নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। আগামী জুন-জুলাইয়ে ইংল্যান্ডে হবে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপোর দশম আসর। গতকাল নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে সুপার সিক্সে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ৩৯ রানে হারায় থাইল্যান্ডকে। এই জয়ে বিশ্বকাপের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সুপার সিক্সের আরেক ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে বৃষ্টি আইনে নেদারল্যান্ডসের ২১ রানের জয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ নিশ্চিত হয়। ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপের টিকিট পায় বাংলাদেশ। নিয়ম অনুযায়ী গ্রুপ পর্বে আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে পাওয়া জয়ের ৪ পয়েন্ট এবং সুপার সিক্সের প্রথম ম্যাচে পাওয়া জয়ের ২ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে টাইগ্রেসরা। একই সাথে বিশ্বকাপ নিশ্চিত হয়েছে নেদারল্যান্ডসেরও। ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে রান রেটে পিছিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে আছে ডাচরা। মুলপানি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলেই উইকেট হারায় বাংলাদেশ। গোল্ডেন ডাক মারেন ওপেনার দিলারা আক্তার। তিন নম্বরে নেমে ১১ রানের বেশি করতে পারেননি শারমিন আক্তার। ১২ রানে ২ উইকেট পতনের পর তৃতীয় উইকেটে শতরানের জুটি গড়েন জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ও সোবহানা মোস্তারি। ৮২ বলে ১১০ রানের জুটিতে বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ার পথে ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান দু’জনে। ৩টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৪৫ বলে ৫৬ রানে আউট হন জুয়াইরিয়া। বাংলাদেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ডে স্বর্ণা আক্তারকে স্পর্শ করলেন তিনি। চলতি আসরেই পাপুয়া নিউ গিনির বিপক্ষে ১৩ বলে ৪টি ছক্কায় ৩৭ রান করেছিলেন স্বর্ণা। সোবহানার ব্যাট থেকে আসে ৪২ বলে ৫৯ রান। ৯টি চার ও ১টি ছক্কায় নিজের ইনিংসটি সাজান সোবহানা। ইনিংসের শেষ দিকে রিতু মনির ৬ বলে ৩টি চারে ১৫ রানে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৬৫ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। জবাবে প্রথম বলে থাইল্যান্ডের ওপেনার সুয়ানান খাইওতোকে শিকার করেন বাংলাদেশ পেসার মারুফা আক্তার। এরপর ৬৭ রানের জুটিতে লড়াইয়ে ফিরে থাইল্যান্ড। তবে পরের দিকে বাংলাদেশ বোলারদের দারুণ নৈপুন্যে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে থাইল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১২৬ রান করে থাইল্যান্ড। নাত্থাকান চান্থাম সর্বোচ্চ ৪৬, নানাপাত কোনচারোইকাই ২৯ এবং অধিনায়ক নারুইমল চাইওয়াই ৩০ রান করেন। বাংলাদেশের হয়ে মারুফা ২৫ রানে ৩টি, স্বর্ণা ও রিতু মনি ২টি করে উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হন সোবাহানা। বাছাই পর্ব ছাড়া ৮টি দল দশম নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত করেছে। স্বাগতিক হিসেবে ইংল্যান্ড, ২০২৪ সালের পারফরমেন্সের সুবাদে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং র্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে পাকিস্তান ও শ্রীলংকা মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। আগামী ৩০ জানুয়ারি সুপার সিক্সে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এই নিয়ে টানা সপ্তমবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে বাংলাদেশ। ২০১৪ সালে অভিষেক আসরে তারা খেলেছিল দেশের মাঠে স্বাগতিক হিসেবে। পরের প্রতিবারই বিশ্ব আসরে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে তারা বাছাই পেরিয়ে। সুপার সিক্সের পয়েন্ট তালিকায় বাংলাদেশ এখন সবার ওপরে। ৩ ম্যাচে ৩ জয়ে ৬ পয়েন্ট তাদের। নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে পাওয়া জয়ের পয়েন্ট এখানে যোগ হয়েছে। সুপার সিক্সে ওঠা যে দলগুলো গ্রুপেও প্রতিপক্ষ ছিল, তারা এই পরস্পরের মুখোমুখি হবে না। সুপার সিক্সে তাই প্রতি দল ম্যাচ খেলবে ৩টি, যদিও হিসাব হবে মোট ৫ ম্যাচের পয়েন্ট। বাংলাদেশের সমান ৬ পয়েন্ট নেদারল্যান্ডসেরও। তবে রান রেটে ডাচ মেয়েরা আছে দুই নম্বরে।
ক্রিকেট
নারী বিশ্বকাপের টিকিট পেল বাংলাদেশ দল
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। আগামী জুন-জুলাইয়ে ইংল্যান্ডে হবে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপোর দশম আসর।
Printed Edition