আজ থেকে শুরু হচ্ছে অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট। তিন দলের আড়াই কোটি টাকার ম্যাচ ফি ও প্রাইজমানির টুর্নামেন্ট দেশের সেরা ৩৯ ক্রিকেটারকে নিয়ে আজ মাঠে গড়াচ্ছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করায় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের এখন অফুরন্ত সময়। তাই এই টুর্নামেন্ট। টুর্নামেন্টে ধূমকেতু একাদশ, দুর্বার একাদশ এবং দুরন্ত একাদশ নামে তিনটি দল অংশ নেবে। টুর্নামেন্টের প্রাইজমানি আড়াই কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ধূমকেতু একাদশকে নেতৃত্ব দেবেন বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক লিটন দাস। এছাড়া দুর্বার একাদশের নেতৃত্ব নাজমুল হোসেন শান্তকে এবং দুরন্ত একাদশের দলনেতা নির্বাচিত করা হয়েছে আকবর আলীকে। টুর্নামেন্টের সব ম্যাচ মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফ্লাডলাইটের আলোয় অনুষ্ঠিত হবে। টি স্পোর্টসে দেখা যাবে অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপের চার ম্যাচ। এছাড়া গ্যালারিতে বসে তারকা ক্রিকেটারদের খেলা দেখতে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের লাগবে না টিকিট। তারা স্কুল অথবা কলেজ ড্রেস কিংবা স্কুল অথবা কলেরজের আইডি কার্ড নিয়ে ক্লাব হাউজে বসে খেলা দেখাতে পারবেন। আড়াই কোটি টাকার ম্যাচ ফি ও প্রাইজমানি ঠিক করেছে বিসিবি। বিগ বাজেটের টুর্নামেন্টে আর্থিক পুরস্কারে ছড়াছড়ি থাকবে। আয়োজকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন দল ১ কোটি টাকা প্রাইজমানি পাবে। রানার্সআপ দলের জন্য বরাদ্দ ৪০ লাখ টাকা। এছাড়া ম্যাচ জিতলেই মিলবে ১০ লাখ টাকা। ৫, ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি তিন দলের তিন ম্যাচের এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। সিঙ্গেল লিগ পদ্ধতিতে হবে এই প্রতিযোগিতা। পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দল ৯ ফেব্রুয়ারি খেলবে ফাইনাল ম্যাচ। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রতিটি ম্যাচ শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টায়। টুর্নামেন্টে নতুনত্ব বলতে যুক্ত হয়েছে ‘ইম্প্যাক্ট প্লেয়ার’ খেলানোর নিয়ম। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে যে নিয়ম চালু আছে। প্রতিদিন ম্যাচের আগে ৪টা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও রেখেছে বিসিবি। দর্শকরা টিকিট কেটে দেখতে পারবেন খেলা। সর্বনিম্ন টিকিটের দাম ১০০ টাকা। সর্বোচ্চ ১০০০ টাকা। এছাড়া ২০০ ও ৫০০ টাকার টিকিটও রয়েছে।

বিশ্বকাপ খেলতে না পারা কতটা হতাশার সেটা ফুটে উঠল বাংলাদেশ দলের সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনের কণ্ঠে, ‘টু বি অনেস্ট, এটা (বিশ্বকাপ খেলতে না পারা) আসলে মাথা থেকে যাওয়াটা অনেক কঠিন। এটা সবারই মানসিকভাবে কঠিন হবে। সবাইকে বলাও যাবে না। এই হতাশা কাটানোটাও আসলে মুশকিল। কিন্তু আপনি যদি এটা নিয়ে পড়ে থাকেন, আপনি আসলে আপনার ক্ষতি ছাড়া আসলে অন্য কিছু করছেন না। সামনে যে প্রতিযোগিতা আছে সেটায় ক্রিকেটাররা কিভাবে ভালো করবে তারা ওইভাবেই বিষয়টি দেখছে। তবে আবেগ তো নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। এটা মানুষের পক্ষে সম্ভব না। আপনি মানুষ, আমরাও। আমাদের ভিতরে দুঃখ কষ্ট থাকবেই। সুখ থাকবে, সবকিছুই থাকবে।’ সিঙ্গেল লিগ পদ্ধতিতে তিন দল নিয়ে পাঁচদিনের অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ নিয়ে সালাহউদ্দিনের মন্তব্য, ‘বাংলাদেশের সেরা খেলোয়াড়রা এখানে খেলছে। এটার গুরুত্বও অনেক আছে। আমরা ঐভাবেই দেখছি এটা। আমি এখানে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি। আমার খেলাটার উন্নতি করতে পারি। গত বছর টি-টোয়েন্টি দল ভালো করেছে। তার থেকে যেন আমরা আরো ভালো করতে পারি সামনে সেই দিকে আমাদের লক্ষ্য আছে।’

সালাহউদ্দিন ও আশরাফুল দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় দল নিয়ে গড়া ধূমকেতু স্কোয়াডে। নেতৃত্বে আছেন লিটন দাস। টুর্নামেন্টের শক্তিশালী দলটাই ধূমকেতু। যেখানে, তানজিদ, সাইফ, মোস্তাফিজ, পারভেজ, রিশাদ, শরিফুলরা রয়েছেন। স্কোয়াডের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সালাহউদ্দিন বলেছেন, ‘যেহেতু আমরা ওয়ার্ল্ড কাপের একটা প্রস্তুতিতে অনেকদিন একসাথেই ছিলাম। ঐভাবে দলটাকে রাখা হয়েছে। তারা আসলে কিরকম করে দেখার জন্য। এখানে আসলে সেকেন্ড অপশন চিন্তা করার কিছু নেই।’ বিশ্বকাপ না খেলতে পারার হতাশা থাকলেও সেটিকে পেছনে ফেলে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উন্নতির দিকেই মনোযোগ দিতে চান বাংলাদেশ দলের সিনিয়র সহকারী কোচ সালাহউদ্দিন। তিনি বলেছেন, ‘যেটা বদলানো সম্ভব নয়, সেটি নিয়ে পড়ে না থেকে যেটা হাতে আছে সেটাকে সর্বোচ্চ কাজে লাগানোই একজন পেশাদার ক্রিকেটারের দায়িত্ব।’