আইপিএল ২০২৬ আসরের জন্য অনুষ্ঠিত ছোট নিলামে ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। রেকর্ড গড়ে তাকে দলে টেনেছে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)।
নিলামে মোস্তাফিজকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কিনেছে কলকাতা। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১২ কোটি ৩৭ লাখ টাকার সমান। আইপিএল ক্যারিয়ারে এর আগে কখনোই এত বড় অঙ্কে বিক্রি হননি তিনি।
এর আগে মোস্তাফিজের সর্বোচ্চ দাম ছিল ২০১৮ সালে। সে বছর ২ কোটি ২০ লাখ রুপিতে তাকে দলে নিয়েছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। ২০১৬ সালে প্রথমবার আইপিএল নিলামেই বাজিমাত করেন তিনি। ১ কোটি ৪০ লাখ রুপিতে সানরাইজার্স হায়দরাবাদে যোগ দিয়ে ১৬ ম্যাচে ১৭ উইকেট শিকার করেন এবং টুর্নামেন্টের ‘সেরা উদীয়মান ক্রিকেটার’ নির্বাচিত হন।
২০২১ থেকে ২০২৪—টানা চার আসরের নিলামে উঠেছে মোস্তাফিজের নাম। ২০২১ সালে ১ কোটি রুপিতে রাজস্থান রয়্যালস তাকে দলে নেয়। এরপর ২০২২ ও ২০২৩ সালে ২ কোটি রুপিতে খেলেছেন দিল্লি ক্যাপিটালসে। ২০২৪ আসরে তার ঠিকানা হয় চেন্নাই সুপার কিংস। গেল মৌসুমে নিলামে দল না পেলেও পরে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে দিল্লিতে যোগ দেন তিনি।
২০২৬ আসরের নিলামে মোস্তাফিজের ভিত্তিমূল্য ছিল ২ কোটি রুপি। তবে তাকে ঘিরে তীব্র লড়াই শুরু হয় সাবেক দল চেন্নাই সুপার কিংস ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত সেই লড়াইয়ে জয়ী হয়ে রেকর্ড অঙ্কে মোস্তাফিজকে দলে ভেড়ায় কলকাতা।
এই প্রথম কোনো বাংলাদেশি ক্রিকেটার আইপিএলে এত বেশি দামে বিক্রি হলেন। এর আগে সর্বোচ্চ দামের রেকর্ডটি ছিল মাশরাফি বিন মুর্তজার। ২০০৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি নিলামে ৬ লাখ ডলারে তাকে দলে নিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স, যা সে সময় বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ টাকা।
সাকিব আল হাসান একাধিকবার আইপিএল নিলামে উঠলেও কখনোই ৪ কোটি রুপিতে বিক্রি হননি। তাকে দলে নিতে সর্বোচ্চ ৩ কোটি ২০ লাখ রুপি খরচ করেছিল কলকাতা, ২০২১ আসরে।
১৬ বছর ধরে অক্ষত থাকা মাশরাফির রেকর্ড ভেঙে ২০২৫ সালেই নতুন ইতিহাস গড়লেন মোস্তাফিজুর রহমান। কাকতালীয়ভাবে, সেই রেকর্ড ভাঙার নায়ক এবং রেকর্ড গড়া দল—দুটোর সঙ্গেই আবারও জড়িয়ে রইল কলকাতা নাইট রাইডার্স।