লাহোরে অনুষ্ঠিত আইসিসি, পিসিবি এবং বিসিবির মধ্যকার ম্যারাথন বৈঠকে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কট সংকটের একটি সম্ভাব্য সমাধানের পথ হিসেবে ত্রিদেশীয় সিরিজের বিষয়টি জোরালোভাবে উঠে এসেছে। বৈঠকে পিসিবি এবং বিসিবি যৌথভাবে প্রস্তাব করেছে যে, তারা ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপে খেলার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে যদি আইসিসি ভবিষ্যতে ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশকে নিয়ে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজের নিশ্চয়তা দেয়। এছাড়া ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ঝুলে থাকা দ্বিপাক্ষিক সিরিজ পুনরায় শুরু করার দাবিও জানানো হয়েছে।
আইসিসি প্রতিনিধি ইমরান খাজা জানিয়েছেন, কোনো দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বা ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলার সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার আইসিসির নেই। এটি পুরোপুরি সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এবং ভারত সরকারের বিষয়। তবে আইসিসি এই প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে এবং পাকিস্তান সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে।
ক্রিকবাজ-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইসিসি তার অবস্থানে অনড় রয়েছে। কাউন্সিলের পক্ষ থেকে পিসিবি-কে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তারা সদস্য দেশ হিসেবে যে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে হাইব্রিড মডেলে খেলার যে সম্মতি দিয়েছিল, সে অনুযায়ী তারা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করতে পারে না।
আইসিসির মতে, এ ক্ষেত্রে পাকিস্তানের কোনো বাড়তি দাবি তোলার আইনগত ভিত্তি নেই।বৈঠকে পিসিবি এবং বিসিবি যৌথভাবে কিছু নতুন দাবি উত্থাপন করেছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ পুনরায় শুরু করা। শুধু পাকিস্তান নয়, বাংলাদেশের সাথেও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নিয়মিত করা এবং ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশকে নিয়ে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজন করা।
জানা গেছে, লাহোরে আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা সশরীরে উপস্থিত ছিলেন এবং দুবাই ও মুম্বাই থেকে আইসিসি কর্মকর্তারা পর্দার আড়ালে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি এখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের অনুমোদনের অপেক্ষায়। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় এই ঐতিহাসিক ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। হাতে এক সপ্তাহেরও কম সময় থাকায় ভক্ত ও স্টেকহোল্ডাররা চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।