নুরুল আমিন মিন্টু, চট্টগ্রাম ব্যুরো: আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণ জয়ে সিরিজে সমতা ফিরিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে হারের পর গতকালের ম্যাচটি ছিল টাইগারদের জন্য বাঁচা-মরার লড়াই। শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে সিরিজে টিকে থাকল দলটি।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে আয়ারল্যান্ড নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৭০ রান সংগ্রহ করে। ইনিংসের শুরু থেকেই আইরিশ ব্যাটাররা আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে মনোযোগী ছিলেন। ওপেনিং জুটিতে আসে দ্রুত রান। মধ্য ওভারে বাংলাদেশের স্পিনাররা কিছুটা চাপ সৃষ্টি করলেও শেষ পাঁচ ওভারে আবারও বাউন্ডারির ফুলঝুরি ছড়ায় অতিথিরা। আয়ারল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ রান আসে টপ অর্ডারের ব্যাটারদের কাছ থেকে। তাদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে দলটি চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করাতে সক্ষম হয়।

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে পেসার ও স্পিনাররা মিলেই ছন্দময় বোলিং করেন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি করেন তারা। শেষদিকে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণে আয়ারল্যান্ড ১৭০ রানের বেশি যেতে পারেনি।

১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু করে বাংলাদেশ। ওপেনাররা প্রথম থেকেই ইতিবাচক ব্যাটিং করেন। বাউন্ডারি-ওভার বাউন্ডারিতে স্কোরবোর্ড সচল রাখেন তারা। প্রথম উইকেট জুটি ভাঙলেও রানের গতি কমতে দেয়নি বাংলাদেশের ব্যাটাররা। মিডল অর্ডারে নেমে কয়েকজন ব্যাটার দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন, যা দলকে জয়ের দিকে এগিয়ে নেয়।

বাংলাদেশের ইনিংসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার। একজন ইনিংসকে ধরেছিলেন শুরু থেকে, অন্যজন শেষের দিকে প্রয়োজনীয় ঝড় তুলে ম্যাচকে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। শেষ ওভারে ম্যাচ গড়ানোর আগেই বাংলাদেশ ৬ উইকেট হারিয়ে ১৭৪ রান করে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়।

এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচ সিরিজে এখন ১-১ সমতা। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি হয়ে দাঁড়াল ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ। টাইগারদের আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে দ্বিতীয় ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে। ব্যাটিং-বোলিংÑদুই বিভাগেই উন্নতির ছাপ দেখিয়েছে দল।

ম্যাচ শেষে দলের অধিনায়ক জানান, প্রথম ম্যাচের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে তারা পরিকল্পনা ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পেরেছেন। বিশেষ করে বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং এবং ব্যাটারদের লক্ষ্যভিত্তিক ব্যাটিং এই জয়ের মূল চাবিকাঠি।

এদিকে, আয়ারল্যান্ড দল ম্যাচ হারের পরও শেষ ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আশাবাদী। তাদের বিশ্বাস, ছোটখাটো ভুলগুলো সংশোধন করতে পারলে সিরিজ জেতার সম্ভাবনা এখনো রয়েছে।

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ম্যাচের এই রোমাঞ্চকর জয় বাংলাদেশকে যেমন সিরিজে ফেরাল, তেমনি দর্শকদের উপহার দিল এক দারুণ লড়াইয়ের ম্যাচ। এখন অপেক্ষা তৃতীয় ও শেষ ম্যাচের, যেখানে নির্ধারিত হবে সিরিজ বিজয়ী।