পর্দা নেমেছে বিপিএলের দ্বাদশ আসরের। শুক্রবার ফাইনালে চট্টগ্রামকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৬৩ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। এটা রাজশাহীর দ্বিতীয় শিরোপা। বিপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। দলের বাইরে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যও দেখিয়েছেন বেশ কিছু খেলোয়াড়। এবারের বিপিএলে কে কোন পুরস্কার পেলেন, দেখে নেওয়া যাক একনজরে। এবার বিপিএলে সব মিলিয়ে প্রাইজমানি ছিল ৫ কোটি টাকার মতো। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স পেয়েছে ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। রানার-আপ চট্টগ্রাম রয়্যালস পেয়েছে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ফাইনালে দারুণ সেঞ্চুরিতে তানজিদ তামিমের হাতে উঠেছে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। পেয়েছেন পাঁচ লাখ টাকার চেক। পারভেজ হোসেন ইমন আসরের সেরা ব্যাটার হিসেবে পেয়েছেন ৫ লাখ টাকা। সেরা বোলার শরিফুল ইসলাম এবং সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হিসেবেও পেয়েছেন ৫ লাখ টাকা। পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ও হয়েছেন তিনি। সব মিলে শরিফুল একাই পেয়েছেন ১৫ লাখ টাকা। এছাড়া রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক লিটন দাস সেরা ফিল্ডার হিসেবে পেয়েছেন ৩ লাখ টাকা। উদীয়মান পেসারের খেতাব জিতেছেন রিপন মণ্ডল তিনিও পেয়েছেন ৩ লাখ টাকা। বিপিএলের এবারের আসরে ব্যাট হাতে এবং বোলিংয়ে নজর কেড়েছেন বেশ কিছু ক্রিকেটার। তার মধ্যে একজন হলেন তানজিদ হাসান তামিম। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ম্যান অব দ্য ফাইনাল হয়েছেন তিনি। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে রীতিমতো রেকর্ডও গড়েছেন এই বাঁহাতি ড্যাসিং ওপেনার। মাত্র ৬০ বলে সেঞ্চুরি পূরণের পর ৬১ বলে ১০০ রানে আউট হন তানজিদ। বিপিএলের এবারের আসরে এটা চতুর্থ সেঞ্চুরি। শান্ত-ইসাখিল-হৃদয়ের পর সেঞ্চুরির দেখা পান তানজিদ। আর বিপিএলের ফাইনালে তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে সেঞ্চুরির স্বাদ পেলেন তানজিদ। এর আগে ফাইনালে সেঞ্চুরি করেছিলেন ক্রিস গেইল ও তামিম ইকবাল। এছাড়া প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে সর্বোচ্চ তিনটি সেঞ্চুরির রেকর্ডও গড়েছেন তিনি। এদিকে পুরো টুর্নামেন্টে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন চট্টগ্রামের রয়্যালসের বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম। তিনি জিতেছেন টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার। বিপিএলের এক আসরে সর্বোচ্চ উইকেটের মালিকও হয়েছেন শরিফুল। ১২ ম্যাচে ২৬ উইকেট নিয়েছেন তিনি। পেছনে ফেলেছেন গত মৌসুমে তাসকিন আহমেদের সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ড। গতবার দুর্বার রাজশাহীর হয়ে ১২ ম্যাচে ২৫ উইকেট নিয়েছিলেন তাসকিন। আজ (শুক্রবার) তার সেই কীর্তি থেকে এক উইকেট পেছনে ছিলেন শরিফুল। ফাইনালে দুটি উইকেট নিয়ে জাতীয় দলের সতীর্থকে ছাড়িয়ে যান তিনি।শরিফুল এই আসরে ২৬৯ বল করেছেন। রান দিয়েছেন ২৬২। সেরা বোলিং ফিগার ৯ রানে ৫ উইকেট। ১০.০৭ গড় ও ৫.৮৪ ইকোনমি রেটে বিপিএল শেষ করলেন তিনি। নোয়াখীল এক্সপ্রেসের বিপক্ষে তার সেরা বোলিং ছিল। একই দলের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ২ উইকেট পান তিনি। দ্বিতীয় ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষেই কেবল উইকেটশূন্য ছিলেন শরিফুল। তিন উইকেট নিয়েছেন তিনবার, দুটি করে চারবার। এছাড়া পুরো টুর্নামেন্টে ১০টি ক্যাচ ধরে সেরা ফিল্ডারের পুরস্কার জিতেছেন লিটন কুমার দাস। তার পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেছেন শরিফুল ইসলাম। সেরা ইমার্জিন ক্রিকেটারের পুরস্কার জেতেন রাজশাহীর পেসার রিপন মণ্ডল। তিনি নেন মোট ১৭টি উইকেট। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের পুরস্কার জেতেন পারভেজ হোসেন ইমন। আর সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির হয়েছেন শরিফুল ইসলাম।