বিপিএলের ফাইনাল আজ। ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে চট্টগ্রাম রয়্যালস এবং রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। সন্ধ্যা ছয়টায় মিরপুর শেরে-ই বাংলা স্টেডিয়ামে শুরু হবে ফাইনাল ম্যাচটি। এবার ২৫ লাখ টাকা খরচ করে আনা হয়েছে বিপিএলের ট্রফি। এখনও যা জনসম্মুখে আনেনি বিসিবি। তবে ফাইনাল ম্যাচ শুরুর আগে বেলা ৪টায় হবে ট্রফি উন্মোচন। এছাড়া এই বিষয় ঘিরে থাকছে বড় চমক, যা এখনই জানাতে চাচ্ছে না বিসিবি। এমনটি জানিয়েছেন বিপিএল গভার্নিং কাউন্সিলের একটি সূত্র। এছাড়া ফাইনালে থাকছে না কোনো অনুষ্ঠান। কেবল অনুষ্ঠিত হবে আতশ বাজি এবং লেজার শো। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের প্রথম কোয়ালিফায়ারে রাজশাহীকে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে ফাইনালের টিকিট কাটে চট্টগ্রামস রয়্যালস। এদিকে এলিমিনেটরে রংপুরকে হারিয়ে কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করা সিলেটকে পরাজিত করে দ্বিতীয় দল হিসেবে ফাইনাল নিশ্চিত করে রাজশাহী। শিরোপার লড়াইয়ে আগামীকাল মাঠে নামবে এই দুই দল। বিপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে রাজশাহীকে হারিয়ে সবার আগে ফাইনালের টিকেট নিশ্চিত করেছিল চট্টগ্রাম।

এবার ফাইনালেও সেই রাজশাহীকেই প্রতিপক্ষ হিসেবে পাচ্ছে চট্টগ্রাম। অন্যদিকে কোয়ালিফায়ারে হারের প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে রাজশাহী। ফাইনালে নামার আগে চট্টগ্রাম অধিনায়ক শেখ মেহেদী বলেন, 'ফাইনালে যেহেতু উঠেছি, শিরোপার স্বপ্ন কেন দেখব না ভাই? সবাই দেখবে। তবে দিনটা যাদের ওপর থাকবে, তারাই ভালো ক্রিকেট খেলবে। সব ডিপার্টমেন্টে যারা ভালো করবে তারাই শিরোপা জিতবে। তবে আমার মনে হয় প্রত্যেকটা ক্রিকেটারই চায় শিরোপা জিততে। সবার ভিতরে সেই ক্ষুধাটা আছে। হোপ ফর দা বেস্ট! দেখা যাক, কী হয় কালকে।' 'বিপিএলে ওয়ান অব দা বেস্ট দল আমার মনে হয় রাজশাহী। খুব ভারসাম্যপূর্ণ দল। সব ডিপার্টমেন্টে রাজশাহীর খুব ভালো প্লেয়ার আছে। তারা পুরা বিপিএলে ভালো ক্রিকেট খেলেছে। রাজশাহী দল সব চেয়ে বেশি ভালো লেগেছিল এই বছর।' ফাইনাল জেতা নিয়ে মেহেদী বলেন, 'রংপুরও ভালো ছিল সব দিক থেকে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা উঠতে পারেনি ফাইনালে। তবে রাজশাহী ওয়ান অফ দা বেস্ট টিম আমার কাছে মনে হয়। রাজশাহীর সঙ্গে আমাদের তিনটা ম্যাচ খেলা হয়েছে, তাদের সম্পর্কে ভালো পড়াশোনা করা হয়েছে। দেখা যাক কাল যদি ভালোভাবে এপ্লাই করতে পারি, আমাদের ফেভারেও আসতে পারে।'

