকে আমলে না নিয়ে অনেকটা একরোখা সিদ্ধান্তের পথে এগোচ্ছে ভারতীয় জয় শাহ’র নেতৃত্বাধীন আইসিসি। তবে এখন সংকট শুধু বাংলাদেশ আর আইসিসির মধ্যে সীমিত নেই। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন পাকিস্তানও এখন বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ মূল্যায়নের জন্য আইসিসিকে চাপ দিচ্ছে তারা। এই সমস্যার যথাযথ সমাধান না হলে বিশ্বকাপ বয়কটের প্রচ্ছন্ন হুমকিও দিয়ে রেখেছে দেশটি।