শীর্ষ ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর মূল্যায়নে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আবারও হতাশাজনক অবস্থানে পড়েছে। সামগ্রিক র‌্যাংকিংয়েও বিপিএলকে রাখা হয়েছে দশম বা সর্বশেষ স্থানে। ইংল্যান্ডভিত্তিক প্রভাবশালী ক্রিকেট সাময়িকী দ্য ক্রিকেটার্স এর প্রকাশিত সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চারটি গুরুত্বপূর্ণ মানদ-ে করা মূল্যায়নের তিনটিতেই দশটি লিগের মধ্যে একেবারে শেষ অবস্থানে রয়েছে বিপিএল। দ্য ক্রিকেটার্স তাদের প্রতিবেদনে বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ও বাণিজ্যিকভাবে সফল ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগকে বিশ্লেষণ করেছে চারটি ক্যাটাগরিতে। সেগুলো হলো- এন্টারটেইনমেন্ট ভ্যালু, কোয়ালিটি অব ক্রিকেট, ভায়াবিলিটি বা দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা এবং সবকিছু মিলিয়ে সামগ্রিক মূল্যায়ন। দর্শক আকর্ষণ, উত্তেজনা, সম্প্রচারমান ও বিনোদনমূল্যের বিচারে করা এন্টারটেইনমেন্ট ভ্যালু বিভাগে সবার ওপরে জায়গা করে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ-২০। এই ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আইপিএল। এরপর পর্যায়ক্রমে অবস্থান করেছে অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ, ইংল্যান্ডের দ্য হান্ড্রেড, ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (সিপিএল), যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেট (এমএলসি), পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল), সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএলটি-২০ এবং শ্রীলংকা প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল)। এই দীর্ঘ তালিকার একেবারে নিচে, অর্থাৎ দশম স্থানে রয়েছে বিপিএল। খেলার মান, প্রতিযোগিতার গভীরতা, আন্তর্জাতিক তারকা খেলোয়াড়ের উপস্থিতি ও পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে করা কোয়ালিটি অব ক্রিকেট বিভাগেও বিপিএলের অবস্থান একই রকম হতাশাজনক। এখানে শীর্ষে রয়েছে আইপিএল, দ্বিতীয় স্থানে এসএ-২০। এরপর দ্য হান্ড্রেড, বিগ ব্যাশ, পিএসএল, সিপিএল, আইএলটি-২০, এমএলসি ও এলপিএল। এই বিভাগেও দশ দলের মধ্যে দশম অবস্থানে রাখা হয়েছে বিপিএলকে। তবে ভায়াবিলিটি বা দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব এবং আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে বিপিএল সামান্য এগিয়ে নবম স্থানে উঠেছে। যদিও এই উন্নতি খুব বেশি ইতিবাচক কিছু বোঝাচ্ছে না। এই ক্যাটাগরিতে সবার নিচে রাখা হয়েছে আইএলটি-২০কে। স্থায়িত্ব ও গ্রহণযোগ্যতার সূচকে শীর্ষে রয়েছে আইপিএল। এরপর রয়েছে দ্য হান্ড্রেড, এসএ-২০, বিগ ব্যাশ, পিএসএল ও এমএলসি (যৌথভাবে), সিপিএল এবং এলপিএল। সব দিক বিবেচনায় নেয়া সামগ্রিক র‌্যাঙ্কিংয়েও বিপিএলকে রাখা হয়েছে তালিকার একেবারে শেষে। এক থেকে দশ পর্যন্ত ক্রমানুসারে অবস্থান করছে আইপিএল, এসএ-২০, বিগ ব্যাশ, দ্য হান্ড্রেড, সিপিএল, পিএসএল, এমএলসি, আইএলটি-২০, এলপিএল এবং বিপিএল। এই র‌্যাংকিংয়ের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, অন্তত একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকে আইপিএলকে পেছনে ফেলেছে এসএ-২০। এন্টারটেইনমেন্ট ভ্যালু বিভাগে দক্ষিণ আফ্রিকার এই লিগকে এক নম্বরে রাখা হয়েছে, যেখানে আইপিএল অবস্থান করছে দ্বিতীয় স্থানে। এটি বিশ্ব ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে এসএ-২০ এর দ্রুত উত্থান ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিরই প্রতিফলন। অন্যদিকে বিপিএল নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আয়োজনের মান, বিদেশি খেলোয়াড় সংকট, হঠাৎ দল পরিবর্তন, পারিশ্রমিক জটিলতা ও আর্থিক অনিশ্চয়তা নিয়ে প্রশ্ন ছিলই। বিশেষ করে গত কয়েকটি মৌসুমে মাঠের বাইরের নানা বিতর্ক বিপিএলের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

আন্তর্জাতিক তারকাদের অনুপস্থিতি ও দুর্বল ফ্র্যাঞ্চাইজি কাঠামোও লিগটির মানোন্নয়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক একটি স্বীকৃত ক্রিকেট সাময়িকীর এই মূল্যায়ন বিপিএলকে ঘিরে চলমান সমালোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করল। এখন দেখার বিষয়, ভবিষ্যৎ আসরগুলোতে কাঠামোগত সংস্কার, পেশাদার ব্যবস্থাপনা এবং মানোন্নয়নের উদ্যোগ নিয়ে বিপিএল আদৌ নিজেদের অবস্থান বদলাতে পারে কি না, নাকি বৈশ্বিক ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে আরও পিছিয়ে পড়বে বাংলাদেশের এই লিগ। বিশ্বের শীর্ষ ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগগুলোর তুলনামূলক মূল্যায়নে বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আবারও হতাশাজনক অবস্থানে পড়েছে। ইংল্যান্ডভিত্তিক প্রভাবশালী ক্রিকেট সাময়িকী দ্য ক্রিকেটার্স এর প্রকাশিত সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চারটি গুরুত্বপূর্ণ মানদ-ে করা মূল্যায়নের তিনটিতেই দশটি লিগের মধ্যে একেবারে শেষ অবস্থানে রয়েছে বিপিএল। সামগ্রিক র‌্যাঙ্কিংয়েও বিপিএলকে রাখা হয়েছে দশম বা সর্বশেষ স্থানে।