এদিকে বিপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে টানটান উত্তেজনার ম্যাচে বুধবার রাতে সিলেট টাইটান্সকে ১২ রানে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে রাজশাহীর জয়ের মূল চাবিকাঠি ছিল নিয়ন্ত্রিত ও সময়োপযোগী বোলিং। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে আত্মবিশ্বাসী সূচনা পায় রাজশাহী। ওপেনিংয়ে তানজিদ হাসান তামিম ও সাহিবজাদা ফারহান দ্রুতগতিতে রান তুলতে থাকেন। দুজনের জুটিতে আসে ৪১ রান। তবে ২১ বলে ২৬ রান করা ফারহান ফিরলে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। পাওয়ারপ্লেতে রাজশাহী তোলে ৬১ রান, হারায় মাত্র এক উইকেট। এরপর তানজিদ আরও কিছুক্ষণ আক্রমণ চালিয়ে ১৫ বলে ৩২ রান করে থামেন। তিনে নামা কেইন উইলিয়ামসন এক প্রান্ত আগলে রেখে ইনিংস গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। মাঝের ওভারে বড় ধাক্কা খায় রাজশাহী। নাজমুল হোসেন শান্ত (৭), মুশফিকুর রহিম (০) ও এস এম মেহেরব হোসেন (০) দ্রুত সাজঘরে ফেরেন। এক পর্যায়ে চাপ বাড়লেও শেষদিকে উইলিয়ামসনের সঙ্গে জিমি নিশামের কার্যকর জুটি রাজশাহীকে লড়াকু সংগ্রহ এনে দেয়। নিশাম আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ২৬ বলে ৪৪ রান করেন। উইলিয়ামসন খেলেন ধীরস্থির কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস, ৩৮ বলে ৪৫ রান। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ৯ উইকেট হারিয়ে রাজশাহীর সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬৫ রান। সিলেটের বোলারদের মধ্যে সালমান ইরশাদ নেন ৩ উইকেট। মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাসুম আহমেদ পান ২টি করে উইকেট। লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই চাপে পড়ে সিলেট। প্রথম ওভারেই আউট হন জাকির হাসান, এরপর শূন্য রানে ফেরেন আরিফুল ইসলাম। ৭ রানের মধ্যেই দুই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় দলটি। চাপ সামলাতে চেষ্টা করেন পারভেজ হোসেন ইমন ও স্যাম বিলিংস। দুজনের ঠা-া মাথার ব্যাটিংয়ে ইনিংসে ফেরার চেষ্টা করে সিলেট। পাওয়ারপ্লে শেষে স্কোর দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৩৭। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রানের গতি বাড়ান এই দুজন। ফিফটির কাছাকাছি গিয়ে ৩৪ বলে ৪৮ রান করে ইমন বিদায় নিলে আবার চাপ বাড়ে।

এরপর মঈন আলী দ্রুত ফিরে গেলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়। বিলিংস ও আফিফ হোসেন ধ্রুবের জুটি কিছুটা আশার আলো দেখালেও ২৮ বলে ৩৭ রান করা বিলিংসের বিদায়ে সেই আশাও ফিকে হয়ে যায়। পরপর ওভারে আফিফ (২১) ও মিরাজ (৯) আউট হলে ম্যাচ প্রায় রাজশাহীর মুঠোয় চলে আসে। শেষদিকে ক্রিস ওকস লড়াই চালালেও শেষ দুই ওভারে প্রয়োজনীয় রান তুলতে পারেনি সিলেট। শেষ ওভারে বিনুরা ফার্নান্দোর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ১১ রানের বেশি আসেনি। শেষ পর্যন্ত ১২ রানে ম্যাচ জিতে নেয় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। বল হাতে রাজশাহীর হয়ে ম্যাচসেরা পারফরম্যান্স দেন বিনুরা ফার্নান্দো। ১৯ রান খরচায় ৪ উইকেট তুলে নেন। মোহাম্মদ রুবেল, আবদুল গাফফার সাকলাইন ও তানজিম হাসান সাকিব নেন একটি করে উইকেট। এই জয়ের ফলে ফাইনালে চট্টগ্রাম রয়্যালসের মুখোমুখি হবে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।